ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হোশিয়ার জিবারি এক একান্ত সাক্ষাত্কারে “রেডিও রাশিয়াকে” আসন্ন রুশ- ইরাক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিষদের বৈঠক নিয়ে বিশদ করে বলেছেন, তারই সঙ্গে বলেছেন সামরিক অস্ত্র ও খনিজ তেল সংক্রান্ত বড় কারবার গুলি নিয়েও.

- রাশিয়া ও ইরাকের মধ্যে সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হচ্ছে. এর প্রমাণ হিসাবে বলা যেতে পারে আগামী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিষদের বৈঠক সম্বন্ধে, যেখানে ইরাকের তরফ থেকে নেতৃত্ব দেবেন আপনি. খবর রয়েছে যে, এই বৈঠক মার্চ মাসেই হতে পারে, তাই মহামান্য মন্ত্রী, আপনি কি বলতে পারেন, সেটা কোথায় এবং কবে ঠিক হতে চলেছে?

- রুশ ইরাক সহযোগিতা পরিষদের পরবর্তী বৈঠক যে ভাবেই হোক না কেন, হওয়া উচিত্ বাগদাদেই. মনে করা হয়েছে যে, এই বৈঠক এই বছরেরই প্রথম ত্রৈমাসিকে হওয়ার কথা. এমনিতেই তা করার পরিকল্পনা প্রথমে হয়েছিল গত বছরের শেষে, কিন্তু মুলতুবি রাখা হয়েছিল.

আগের বৈঠক গুলি এই পরিষদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে. রাশিয়ার তরফ থেকে মনে করিয়ে দিই যে, এই পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জ্বালানী ও শক্তি মন্ত্রী. এই পরিষদ রাশিয়া ও ইরাকের মধ্যে সহযোগিতার প্রসারে সহায়তা করে থাকে. এটা যেমন খনিজ তেল, তেমনই সমরাস্ত্র, তেমনই অন্যান্য ক্ষেত্রেও. আগামী বৈঠকে আমরা কথা বলব, কি করে রাশিয়ার কোম্পানী গুলির তরফ থেকে আরও সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় ও রাশিয়া থেকে ইরাকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়. এর আগে মস্কো শহরে তিনটি বৈঠক হয়েছে. আমরা ভাল ফলই করতে পেরেছি. কিন্তু এবারে বাগদাদে জড়ো হওয়ার সময় এসেছে.

- ফলাফল নিয়ে বলা যেতে পারে যে, আপনি সম্ভবতঃ, সেই তথ্যের কথাই বলছেন, যা এই কিছুদিন আগেই রাশিয়া ইরাককে বহু শত কোটি ডলার ঋণ মকুব করে দিয়েছে?

- শুধু এটাই নয়. এখন ইরাকের বড় খনিজ তেল উত্পাদন কেন্দ্রে কাজ করছে রাশিয়ার কোম্পানী গুলি, যেমন লুক অয়েল, বাশনেফ্ত ও অন্যান্যরা, তাঁরা কাজ করছেন সোত্সাহে ও পেশাদার ভাবেই.

- কিছু রাশিয়ার কোম্পানী শুধু ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই চুক্তি স্বাক্ষর করছে না, বরং কুর্দিস্তানের স্থানীয় আঞ্চলিক প্রশাসনের সঙ্গেও (দেশের উত্তরের স্বয়ংশাসিত কুর্দিস্তান এলাকা). কিন্তু গাজপ্রম নেফ্ত কোম্পানীর দেশের উত্তরে ও বাকী জায়গাতেও কাজ করতে চাওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাধা পেয়েছে, যাঁরা কুর্দিস্তানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে খুশী হতে পারেন নি. এই সমস্যার মূল বিষয় কি ও তা কি করে সমাধান করা সম্ভব?

- আমরা এই প্রশ্ন নিয়ে কাজ করবে. যে কোন ভাবেই হোক, ইরাকের প্রতিনিধি দল, প্রধানমন্ত্রী নুর আল- মালিকির নেতৃত্বে গত বছরের হেমন্তে মস্কো সফরে সময়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে. তখন রাশিয়ার পক্ষ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল – আর আমি ও অন্যান্য মন্ত্রীরা এই প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণকারী বলে সাক্ষীও দিতে পারি যে, আপনাদের কোম্পানী গুলি ইরাকের সমস্ত এলাকার সঙ্গেই সহযোগিতা করবে, আমাদের দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই.

- সুতরাং গাজপ্রম নেফ্ত কোম্পানীর দেশের উত্তরে করা চুক্তি কি সংবিধান সম্মত হয়েছে, যা এটা নিয়ে ইরাকের কুর্দিস্তানের স্থানীয় প্রশাসন বলছে? অথবা তা হয় নি, যা বলা হয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে?

