বহু বছর আগে থেকে পরিকল্পনা থাকা স্বত্বেও মাত্র কিছুদিন আগে বাস্তবায়িত হওয়া চিনের নিয়ন্ত্রক কোম্পানীর হাতে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের হস্তান্তর ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের থেকে এক সার নেতিবাচক মন্তব্যের উদ্রেক করেছে. ভারত এই গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের সামরিক নৌবহরের ভারত মহাসাগরে ক্রমাগত সক্রিয়তা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর চিনের নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বন্দর চলে যাওয়াকে মনে করে ভারতকে চিনের সামরিক ঘাঁটি দিয়ে ঘিরে ফেলা বলেই. বাস্তবে এখানে স্থায়ী ধরনের সামরিক ঘাঁটি হওয়া খুবই কম সম্ভব বলে মনে করেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে রাখা ঘাঁটি গুলি ভারত চিন বিরোধের সময়ে কোন কাজে লাগবে না. দেশের রাজধানী থেকে দূরে থাকা এই ঘাঁটি গুলি ভারতীয় বিমান বহরের জন্য আক্রমণের এলাকার মধ্যে পড়বে, আর তারই সঙ্গে ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাতের জন্যও, তাই খুবই দ্রুত তা ধ্বংস হয়ে যাবে. অন্য দিক থেকে পাকিস্তানে বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি থাকলে চিনকেই পাকিস্তানের অস্থায়ী আভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার হতে হবে.

একই সময়ে চিনের নৌবহরের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান ভাবে বিশ্বে হাজির হতে চাওয়া কখনও না কখনও সেই ধরনের বিশ্বজোড়া পরিকাঠামো তৈরীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলবেই. এখনই চিনের সামুদ্রিক নৌবহরের জাহাজ গুলি, যে গুলি সোমালির এলাকায় জলদস্যূ মোকাবিলার জন্য প্রহরায় রয়েছে, তারা খুবই সক্রিয়ভাবে ওমান, ইয়েমেন ও জিবুতির বন্দর গুলিকে রসদ যোগানের জন্য ব্যবহার করছে. সোমালির তীরের কাছে পাঠানো চিনের প্রত্যেক বাহিনীর সঙ্গেই রয়েছে রসদ যোগানের জন্য পরিবহন জাহাজ. সাধারণতঃ, এই গুলি স্থানীয় বন্দর গুলিতে জ্বালানী ও অন্যান্য রসদ দিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে, আর তারপরে খোলা সমুদ্রে যুদ্ধ জাহাজ গুলিতে সেই রসদ দেওয়া হচ্ছে. চিনের নৌবহর খুবই বেশী করে মনোযোগ দিয়েছে খোলা সমুদ্রে জাহাজে রসদ, পানীয় জল ও জ্বালানী দিয়ে ভর্তি করার বিষয়ে.

২০১১ সালে সেশেল দ্বীপপূঞ্জের প্রশাসন সরাসরি গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কাছে তাঁদের দেশে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি তৈরীর প্রস্তাব দিয়েছিল. তার উত্তরে চিনের মন্ত্রীসভা থেকে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সেখানে ঘাঁটি তৈরী করা হবে না, যাতে দ্বীপপূঞ্জের বিরল প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না হয়. যদিও চিনের কিছু আলাদা সামরিক বিশেষজ্ঞরা, যেমন কাউন্টার অ্যাডমিরাল উ শেংলি সরাসরি নৌবহরের কাজের জন্য বিদেশে বন্দর তৈরীর কথা বলেছিলেন, চিনের পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে সবসময়েই এই ধরনের পরিকল্পনার উপস্থিতি কিন্তু অস্বীকার করা হয়েছে. একই সময়ে বাদ দেওয়া হচ্ছে না বিদেশে সামরিক বাহিনীর নৌবহরের জন্য রসদ সরবরাহের জন্য ঘাঁটি তৈরীর সম্ভাবনাকেও, যদিও তা করার কথা হয়েছে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়াই.

এই ভাবেই মনে করা যেতে পারে যে, চিন বিশ্ব জোড়া সামরিক উপস্থিতির জন্য ধাপেধাপে পরিকাঠামো তৈরীর বিষয়ে অগ্রসর হতে চলেছে. প্রাথমিক ভাবে সম্ভবতঃ ব্যবহার করা হবে সেই সোভিয়েত দেশের সময়ে ব্যবহার করা পরিকাঠামো তৈরী করার অভিজ্ঞতাকে, যা কাজে লাগানো হয়েছিল বিদেশের নৌবহরের উপস্থিতি স্থায়ী করার জন্য: রসদ ও প্রযুক্তি যোগান দেওয়ার জন্য কেন্দ্র তৈরী করা দিয়ে.

এই ধরনের কেন্দ্রের উদাহরণ হতে পারে রাশিয়ার একই ধরনের কেন্দ্র সিরিয়ার তার্তুস বন্দরে. এই কেন্দ্র হল কয়েকটি ভাণ্ডার ও তীরে থাকা একটি মেরামত করার কারখানা, আর সামুদ্রিক ঘাট, যেখানে কোন ভাসমান কারিগর শালা আনা হতে পারে, আর তীরে থাকা কেন্দ্রের স্থায়ী কর্মী সংখ্যা হতে পারে একেবারেই হাতে গোনা. এই ধরনের কেন্দ্র তৈরী করা হলে অন্য দেশে সামরিক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এই ধরনের অভিযোগ এড়ানো যায় ও বাড়তি মনোযোগও এড়ানো সম্ভব.

0এই ধরনের কাজ তার পরেই শুরু করা যেতে পারে, যখন চিনের নৌবহরের বিকাশের বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হয়ে যাবে, অংশতঃ প্রথম বিমানবাহী আঘাত হানতে সক্ষম এই রকমের নৌবহরের দলকে যুদ্ধপোযোগী করে তোলা হবে. এখানে খুবই কম সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই এলাকায় চিনের মিত্র সুলভ দেশ গুলিতে রসদ যোগান দেওয়ার জন্য স্থানীয় বন্দর গুলিকে ব্যবহার করার, কারণ গোয়াদার বন্দরের মতো বন্দর গুলিতে সামরিক নৌবহরের পক্ষ থেকে ব্যবহারের জন্য এখনই কোন রকমের বাধা নেই, কারণ সেই গুলি তাদেরই নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে. অন্য দিক থেকে চিনের নৌবহরের জন্য বিশেষ ধরনের পরিকাঠামো সম্বলিত কেন্দ্র তৈরী করা বেশী যুক্তিযুক্ত হতে পারে আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের দরিদ্র ও স্বল্প উন্নত দেশ গুলির বন্দর গুলিতেই.