চিনের যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ কর্পোরেশন সিএসআইসি, তাদের সাইটে এই প্রথম চিনে জলের উপরে চলা জাহাজের জন্য পরমাণু শক্তি চালিত রিয়্যাক্টর পরীক্ষামূলক ভাবে নির্মাণ প্রকল্প সম্বন্ধে তথ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে. সবচেয়ে বেশী আগ্রহের বিষয় হল পারমানবিক বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের খবর ও প্রথম যুদ্ধের উপযুক্ত আঘাত হানার গোষ্ঠী, যাতে এই ধরনের জাহাজ থাকবে, তা তৈরী হওয়ার সময় সীমা সম্বন্ধে লক্ষ্য পূরণ নিয়ে খবর. বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের অর্থ হল চিনের সামরিক নৌবহর সংক্রান্ত নীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা, - এই রকম মনে করেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

চিন বহু দশক ধরেই নিজেদের নৌবহর প্রসারিত করছে, ধাপেধাপে তারা সমুদ্র উপকূলের সক্রিয় প্রতিরক্ষার নীতি থেকে সমুদ্রে প্রভূত্ব অর্জনের নীতি নিজেদের নিকটবর্তী প্রথম দ্বীপ সমূহের ভিতরেই পেতে চাইছে, এই গুলি হল জাপানী দ্বীপপূঞ্জ – তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের দ্বীপপূঞ্জ.

এর পরবর্তী সীমানা, যার দিকে নৌবহর অগ্রসর হতে চেয়েছে, তা হয়েছে দ্বিতীয় শৃঙ্খলের মধ্যের দ্বীপ সমূহের সীমানার মধ্যে প্রভূত্ব অর্জনের ইচ্ছা, যা শুরু হয়েছে জাপানের উত্তর– পূর্ব উপকূল থেকে পার হয়ে উত্তরের মারিয়ানা দ্বীপপূঞ্জ হয়ে একেবারে নিউ গিনির উত্তর পশ্চিমের উপকূল পর্যন্ত. এই ধরনের কাজের সমাধানের জন্য বিমানবাহী পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজ খুবই অতিরিক্ত ও অত্যন্ত দামী খরচ সাপেক্ষ বিষয়.

পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজ তৈরীর মানে থাকতে পারে, যদি চিন দূরের সমুদ্রে চিন খুবই শক্তিশালী সামরিক- নৌবহর পাঠাতে সক্ষম হয়, যেগুলি নিজেরাই আক্রমণের কাজ করতে সক্ষম. এই ধরনের জাহাজ দলের সৃষ্টি হওয়াটাই বিশ্বের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে. যেহেতু এই ধরনের সিদ্ধান্ত চিনের নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছে, তাই বাকী রয়েছে শুধু জেনে নেওয়ার যে, এটা কবে হতে চলেছে.

সিএসআইসি সাইটে প্রকাশিত দলিল থেকে বোঝা সম্ভব যে, জলের উপরে ভাসা জাহাজ চালানোর উপযুক্ত পরীক্ষা মূলক রিয়্যাক্টর তৈরীর জন্য অর্থ দেওয়া কিছু আগেই শুরু হয়েছে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে তা হয়েছে শুধু গত বছরেই শুরু. চিন ইতিমধ্যেই পারমানবিক শক্তি চালিত ইঞ্জিন তৈরী করতে শুরু করেছে ডুবোজাহাজের জন্য, কিন্তু পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজের এই ধরনের শক্তি উত্পাদন যন্ত্রের অনেক বিশেষ বিষয়ও রয়েছে. সেই গুলি ওজন, আকার ও শব্দের বিষয়ে ডুবোজাহাজে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টরের মতো এত রকমের বাধা যেমন পায় না, তেমনই সেই গুলির হওয়া দরকার খুবই শক্তিশালী, যাতে এই বিশাল জাহাজের সমস্ত রকমের শক্তির প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়.

সুতরাং, এখানে কথা হচ্ছে প্রযুক্তিগত ভাবে জটিল এক বহু দিন ব্যাপী প্রকল্প সম্বন্ধে, যা খুব সম্ভবতঃ এই দশকের শেষের আগেই তৈরী হয়ে যাবে, - এই রকম মনে করেছেন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নে রুশ বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন. পারমানবিক নিরাপত্তা নিয়ে চিনে বর্তমানে যে ধরনের মনোযোগ বৃদ্ধি শুরু হয়েছে, তার কথা মনে করলে, এই পারমানবিক রিয়্যাক্টর সমেত যুদ্ধ জাহাজ তৈরী হওয়ার পরেও বহু দিন লাগবে, তার পরীক্ষা নিরীক্ষা সমাপ্ত করতে. এই ধারণা থেকেই মনে করা যেতে পারে যে, চিনের পারমানবিক বিমানবাহী জাহাজ দেশের নৌবহরে যুদ্ধপোযোগী ভাবে যুক্ত হতে চলেছে ২০২০ সালের আগে নয়.

এখন অবধি চিন, পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঠিক করেছে অন্তত আরও একটা সাধারন ইঞ্জিন চালিত বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ বানানোর. এই জাহাজ, যদিও কিছু ব্যাপারে সোভিয়েত বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ ভারিয়াগ থেকে কিছু মৌল নকল করে করা হবে, তবুও বলা যেতে পারে যে, এটা চিনের প্রকল্পেই হবে. তার নির্মাণ শুরু হয়েছে বা হতে চলেছে ২০১৩ সালেই. প্রথম দুটি বিমানবাহী জাহাজ চিনকে এই ধরনের জাহাজ ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা দেবে ও নিকটবর্তী সামুদ্রিক এলাকায় চিনের আধিপত্য বিস্তারে সাহায্য করবে. তাদের প্রধান অস্ত্র হবে চিনের যুদ্ধ বিমান জে -১৫, যেগুলির পরীক্ষার কাজ বর্তমানে শেষ হতে চলেছে. মনে করা যেতে পারে যে, সেই গুলি আগামী চিনের বিমানবাহী নৌবহরের প্রথম প্রজন্মের অংশ হবে, আর দ্বিতীয় প্রজন্ম হবে পারমানবিক.

দ্বিতীয় প্রজন্মের বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজে চিনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান জে – ৩১ ব্যবহারের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যেতে পারে না, যেগুলির উড়ান পরীক্ষা গত বছরে শুরু হয়েছে. এই ভাবেই, চিনের লোকদের জন্য আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতিতে চিনের জে – ৩১, যা আমেরিকার সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান এফ – ৩৫, লাইটনিং টু প্রকল্পের প্রভাব অনুযায়ী তৈরী করা হচ্ছে, তা খোলা সমুদ্রে একে অপরের সঙ্গে টক্কর দিতে দশ বছর পরেই উপস্থিত হতে পারে. এই ধরনের সম্ভাবনাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজেদের যুদ্ধ বিমান গুলির আধুনিকীকরণের দাবী করেছে ও বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন তৈরী করেছে, যাতে চিনের উপরে নিজেদের প্রযুক্তিগত প্রভূত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়.