সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার জন্য বারাক ওবামার এক অত্যন্ত কাছের মানুষ ও প্রধান পরামর্শ দাতা জন ব্রেন্নান এবারে সিআইএ সংস্থার প্রধানের পদে বহাল হলেন. তাঁর পদে বহাল হওয়ার প্রক্রিয়া খুবই দীর্ঘ হয়েছে, যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়. ৭ই ফেব্রুয়ারী থেকে মার্কিন কংগ্রেসে ব্রেন্নানকে এই সংস্থার গোপনীয় কাজকর্ম সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে. এমনকি রিপাব্লিকান দলের এত অপ্রিয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেলকেও মার্কিন সেনেট অনেক তাড়াতাড়িই পার পেতে দিয়েছে.

সিআইএ সংস্থার প্রধানের পদে জন ব্রেন্নানকে গত সপ্তাহেই নিয়োগ করা যেতে পারত. কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা দাবী করেছিলেন যে, হোয়াইট হাউস সন্ত্রাসবাদী নিধনের জন্য পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান ব্যবহারের আইন সঙ্গত ভিত্তি প্রমাণের দলিল পেশ করুক. এই প্রকল্প সেই জর্জ বুশ জুনিয়রের সময় থেকেই চলছে, কিন্তু তার বিস্তারিত প্রসার পেয়েছে বারাক ওবামার শাসন কালেই. ব্রেন্নানকে মনে করা হয় “পাইলট বিহীণ বিমান দিয়ে নির্দিষ্ট বিন্দুতে আঘাত হানার” নীতির জনক বলেই.

২০০৪ সাল থেকে পাকিস্তানে, ইয়েমেনে, আফগানিস্তানে, লিবিয়াতে ও সোমালিতে ড্রোন ব্যবহার করে ৪২০টিরও বেশী আকাশ পথে হানা দেওয়া হয়েছে. বিভিন্ন মূল্যায়ণ অনুযায়ী এই কারণে শুধু সন্ত্রাসবাদীরাই নিহত হয় নি, বরং প্রায় ১২০০ শান্তিপ্রিয় মানুষও নিহত হয়েছেন. কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সেনেট কমিটিতে কেউই কোন দলিল চেয়ে পাঠায় নি, যা এই ড্রোন হানার আইন সঙ্গত হওয়া প্রমাণ করতে পারে. এই কথা উল্লেখ করে সামাজিক সংস্থা সংবিধান সঙ্গত অধিকার কেন্দ্রের সভাপতি আমেরিকার আইনজীবি মাইকেল রাটনার বলেছেন:

“গুপ্তচর বৃত্তি সংক্রান্ত বিষয়ের সেনেট কমিটির সমস্ত সদস্যরা ব্রেন্নানের শুনানী শুরু হওয়ার আগে কোথায় সকলে ছিলেন? তাদের উপরে এই সব দলিল হোয়াইট হাউস থেকে ছিটকে পড়েছে এই শুনানী শুরু হওয়ার আক্ষরিক ভাবেই মাত্র দুই ঘন্টা আগে. এই সব দলিল এমনকি সেনেটের কমিটির বিশ্লেষকদেরও আগে দেখতে দেওয়া হয় নি. দলিলের অংশ কালো রঙ দিয়ে ঢেকে দেওয়া ছিল, আর কংগ্রেস সদস্যরা স্বীকার করেছেন যে, সেই সব দলিল বোঝা ও তার ভিতরে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনের যুক্তি খোঁজায় তাঁরা স্রেফ অপারগ”.

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ড্রোন বিমান দিয়ে আরব দেশ থেকে আসা আমেরিকার নাগরিককেও হত্যা করা হয়েছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে শুধু আদালত.

এখন ওবামা প্রায়ই নিজে সেই সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে, কোন ধরনের লক্ষ্য ধ্বংস করা দরকার, এই কথা জোর দিয়ে বলে কংগ্রেস সদস্য টম কোল বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, ওবামা নিজের উপরে খুব বড় ঝুঁকি নিয়েছেন. হতে পারে যে, এটা রাষ্ট্রপতির পক্ষে উপযুক্ত কাজ. কিন্তু আমার মনে হয় যে, আমরা এই ধরনের পথ বেছে নিয়ে অনেক সম্ভাবনা হারাচ্ছি. আমরা লোকজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে গুপ্ত তথ্য যোগাড় করতে পারছি না. বাস্তবিক ভাবেই গুপ্ত তথ্য মানব লক্ষ্য ধ্বংস করার চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ”.

যখন থেকে তিনি নিজে ক্ষমতায় এসেছেন, সেই ২০০৯ সাল থেকে ব্রেন্নান বারাক ওবামার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সংক্রান্ত প্রশ্নে পরামর্শ দাতা. কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, তিনি খুব বেশী প্রভাব রাষ্ট্রপতির উপরে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন ও “সন্ত্রাসের সঙ্গে প্রধান যোদ্ধা” হিসাবে চিহ্নিত হয়ে নিজের প্রভাবের বুট জুতোর তলায় দেশের সমস্ত শক্তি বাহিনীকেই পিষে দিতে পেরেছেন. যারা কটুক্তি করে থাকেন, তারা বলছেন যে, ব্রেন্নান সব সময়েই ওবামার দেওয়া নির্দেশ পালন করে থাকেন, যা ওবামা নিজে দেন সেই ব্রেন্নানের পরামর্শের উপরেই ভিত্তি করে. কিছু বিশ্লেষক এমনকি মনে করেছেন যে, সিআইএ সংস্থা ব্রেন্নানের নেতৃত্বে একটি তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সংগঠন থেকে ড্রোন যুদ্ধের এক গোপন যন্ত্রে পরিণত হবে.