রাশিয়ার লোকদের ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি আগের মতই আস্থা খুবই বেশী. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এক বছর পরে তাঁকে দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ মানুষ সমর্থন করেন. "লেভাদা সেন্টার" নামের জনমত সংগ্রহ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরা মনে করেন যে, রাষ্ট্রপ্রধানের প্রধান সাফল্য হল যে, পুতিন রাশিয়াকে বৃহত্ রাষ্ট্রের বিশ্ব স্বীকৃতী ফিরিয়ে এনে দিতে পেরেছেন, দেশে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা মজবুত করতে পেরেছেন, জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে পেরেছেন.

 রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০১২ সালের ৪ঠা মার্চ হয়েছিল. ভ্লাদিমির পুতিন দেশের নির্বাচকদের শতকরা ৬৩ ভাগ ভোট পেয়েছিলেন ও তাঁর সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের খুবই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পার হয়ে গিয়েছিলেন. আগামী রাষ্ট্রপতি হিসাবে পরিকল্পনার প্রধান বিষয় গুলিকে পুতিন নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করেছিলেন. এই গুলি ছিল দেশের অর্থনীতিকে বিভিন্ন দিকে প্রসারিত করা, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উন্নতি করা আর ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উত্সাহিত করা, দেশে ২ কোটি ৫০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা. ২০১২ সাল ছিল দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইতে এক অধ্যায় স্বরূপ. নভেম্বর মাসে পুতিন ঘোষণা করেছিলেন যে, সরকারি কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতি পরায়ণতা দেশের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে. শুরু হয়েছে "রসআবারোনসার্ভিস" ও "রসঅ্যাগ্রোলিজিং" হোল্ডিং কোম্পানী দুটিতে বড় মাপের তহবিল তছরুপ নিয়ে তদন্ত. দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই যে, শুধু একটা লোক দেখানো প্রচার নয়, তা রাষ্ট্রপতি নিজেই জোর দিয়ে সমর্থন করে বলেছেন:

 “দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রশ্ন গুলি সরাসরি ভাবে দেশের অর্থনীতি ও বাজারের বিকাশের সঙ্গে জড়িত. বাস্তবে, উন্নতিশীল অর্থনীতি সমেত সমস্ত দেশই এই অসুখে ভুগছে. কিন্তু এটা বলে দেয় না যে, আমরা এটাকে তাচ্ছিল্য করে বলব যে, এটা একটা ঐতিহ্য, সেই রকমই ছিল, আর থাকবেও চিরটা কাল. এর সঙ্গে লড়াই করা দরকার খুবই পরম্পরা মেনে ও জেদ করেই. নিষেধাজ্ঞার মাত্রা বাড়াতে হবে ও পরিনামে এমন পর্যায়ে পৌঁছতে হবে, যাতে এই ক্ষেত্রে যে কোন রকমের শাস্তি হওয়া দরকার অপরিবর্তনীয়”.

 পুতিনের প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল রাশিয়াতে খুবই প্রসারিত ভাবে রাজনৈতিক সংশোধন শুরু করা. তার লক্ষ্য হল – রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে সহযোগিতার নীতি চালু করা, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতি বিশেষজ্ঞ লিওনিদ পলিয়াকভ বলেছেন:

 “এর অর্থ নিহিত রয়েছে সেই ব্যাপারে যে, প্রয়োজন হয়েছে সবচেয়ে প্রসারিত ভাবে দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে অংশ গ্রহণ করানোর. এর জন্য রাজনৈতিক দল সৃষ্টি নিয়ে আইন গ্রহণ করা হচ্ছে, যার জন্য যথেষ্ট হবে পাঁচশো জন নাগরিকের উপস্থিতি ও সরাসরি ভাবে রাজ্যপাল নির্বাচন. রাষ্ট্রপতি দেশের লোকসভায় পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন আইনের খসড়া পাঠিয়েছেন. সেখানে নির্বাচিত হওয়ার জন্য সর্ব নিম্ন ভোটের পরিমান শতকরা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হচ্ছে, মেজরিটি- প্রোপোর্শন্যাল ব্যবস্থা চালুর কথা হচ্ছে. অর্থাত্ লোকসভার অর্ধেক সদস্য আসবেন একক সদস্য নির্বাচন কেন্দ্র থেকে, তার ফলে নিজের থেকে প্রার্থী হতে চাওয়া ও ছোট দলের প্রার্থীরা গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন লোকসভাতে নিজেদের উপস্থিতি রাখার জন্য. এই অর্থে পুতিনের এই বছরকে আমি রাশিয়াতে গণতন্ত্র আরও খুঁত বিহীণ কাঠামো বিকাশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বছর বলবো”.

 বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকরাই একটি ধারণায় উপনীত হয়েছেন: এই বছর প্রমাণ করে দিয়েছে যে, পুতিন – একজন মানুষ ও রাজনীতিবিদ, যিনি প্রজ্ঞার আলোকে পৌঁছনোর পরে দেশের জন্য নিজের দায়িত্ব অনুধাবন করতে পারছেন. তাই সমস্ত রকমেরই ভিত্তি রয়েছে আশা করার যে, সেই সব লক্ষ্য, যা তিনি তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনায় রূপ দিতে চেয়েছিলেন, তা সাধিত হবে.