রাশিয়ার সরকার বৈকাল হ্রদের ধারে বৈকাল কাগজ মণ্ড কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. সমস্ত পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের জন্য এই আনন্দের খবর দিয়েছেন রাশিয়ার মন্ত্রীসভার উপ প্রধানমন্ত্রী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ. “আমরা স্থির করেছি যে, কয়েকটি ধাপে বৈকালের এই কাগজের মণ্ড কারখানা বন্ধ করে দেবো ও প্রয়োজনীয় জিনিষ উত্পাদনের ব্যাপার গুলি অন্যান্য কারখানায় সরিয়ে নিয়ে যাবো. এটা জটিল প্রক্রিয়া, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এটা করা সম্ভব”, বলে সরকারি কর্মচারী ঘোষণা করেছেন.

প্রায় অর্ধ শতক ধরে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এই বিরল জলাশয়ের প্রাচীন কাল থেকে উপস্থিত স্বচ্ছতা সংরক্ষণের জন্য লড়াই অবশেষে জয় দিয়ে শেষ হয়েছে. গত শতকের সেই ষাটের দশকেই, অর্থাত্ এই কারখানা তৈরীর জন্য প্রকল্প ও নির্মাণ কাজের সময় থেকেই তর্কের উদ্ভব হয়েছিল যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিস্টি জলের হ্রদের তীরে এই কারখানা রাখার সিদ্ধান্ত কতটা ঠিক হয়েছে. ১৯৯৬ সালে বৈকাল হ্রদকে বিশ্বের সবচেয়ে গভীর ও সমস্ত মিস্টি জলের পঞ্চমাংশ রয়েছে বলে ঐতিহ্য হিসাবে ইউনেস্কো সংস্থার তালিকা ভুক্ত করা হয়েছিল.

তার মধ্যেই খারাপ হয়েছিল যে, এই প্রাকৃতিক সম্পদ, যা বৈকালের স্বচ্ছ জলের জন্যই বিখ্যাত, তা ব্যবহার করা হচ্ছিল কাগজের মণ্ড তৈরীর জন্য. আর আরও বেশী করে খারাপ যে, এই হ্রদে এসে পড়ছিল ময়লা জল.

স্বাধীন পরিবেশ বিশারদরা জলে পাওয়া খারাপ জিনিষের পরিমান নিয়ে সংখ্যাতত্ত্ব দিয়েছিলেন, এই কাগজের মণ্ড কারখানা ও তার চারপাশে হাওয়াতে ও জমিতে তার পরিমান ছিল যা হওয়ার কথা তার থেকে বহু দশক গুণ বেশী. সরকারি ভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হত, তা ছিল অনেক বেশী আশাবাদী. কিন্তু তবুও সেই গুলিও সাক্ষ্য দিয়েছিল যে, এই হ্রদের দক্ষিণের তীরের কারখানা বৈকালের স্বচ্ছতার ক্ষতি করে থাকে. ২০০০ সালের শুরুর দিকে ঠিক করা হয়েছিল যে, এই কারখানাতে জল ব্যবহার করা হবে সীমাবদ্ধ শৃঙ্খল আকারে. এই উত্পাদন ব্যবস্থা আধুনিক করার জন্য বিশাল পরিমানে অর্থ বরাদ্দ করার দরকার পড়েছিল, যা পরে ফেরত অযোগ্য হয়েছে – কারণ এই কারখানাতে উত্পন্ন জিনিষের গুণমান, যা পরিশ্রুত জল দিয়ে করা হয়েছে, তা আগের থেকে খারাপ. ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈকালের কাগজ কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার, এই সিদ্ধান্তে সকলেই খুশী হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞানী ভেরনাদস্কি নামাঙ্কিত পরিবেশ তহবিলের সভাপতি ভ্লাদিমির গ্রাচেভ বলেছেন:

“এটা বহুদিন আগেই শেষ হয়ে যাওয়া ও কোন রকম সন্দেহের অবকাশ না রাখা সঠিক সিদ্ধান্ত. অবশ্যই যখন সোভিয়েত দেশের সময়ে দেশে এই উত্পাদনের দরকার ছিল, যার জন্য দরকার ছিল একেবারে পরিস্কার বৈকাল হ্রদের জল. এটার প্রয়োজন ছিল দেশের সামরিক শিল্পের জন্যও. এখন এটা কম বাস্তব প্রয়োজন হয়েছে, তাই কোন অর্থ হয় না পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে ঝুঁকি নেওয়ার ও সমাজকে উত্তেজিত করার. আসলে, বৈকালের কারখানা কোন বড় ক্ষতি করে নি. এই কারখানার জল পরিশ্রুত করার ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালই ছিল. কিন্তু মিথাইলকাপতানের গন্ধ, যা সমস্ত এলাকায় ছড়িয়ে যেত, তা সকলেরই অবশ্য মেজাজ খারাপ করে দিত. আর বৈকাল হ্রদের মত প্রাকৃতিক জায়গায় কোন রকমের কারখানা তৈরী করাই ঠিক নয়, যা যে কোন ভাবেই হোক না কেন নেতিবাচক ভাবে পরিবেশের উপরে প্রভাব ফেলে থাকে. সুতরাং পরিবেশের জন্যই এই সিদ্ধান্ত সমর্থন যোগ্য ও সঠিক”.

এই কারখানা চট করেই “সুইচ অফ” করা বন্ধ করে দেওয়া হতে যাচ্ছে না, বলে ব্যাখ্যা করেছেন রাশিয়ার প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের উপপ্রধান আমির খান আমিরখানভ. এখানে উত্পাদন ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এই কারখানা ও তার চারপাশে এখনও অনেক গুলি কূপ কাজ করছে, যাতে মাটির নীচের জল পরিস্কার করা হচ্ছে. তৈরী করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য সাধনের পরিকল্পনা, যা এই কারখানার চারপাশে ছড়ানো আবর্জনা থেকে এলাকাকে মুক্ত করবে. ২০১৩ সালে তা করার জন্য বাজেট থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় একশ মিলিয়ন ডলার অর্থ. তাছাড়া, তৈরী করা হচ্ছে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ভাবে গ্রহণ যোগ্য এলাকা পুনর্নবীকরণ ও দূষণ মুক্ত করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি. এই এলাকাকে বিশেষ করে সুবিধা প্রাপ্ত অর্থনৈতিক এলাকা রূপে “বৈকাল হ্রদের সিংহ দুয়ার” নাম দিয়ে পর্যটনের জন্য উপযুক্ত করে ব্যবহার করা হতে পারে. সেখানে তৈরী করা হবে হোটেল ও পর্যটন কেন্দ্র ও পরিবেশের জন্য দূষণ মুক্ত জিনিষ. এটা এই এলাকাকেই আরও বেশী চিত্তাকর্ষক করবে পর্যটকদের জন্য এবং স্থানীয় জনতার কর্ম সংস্থানেরও ব্যবস্থা করবে.