- ব্যাপার হল যে, দুই পক্ষই সংবিধানের অনুচ্ছেদ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছে, কিন্তু প্রত্যেক পক্ষই এর কিছু অংশকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছে. যাই হোক না কেন, মোদ্দা কথা হল যে, ইরাকে যে কোন রকমের কাজ কর্ম হওয়া দরকার স্বচ্ছ ভাবে, অর্থাত্ যাতে কেন্দ্রীয় সরকার যা হচ্ছে তার খবর পায়. কুর্দিস্তান – এটা ইরাকের একটি এলাকা. এই এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ, ইরাকের অন্যান্য জায়গার মতই দেশের জনগনের স্বার্থই সিদ্ধ করতে বাধ্য. এই কথাই বলা হয়েছে দেশের সংবিধানে ও আমরা এই ধারণা থেকেই অগ্রসর হতে বাধ্য.

- কিন্তু আমাদের মেনে নিতে হবে যে, বিদেশী কোম্পানী গুলির কাজকর্মের পরিবেশ ইরাকের কুর্দিস্তানে দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশী ভাল. দেশের অন্যান্য জায়গাতেও কাজকর্মের পরিবেশ তাহলে কেন আরও বেশী আকর্ষণীয় করা হচ্ছে না?

- এটা সত্যই একটি অন্যতম সমস্যা. আমাদের বিগত সময়ের থেকে কিছু যেন রয়ে গিয়েছে, প্রায়ই খুব বেশী রকমের সরকারি লাল ফিতের গেরো রয়েছে, বিকেন্দ্রীকরণের প্রচেষ্টা, এমনকি সন্দেহ প্রবণতাও রয়েছে. যদি দেশের উত্তরে বিদেশী কোম্পানীদের সঙ্গে উত্পাদিত পণ্যের ভাগ নিয়ে চুক্তি থেকে থাকে, তবে দেশের অন্যান্য জায়গায় শুধুই পরিষেবা মূলক চুক্তি. বহু বিদেশী ব্যবসায়ীই বলেছেন যে, ইরাকের বিনিয়োগের পরিবেশের আরও অনেক ভাল হওয়ার দরকার রয়েছে. আমরা তা ভাল করার জন্যই কাজ করছি, সেখানে সামাজিক কর্মী গোষ্ঠীরাও কাজ করছেন ও ইত্যাদি হচ্ছে. কিন্তু এর আগের প্রশাসনের কাছ থেকে আমাদের খুবই কষ্টকর ঐতিহ্য রয়ে গিয়েছে. তার থেকে বের হয়ে আসা সহজ নয়. যেমন এখনও বিদেশী কোম্পানীকে ইরাকে কাজ করতে হলে ২৮টি স্বাক্ষর যোগাড় করতে হয়. আগে এই স্বাক্ষরের সংখ্যা ছিল অনেক বেশী.

- কয়েকদিন আগে মস্কো শহরে ইরাকের কুর্দিস্তানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ বারজানি গিয়েছিলেন. তিনি রেডিও রাশিয়াকে সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, ইরাকে রাশিয়া থেকে বড় অঙ্কের অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যে চুক্তি লক্ষ্য করা হয়েছিল, তা সম্ভবতঃ বাতিল হয়ে গিয়েছে. কুর্দ লোকদের মনে হয়েছে যে, এই চুক্তি বিশেষ পছন্দ হয় নি. কিন্তু আসলে কি চুক্তি বাতিল হয়েছে? ইরাকে রাশিয়া থেকে কি খুবই আসন্ন সময়ে সমরাস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে না, আপনি এই বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী কি বলেন?

- ইরাকের অবশ্যই সমরাস্ত্র কেনার প্রয়োজন রয়েছে, সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করা দরকার ও সামরিক প্রযুক্তিও কেনা দরকার রয়েছে. দেশের প্রতিরক্ষার জন্য এই ধরনের কাজ সামনে রয়েছে. এটা আইন সঙ্গত অধিকার. আর বোঝাই যাচ্ছে যে, কেন এই লক্ষ্যে ইরাক রাশিয়ার কাছে গিয়েছে. কারণ ইরাকের সামরিক বাহিনীর কাছে বহু রাশিয়াতে নির্মিত অস্ত্র রয়েছে. এই দৃষ্টিকোণ থেকে রাশিয়া আমাদের কাছে সবচেয়ে কাছে. আর আমরা ইতিমধ্যেই অনেক আগে রাশিয়ার পক্ষকে এই ক্ষেত্রে আমাদের চাহিদা সম্বন্ধে জানিয়েছি. কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আগে উল্লিখিত গত হেমন্ত কালে মস্কো সফরের সময়ে (আর আমি সেই প্রতিনিধি দলে ছিলাম) সংবাদ মাধ্যমে এই চুক্তির সম্বন্ধে অর্থ মূল্য নিয়ে কথা হয়েছে, যা বাস্তবের সঙ্গে খুব কমই মেলে. এটা সত্য যে, দুই পক্ষের মধ্যে মত বিনিময় হয়েছিল. আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা বলেছি, রাশিয়ার পক্ষ থেকে – নিজেদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে. আমরা সময় সীমা নিয়ে কথা বলেছি. কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে চুক্তির কথা, যা এখনও স্বাক্ষরিত হয় নি. বহু দিক থেকেই এটা ছিল শুধু ইচ্ছার কথা, যা এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে.

