মহাকাশ থেকে বিপদের হুমকি নিয়ে খবর পাওয়া গিয়েছে – আরও একটি গ্রহাণু অত্যন্ত কাছ দিয়ে যাবে, উল্কা পাতের খবর খুবই ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো নিয়মিত ভাবেই আসতে শুরু করেছে. এই রকমই একটি শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর দেওয়া যাক. আগামী বছরের অক্টোবর মাসে মঙ্গলগ্রহের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে এক বড় ধুমকেতু. এই ধাক্কার ফলে উত্পন্ন অগ্নি ঝলক এমনকি পৃথিবী থেকেও দেখা যেতে পারে, যদি এটা পৃথিবীর দিকে থাকা মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠের উপরে ঘটে. রক্তিম গ্রহে এক ৫০০ কিলোমিটার ব্যাসের গর্ত তৈরী হতে পারে.

ধুমকেতু সি/২০১৩ এ১ এই বছরের ৩রা জানুয়ারী লক্ষ্য করতে পারা গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে. তারপরে আমেরিকার লোকরা এটিকে আরও পুরনো ছবিতে খুঁজে পেয়েছিলেন, যা থেকে এর কক্ষপথ নির্ণয় করতে পারা সম্ভব হয়েছে. দেখা গিয়েছে যে, এটা মঙ্গলগ্রহের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খাবার মতো কক্ষপথে চলেছে. এর ব্যাস অন্যান্য বেশীর ভাগ ধুমকেতুর চেয়ে বেশী- প্রায় ৫০ কিলোমিটার অবধি. এই ধাক্কা যদি বাস্তবে হয়, তবে তা হবে বিশাল আকারের.

মঙ্গলগ্রহের উপরে বড় বস্তু খণ্ডের পতন বিজ্ঞানের জন্য খুবই চিত্তাকর্ষক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের দিমিত্রি ভিবে, তিনি বলেছেন:

“এই ধাক্কা আমাদের মঙ্গলগ্রহের উল্কা সম্বন্ধে যে রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে আলোকপাত করতে পারে, পৃথিবীতে এমন সব উল্কা খণ্ড পাওয়া গিয়েছে, যার গঠন নিজেদের সূচক অনুযায়ী মঙ্গলগ্রহের বস্তুর মতোই. শুধু বোঝা যায় নি, কি করে এই সব বস্তু মঙ্গলগ্রহের উপর থেকে উড়ে এসেছে. যদি এই সংঘর্ষ হয়, আমরা এই প্রক্রিয়াকে বাস্তবে দেখতে পাবো. গ্রহাণু ধুমকেতু থেকে বিপদ সংক্রান্ত প্রশ্নাবলীর দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই চিত্তাকর্ষক হবে দেখতে পাওয়া, কিভাবে পৃথিবীর ভরের খুব কাছাকাছি আরও একটি গ্রহে এই ধরনের ঘটনা ঘটে”.

কিন্তু এই ধুমকেতু আবিষ্কারের পর থেকে ৮০ দিন কেটে গিয়েছে. এটা একেবারে সঠিক হিসাব করার জন্য খুবই কম সময়, এই বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী সের্গেই বগাচভ বলেছেন:

“যদি মঙ্গলগ্রহ ও পৃথিবী বড় আকারের বস্তু খণ্ড ও তাদের কক্ষপথ খুব ভাল করেই জানা হয়েছে, তবে গ্রহাণু ও ধুমকেতুর কক্ষপথের সঠিক নির্ণয় করা খুব কঠিন. তাদের সম্বন্ধে কোন খবর দেওয়া সম্ভব কাছাকাছি হওয়ার মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেই. যখন এক বছর আগে থেকে ধাক্কার খবর বলা হয়, তখন তা খুবই অনির্দিষ্ট ভাবে. এই ক্ষেত্রে মঙ্গলগ্রহ নিয়ে পূর্বাভাস খুবই দূরের বিষয়, আর এটা খুবই কম সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরা হতে পারে”.

যারা এই ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ করেছেন, তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধুমকেতু মঙ্গলগ্রহের কেন্দ্র থেকে এক লক্ষ নয় হাজার কিলোমিটার দূর দিয়ে যাবে ও ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে ১০৬০টির মধ্যে মাত্র একটি. কিন্তু পৃথিবীর মানুষরা যে এক বিরল সৌন্দর্য দেখতে পেতে পারেন, সেই সুযোগ রয়েই যাচ্ছে.