লিবিয়াতে সঙ্কট এক সারি আফ্রিকার দেশের জন্যে আরও বেশী বিপজ্জনক হুমকির পূর্বাভাস হয়েছে. তার প্রথম ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নাম লেখা হয়েছে মালি রাষ্ট্রের. এই নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ঘোষণা করেছেন. মস্কো সাবধান করে দিয়েছে যে, আফ্রিকাতে তুয়ারেগ গিঁট টাইট হচ্ছে, এই বিষয় ব্যাখ্যা করে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো মন্তব্য করেছেন.

মালি ও নাইজার সহ একসারি প্রতিবেশী দেশের জন্য তুয়ারেগ সমস্যা আজ বহু বছর ধরেই তীক্ষ্ণ হয়ে রয়েছে. তুয়ারেগ প্রজাতির লোকদের সরকারি সিঁড়িতেও চড়তে দেওয়া হয় নি, তাদের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীতেও কোন উচ্চ পদে বসতে দেওয়া হয় নি. মাঝে মধ্যেই এই কারণে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়েছে. লিবিয়াতে প্রশাসন বদলের পরে এই সমস্যা আবার করে তীক্ষ্ণ হয়েছে. এই বিষয়ে মন্তব্য করে সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“গাদ্দাফি বাস্তবে বহু দিন ধরেই তুয়ারেগদের এক ধরনের সরকারি সাহায্য দিয়ে ধরে রেখেছিলেন. অনেক ক্ষেত্রেই তুয়ারেগদের দিয়ে গাদ্দাফি প্যান আফ্রিকান সৈন্য বাহিনী বানিয়েছিলেন. তিনি তুয়ারেগদের লিবিয়ার এলাকায় এসে বসবাস করার অনুমতি দিয়েছিলেন. তুয়ারেগ লোকরাও তাই লিবিয়ার বিপ্লবের সময়ে গাদ্দাফির প্রশাসনকেই সমর্থন করেছিল. তিনিও তুয়ারেগদের সাহায্যের জন্য খুবই উদার হস্তে অর্থ দিয়েছিলেন. গাদ্দাফি আফ্রিকার উত্তরের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক প্রধান মৌল ছিলেন, যিনি কিভাবে একটা তুয়ারেগদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন. গাদ্দাফি প্রশাসনের পতনের সঙ্গে তুয়ারেগ সমস্যা তীক্ষ্ণই হয়েছে”.

স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরীর জন্য লড়াইতে তুয়ারেগদের মালি রাষ্ট্রের উত্তর এলাকার লড়াইতে প্রায় সমস্ত প্রতিবেশী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিই সাহায্য করে চলেছে. নাইজার ছাড়াও, এটা আলজিরিয়া, মাউরিটানিয়া, বুরকিনা- ফাসো, সেনেগাল গিনি. তার সঙ্গেই যোগ হয়েছে – অশান্ত এলাকা গুলিতে আন্তর্জাতিক চরমপন্থী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ, যেমন হয়েছিল মালিতে. এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে লিবিয়া থেকে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে অস্ত্র বেরিয়ে পড়া. আর এটাই বিস্তীর্ণ সহিল এলাকার স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করেছে.

রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির শুবিন “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া সাক্ষাত্কারে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মস্কো মালির উত্তরে যুদ্ধের আগেই এই ধরনের সম্ভাবনার কথা বলে সাবধান করে দিয়েছিল:

“লিবিয়া থেকে অস্ত্র এসে পড়েছিল মালি ও ইজিপ্টের চরমপন্থীদের হাতে. লিবিয়ার ঘটনার ফলশ্রুতি হিসাবে আর যেটাকে যে নামে বলা উচিত্, সেই ভাবে বললে, অর্থাত্ ন্যাটো জোটের এই দেশে আগ্রাসনের ফল আরও অনেক দিন পর্যন্ত টের পাওয়া যাবে. আলজিরিয়ার জন্যেও বিপদ রয়েছে. সেখানে ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসবাদী কাজ কারবার হয়েছে. এটাও ঠিক যে, প্রতিবেশী দেশ গুলিতে চরমপন্থীদের কাজও সন্দেহ নেই যে, বাড়তেই থাকবে. সহিল এলাকার সমস্ত অঞ্চলই এখন সন্ত্রাসবাদের বীজতলার মতই ভয়ঙ্কর. এখানে যোগ করা যেতে পারে যে, আমেরিকার লোকেরা এর আগে কয়েক বছর ধরে মালির সেনা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তা স্বত্ত্বেও এই সৈন্যদল সম্পূর্ণ ভাবেই ব্যর্থ হয়েছে. তারা যেমন তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদের মোকাবিলা করতে অসমর্থ হয়েছে, তেমনই ঐস্লামিকদের বশ করতেও পারে নি. তার চেয়েও বেশী যে, বলা হয়েছে সরকারি ফৌজের একাংশ নাকি চরমপন্থীদের দলেই গিয়ে যোগ দিয়েছে”.

0উত্তর আফ্রিকাতে বিপজ্জনক প্রবণতা নিকটপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আরও উন্মুক্ত হচ্ছে. এই বিস্তীর্ণ এলাকার পরিস্থিতি ও সমস্যা গুলির কথা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার সভাপতিত্বের সময়েই আলোচনা করা হবে, যে দায়িত্বভার রাশিয়া মার্চ মাসের শুরু থেকে নিয়েছে.