- অর্থাত্ চারশো কোটি ডলার সংখ্যা সহ রাশিয়া ও ইরাকের মধ্যে সমরাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি বাস্তবে হয় নি, যদিও তা রটানো হয়েছে?তাহলে কত মূল্যের হয়েছে?

- এই সংখ্যা আমি বলতে পারবো না. এটা রাষ্ট্রীয় ভাবে গোপন খবর. তবে আমি আপনাকে জোর দিয়ে বলতে পারি যে, রাশিয়া ও ইরাকের মধ্যে সমরাস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তির অর্থমূল্য যা প্রকাশিত হয়েছে, তার থেকে অনেক কম. আগে যা বলা হয়েছিল, তা খুবই বাড়িয়ে বলা হয়েছে. আর আমি আরও বলবো যে, এই ধরনের প্রশ্নের সমাধান সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে করা হয় না. আর ইরাকের সংবাদ মাধ্যমে যে খবর রটেছে, যে, সেই বিষয়ে কোন রকমের দুর্নীতির অংশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বলা যেতে পারে যে, যদি কোন সরকারি কর্মচারীর মনে সন্দেহ হয়ে থাকে, তবে প্রয়োজন ছিল শান্তিপূর্ণ ভাবে তদন্ত করার, যেমন বর্তমানে আমাদের পার্লামেন্ট করছে, তা সংবাদ মাধ্যমে প্রস্তাব হিসাবে ছড়ানোর দরকার নেই. আমার কিছু এই ধরনের খবরে বিস্ময় জেগেছে. কারণ অস্ত্র ক্রয়ের ব্যাপার – এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রশ্ন.

রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে সত্যি যে সব চুক্তি রয়েছে, সেই গুলি বাতিল করা হয় নি. এটা ঠিক যে, সেই গুলি বাস্তবায়নের কাজ আমরা এখনও শুরু করি নি.

- আর এই বছরের শুরুতে কি প্রথম সরবরাহ করার কথা ছিল না?

- এটা ঠিক যে, পরিকল্পনা হয়েছিল বছরের শুরু থেকেই. কিন্তু ইরাকের পক্ষ থেকে কিছু কাজের বিষয়ে জটিলতা হয়েছে. সেই গুলি এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত যে, শুরুতে অগ্রিম ও সম্পূর্ণ মূল্য দেওয়া নিয়ে গ্যারান্টি দেওয়ার কথা. আর ইরাকের পার্লামেন্ট এখনও ২০১৩ সালের বাজেট সমর্থন করে নি. বাজেটে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই সব চুক্তির অর্থও বরাদ্দ রয়েছে.তা অবশ্যই আগে আপনি যা বলেছেন, তার থেকে অনেক কম. কিন্তু প্রধান ব্যাপার হল যে, ইরাক ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি এখনও কার্যকরী রয়েছে.

- কবে থেকে প্রথম দফায় সরবরাহ শুরু হবে?

- যে মুহূর্তে আর্থিক প্রশ্নের সমাধান হবে, তখনই, আমি মনে করি যে, এই বছরে খুব দেরী হলেও আগামী গরমের আগেই তা শুরু হয়ে যাবে.

- আর এই প্রযুক্তি কি ধরনের? আগে বলা হয়েছিল সামরিক বিমান?

- না, এখনই বিমান নিয়ে কোন কথা হয় নি. এই গুলি হবে নির্দিষ্ট ধরনের হেলিকপ্টার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ব্যাটারী.

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ – ১৬ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এখন আপনাদের কোন পরিস্থিতিতে রয়েছে? শোনা গিয়েছিল যে, সেটা নিয়েও সমস্যা রয়েছে?

- না, আমাদের আমেরিকার লোকদের সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে কোন সমস্যা নেই. ২০১৪ সাল থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা. রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে ফিরে এসে বলতে পারি যে, তা উন্নতি করছে. আর আরও একটি এই ক্ষেত্রে প্রমাণ যে, - অন্তত পারস্পরিক যাতায়াত বেড়েছে. আর এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূচক.