অন্যান্য মেট্রো সিটির অধিবাসীদের মতোই মস্কোবাসীরা বড্ড বেশি সময় ব্যয় করে কর্মক্ষেত্রে, পরিবহনে ও দুরদর্শনের সামনে. অধিকাংশ লোকই অবসর সময় বাড়িতে অতিবাহিত করে ও নড়াচড়া কম করে. অধিবাসীরা, বিশেষতঃ যুব সম্প্রদায় মুলতঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই মেলামেশা করে. এরকম সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন সমাজতত্ববিদরা.

প্রতি বছরের সাথে সাথে রাশিয়ায় ইন্টারনেটের সক্রিয় ব্যবহারকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে. আজ এটা অবসর যাপনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম. একদিক থেকে খারাপ নয়, কারণ লোকেদের নতুন তথ্যের উত্স মিলেছে. অন্যদিকে ইন্টারনেট জীবন্ত মেলামেশার পরিবর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রায়ই লোকে মনখারাপের শিকার হয়. তাই মনস্তত্ববিদেরা পরামর্শ দিচ্ছেন ইন্টারনেটে সময় কম খরচ করার জন্য.

টানা পাঁচদিন কর্মক্ষেত্রে লোকেরা অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে. অর্থ রোজগারের লক্ষ্যে মানুষ স্বাস্থ্য জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেকে ক্ষয় করে. বাড়ি থেকে কাজে যাওয়া ও ফেরার পেছনে প্রচুর সময় ব্যয়ও মানসিক চাপের উত্পত্তি ঘটায়. মস্কোর যানজট লোকগাথা হয়ে গেছে. কখনো কখনো লোকে প্রায় ২ ঘন্টা ব্যয় করে পরিবহনে, যা ক্লান্ত না করে পারে না. সামাজিক পরিবহনও উত্তেজনায় টান টান করে রাখে. মেট্রোর ওয়াগনগুলি ও বাসগুলি পিক আওয়ার্সে থাকে ভীড়ে ঠাসা এবং প্রায় সারা রাস্তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়.

মনস্তত্ববিদেরা বিপদের ঘন্টা বাজাচ্ছেন. এত চাপের জন্য সপ্তাহান্তে ছুটির দুটো দিনে খুব কম মস্কোবাসীই শক্তি পুণরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়. তাদের অধিকাংশই অবসর সময় কাটায় টেলিভিসন অথবা কম্পিউটারের সামনে অধিকরাত পর্যন্ত, ঘুমের ক্ষতি করে. শক্তি পুণরুদ্ধার করা ও সত্যিকারের বিশ্রামের জন্য ঘুমটা অপরিহার্য. খোলা হাওয়ায়ও মস্কোবাসীরা খুব কম সময় কাটায়. বিশেষতঃ ঠান্ডার মাসগুলিতে, যখন খামার বাড়ির মরসুম শুরু হয়নি. রাজধানীর সামান্য কয়েক শতাংশ মানুষ সপ্তাহান্তে ছুটিতে শহরের বাইরে যায় বা শরীর চর্চা করে.

তবে এটা সত্যি কথা, যে ইদানীং সক্রিয় শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে. অতীতের জনপ্রিয়তা আবার ফিরে পাচ্ছে স্কিং ও স্কেটিং. আর মাউন্টেন স্কিং ও স্নো বোর্ডের নেশায় মেতেছে বহু মস্কোবাসী. মস্কোয় ও শহরতলীতে গজিয়ে উঠেছে বহু মাউন্টেন স্কিংয়ের পার্ক ও আচ্ছাদিত ঢালু. গ্রীস্মকালে নগরবাসীরা বেশি নগরের বাইরে বেরোয়. ফুটবল, ভলিবল খেলে, সাইকেল চালায়. রোলারে চড়ে.

মনস্তত্ববিদেরা নগরবাসীদের জন্য আরও এক ধরনের স্বাস্থ্যোদ্ধারের উপায় ভেবে বার করেছেন. যে সব কোম্পানী ও শিল্পকেন্দ্রে সুযোগ আছে, সেখানে কর্মচারীদের তাদের সুবিধা মতো রুটিনে কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত, সেই সময়ে, যখন মানুষ সবচেয়ে বেশি সক্রিয়. বহু ইউরোপীয় কোম্পানী এই পন্থা নিয়েছে. আসল কথা, মানুষ যেন তার জন্য বরাদ্দ সময়ে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করে. আর যে কোনো কর্মদাতার জন্য তার কর্মচারীদের সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের কর্মক্ষমতা লাভজনক.