মস্কো, বার্লিন, লন্ডন, প্যারিস, রোম – সিরিয়ার সংকট ইউরোপীয় রাজধানীগুলির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে. যেমন সিরিয়ার অভ্যন্তরে, তেমনই প্রথমসারির আন্তর্জাতিক খেলুড়েদের মধ্যে মতদ্বন্দ বেড়েই চলেছে. সবাই মূল লক্ষ্যগুলির কথাই বলছে, কিন্তু তা সাধনের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ ঘুঁচছে না.

সিরিয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা তর্কাতর্কি ব্যতীত হচ্ছে না. মস্কোয় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসুয়া ওলাঁদের মধ্যে আলোচনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি. ওলাঁদ মালিতে ফরাসী অভিযানে রাশিয়ার সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সিরিয়ার বিষয়ে এখনো মতের মিল হয়নি. ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি মস্কোয় এসেছিলেন একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব নিয়ে. সেগুলো সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সাথে আলোচনা করা দরকার, বলে মনে করেন ভ্লাদিমির পুতিন. –

আমরা বাস্তবিকই আইনানুগ সরকারকে সমর্থন করছি ও উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি. এই ব্যাপারে আমরা ফ্রান্সের সাথে একমত. সেইজন্যই মালিতে আমরা ফ্রান্সের কার্যকলাপকে সমর্থন জানিয়েছি. সিরিয়া সহ অন্যান্য এলাকার প্রসঙ্গে আমাদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে, এমনকি তর্কাতর্কি পর্যন্ত.

ওলাঁদের প্রস্তাবাবলীতে নতুনত্ব কি, তা এখনো খোলসা করে জানানো হয়নি. তবে আসল বিষয়ে কোনো হেরফের হয়নি. রাষ্ট্রপতি আসাদের পদত্যাগ – ফ্রান্সের মূল দাবী.

বার্লিনে তাদের প্রথম সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ও মার্কিনী বিদেশ সচিব জন কেরির মধ্যেও সিরিয়ায় মিটমাট নিয়ে তর্ক হয়েছে. তারা সিরিয়া প্রসঙ্গ নিয়ে প্রায় একঘন্টা কথা বলেছেন. এবং লাভরোভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যে উভয় দেশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য সব কর্তব্য তারা নির্ধারন করেছেন.-

আসল কথা হল এই, যে আমরা এই বিষয়ে একমত, যে হিংসাত্মক কার্যকলাপ চলতে দেওয়া যায় না. আর যদিও আমাদের ওপর সবকিছু নির্ভর করে না, তবুও যত দ্রুত সম্ভব সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপ শুরু করানোর জন্য রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যথাসাধ্য করবে.

তার আন্তর্জাতিক সফরের আওতায় জিম কেরি সিরিয়ার বিষয়টি নিয়ে আরও এগিয়েছেন. লাভরোভের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের পরে তিনি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোরান ফাবিউসের সাথে দেখা করেছেন. প্যারিসে কেরি সংলাপের অপরিহার্যতার কথা স্বীকার করলেও যোগ করেছেন – “রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর জন্য বিরোধীদের সংগ্রামে বড়মাপের সাহায্য যোগানো আবশ্যক”. তারপরে রোমে ‘সিরিয়ার মিত্রদের দলে’র সঙ্গে সাক্ষাত্কারে কেরি এই ধারনার উন্মোচন ঘটিয়েছেনঃ শান্তিস্থাপণের উদ্ধেশ্যে রোজকারের লড়াইয়ে বিদ্রোহীদের ওয়াশিংটন ৬ কোটি ডলার দান করার পরিকল্পনা নিয়েছে. কেরি অবশ্য তারপরে বলেছেন সাহায্য যোগানো হবে অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে নয়, খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধপত্র দিয়ে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারী মুখপাত্র আলেক্সান্দর লুকাশেভিচ বলছেন – সশস্ত্র জঙ্গী দলগুলিকে অসামরিক সাহায্য যোগানোর বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠছে.-

আন্তর্জাতিক জনসমাজে সবাই বুঝতে পারছে, যে সিরিয়ার সংকটের সামরিক মীমাংসা সম্ভব নয়. অন্যদিকে যে সব খবর আসছে, রোমে গৃহীত সিদ্ধান্ত, তার মানসিকতা - সরাসরি জঙ্গীদের বলপ্রয়োগ করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে উস্কে দিচ্ছে, সাধারন নিরীহ সিরিয়াবাসীদের অবশ্যম্ভাবী দুর্ভোগের কথা অগ্রাহ্য করেই.

রাশিয়াকে সিরিয়ার সমস্যাবলী কূটনৈতিক পথে সমাধান করার কথা দিয়ে আমেরিকা বিরোধীদের পরামর্শ দিয়ে নয়, বাস্তবে সাহায্য করলো. এর আগে দামাস্কাস এমনকি সশস্ত্র বিরোধীদের সাথেও আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা ঘোষনা করেছিল. বিরোধীদের তরফ থেকে তার কোনো উত্তর আর পাওয়া যায়নি. আজ বোঝাই যাচ্ছে, যে উত্তরের অপেক্ষা করা বৃথা.