বাংলাদেশের সামরিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিরোধী দল জামাত-ই-ইসলামির এক নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর জন্য রায় দিয়েছে মৃত্যুদণ্ডের. প্রখ্যাত নেতা ও ঐস্লামিক আন্দোলনের এক তাত্ত্বিক অভিযুক্ত হয়েছেন পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার যুদ্ধের সময়ে মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধের জন্য. আদালতের রায়ে দেশে প্রবল গণ বিক্ষোভ দেখতে পাওয়া গিয়েছে. ঐস্লামিক দলের সমর্থকরা নেমেছে রাস্তায়, তারা সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করেছে. এই পরস্পর বিরোধের মূল্য হতে পারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“ঢাকা শহরে ৭৩ বছরের বর্ষীয়ান এই নেতার বিরুদ্ধে রায় প্রকাশ করা হলে, তিনি বাংলাদেশের সামরিক ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় সেইরকমের এক মুখ্য চরিত্র হয়েছেন, যাদের চল্লিশ বছরেরও আগে করা অপরাধের জন্য বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে. ফেব্রুয়ারী মাসের শুরুতে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে জামাত-ই-ইসলামি দলের আরেক নেতা আবদেল কাদের মোল্লাকে, মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে. আর তার আগে এই বছরের জানুয়ারী মাসে আরও একজন ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়ের মুখ্য চরিত্র ধর্মীয় প্রচারক মৌলানা আবদেল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে”.

এই প্রত্যেক রায়ই জামাত-ই-ইসলামি দলের তরফ থেকে বিস্ফোরক রকমের বিক্ষোভ তৈরী করেছে, যারা দেশের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে ও নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে. কিন্তু দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডই সবচেয়ে বেশী প্রতিধ্বনি তুলেছে. সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু লোক আহত বহু শত. এই প্রতিবাদ চলছে পুরনো সময়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা দিয়ে, হিন্দু মন্দির ভেঙে আগুণ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে. ঠিক এই ভাবেই কাজ করেছে মৌলবাদ বিশ্বাসী খ্যাপা লোকেরা, যাদের নেতা এই দেলোয়ার হোসেন সাঈদী.

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বিরোধে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের লড়াইতে নিহত হয়েছিলেন প্রায় তিরিশ লক্ষের বেশী মানুষ. তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“মনে হতে পারে যে, সামরিক ট্রাইব্যুনাল তৈরী করা – দেশের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, আর তার কাজ দেশে সামাজিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রতীক হওয়ার কথা ও তাদের পরিণত গণতন্ত্রে পৌঁছনোর নির্ণায়ক. কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের যথার্থতা নিয়ে অনেক কথা তোলা হয়েছে. তার জন্য প্রশাসনই কারণ জুগিয়েছে”.

সেই সমস্ত লোকদের একই কারণে বিচারে উপস্থিত করতে না পেরে, যারা আজ তাদের সঙ্গে একই গোষ্ঠীতে রয়েছে, সরকার খুবই দ্রুত দেশে সমাজের অধিকাংশের চোখেই নিজেদের তৈরী সামরিক ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা হানী করেছে. ঐস্লামিকেরা আজ বলছে যে, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী স্রেফ “রাজনৈতিক ভাবে শোধ তোলার” জন্য শিকার হয়েছে, যা সরকারই করেছে. তাদের মতে ট্রাইব্যুনাল – এটা স্রেফ সরকারের হাতের যন্ত্র – এক রকমের সাজা দেওয়ার তলোয়ার, যা ব্যবহার করে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে. এমনই হয়েছে যে, সামরিক অপরাধের জন্য অপরাধী হয়েছে শুধু সেই সব লোকরাই, যারা আজ বিরোধী পক্ষে রয়েছে. কিন্তু তা হতে পারে না!

ফলে ট্রাইব্যুনালের ধারণাই খুবই গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. এটাকেই ব্যবহার করে যে, সামরিক ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম সমালোচনার উর্দ্ধে নয়, ঐস্লামিকেরা চেষ্টা করছে সবাইকেই নির্দোষ প্রমাণ করতে, যাদের সত্যই সবচেয়ে কড়া শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন.

বাংলাদেশের পরিস্থিতি আজ “কে কাকে বধিবে” এই নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে. এই ধনের মূল্য দিয়ে যে বিরোধ হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অখণ্ড ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচয়কেই ক্ষুণ্ণ করতে পারে. কারণ আজ দেশের এক ভাগ লোক অন্যদের বিরুদ্ধে যেতেই পারে “এক দেওয়ালের বিরুদ্ধে অপর এক দেওয়াল” হয়ে. আর এই পরস্পর বিরোধে কোন বিজয়ী বা পরাজিত পক্ষ হতে পারে না – সকলেই হারবে.