২০১৪ সালে রাশিয়া তৈরী হচ্ছে অলিম্পিকের আয়োজন করার জন্য. ক্রীড়ার প্রস্তুতির সময় দেশের কেন্দ্রস্থল থেকে আয়োজক শহর সোচির সংযোগ রক্ষাকারী রেলপথে যাত্রীদের সংখ্যা অনেক বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে. রাশিয়ার রেলকর্মীরা এই দায়িত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য রীতিমতো প্রস্তুতি নিচ্ছে. তারা সর্বাধুনিক দ্রুত গতিসম্পন্ন পঞ্চম প্রজন্মের ইঞ্জিন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে. নতুন প্রযুক্তির ইঞ্জিনের নাম দেওয়া হয়েছে – অলিম্প.

উত্তর ককেশাস রেলপথ, যা ধরে অলিম্পিকের অতিথিরা যাতায়াত করবে, তা রাশিয়ার অন্যতম জনবহুল অভিমুখ. ঐ রেলপথ দেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মেট্রো নগরীগুলো থেকে লক্ষ লক্ষ রুশবাসীকে পাহাড় ও সমুদ্রপাড়ে স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্রগুলিতে পরিবহন করে. মস্কো-সোচি রেলপথের বিভিন্ন খন্ডে বিভিন্নরকমের বিদ্যুতশক্তি ব্যবহার করা হয়. রেলকর্মীদের ট্রেন থামিয়ে ডিসি ইঞ্জিন বদল করে এসি ইঞ্জিন লাগাতে হয়. এর দরুন সময়ের অপচয় হয়.

আসন্ন অলিম্পিক রেলকর্মীদের ইঞ্জিনের প্রতি বর্ধিত দাবী পেশ করেছে. সোচির সাথে সংযোগ রাখবে এমন ইঞ্জিন, যেগুলো এসি, ডিসি উভয় কারেন্টেই চলতে সক্ষম হবে. নতুন ইঞ্জিন বানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নোভোচেরকাস্ক লোকোমোটিভ কারখানাকে. ১৯৪৭ সাল থেকে এই কারখানা ১৫ হাজারেরও বেশি রেলইঞ্জিন তৈরী করেছে. উত্তর ককেশাস রেলপথ বহুদিন ধরেই নোভোচেরকাস্ক কারখানার সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছে. গত চার বছরে ঐ রেলপথ এই কারখানা থেকে ২৪১টি দূরপাল্লার লোকোমোটিভ পেয়েছে.

২০১৩ সালে ঐ কারখানা থেকে বেরিয়েছে নতুন প্রজন্মের লোকোমোটিভ – অলিম্প. অলিম্পের স্বকীয়তা হল এই, যে তা এসি, ডিসি দুধরনের কারেন্টেই চলতে পারে. অতঃপর মস্কো থেকে সোচি যাওয়ার পথে আর ইঞ্জিন বদল করার জন্য সময় নষ্ট হবে না. নতুন ইঞ্জিনটির গতির বিশিষ্ট গুনাগুন. তার বেগ ঘন্টাপ্রতি ২০০ কি.মি. পর্যন্ত উঠতে পারে. দুটি মেরামত কাজের মধ্যেকার মেয়াদও বাড়বে, আর্থিক সাশ্রয় হবে, ট্রেনচালকদের আরামের মানোন্নয়ন হবে.

অলিম্পের নির্মাতারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ মনযোগ দিয়েছেন. লোকোমোটিভে এমন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা আছে, যার সুবাদে ট্রেন চালানো বেশি নিরাপদ হবে. জটিল মুহুর্তে অলিম্প নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্তব্য পালন করতে সক্ষম. ইঞ্জিনের চাকা নতুন পঞ্চম প্রজন্মের বিশেষ ডিস্ক দিয়ে নির্মিত, যার সুবাদে ব্রেক কষার দূরত্বও কমে যাবে.

অলিম্প কারখানায় শেষের সব ট্রায়েল দিচ্ছে. ট্রেনচালকদের চারটে ব্রিগেড দিবারাত্রি কারখানার রেলপ্রাঙ্গনে লোকোমোটিভগুলো চালিয়ে মহড়া দিচ্ছে. ইতিমধ্যেই প্রথম ১৬ জন ট্রেনচালক নোভোচেরকাস্কে পৌঁছেছে তালিম নিতে. তাদের দায়িত্ব অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়ার রেলপথগুলি দিয়ে ঐ ইঞ্জিনগুলি চালানো. সোচিতে অলিম্পিকের উদ্বোধনীর সময় নাগাদ কয়েক ডজন অলিম্প যাতায়াত শুরু করবে.