রাশিয়ার সমাজবিদেরা বুঝে নিয়েছেন যে, রাশিয়ার লোকরা রাষ্ট্রপতি পুতিনের উপরেই খুব বেশী করে আশা করে যাচ্ছেন, কিন্তু তার প্রতি বর্তমানে বেশী করে সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছেন. রাজনীতিবিদরা বলছেন যে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যে রাষ্ট্রে, সেখানে এমন হওয়াই উচিত্.

রাশিয়ার রাস্তায় নেমে পড়া প্রতিবাদ আন্দোলন, যা তার চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল ২০১১ সালে রাশিয়ার লোকসভা নির্বাচনের পরে, লক্ষ্যণীয় ভাবেই এখন কমে গিয়েছে. স্রেফ কাজকর্মের মঞ্চ ও স্বার্থের বৃত্তেই পরিবর্তন হয়েছে বলে. রাশিয়ার মানুষরা এখন খুবই উত্সাহ নিয়ে ইন্টারনেটে দেশের আগামী আইন ব্যবস্থা নিয়ে অনলাইন আলোচনায় যোগ দিয়েছেন, নিজেদের প্রস্তাব প্রশাসনের উদ্দেশ্যে পাঠাচ্ছেন. কিন্তু বর্তমানে তাঁদের শুধু কথা ও স্লোগান আর পছন্দ নয়. তাঁরা দাবী করেছেন প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট রকমের কাজের, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক কৌশল কেন্দ্রের ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই মাকারকিন বলেছেন:

“অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মত রুশ লোকরাও প্রাথমিক ভাবে নিজেদের বেতন, পেনশন, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ঘর বাড়ীর জন্য সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিয়ে চিন্তিত. রাজনৈতিক সমস্যা বেশীর ভাগ রুশ লোকের জন্যই প্রথম অবস্থানে নেই. গণতন্ত্রের বিকাশের সঙ্গেই যে অন্যান্য প্রশ্নগুলিও জড়িত, তা আজ খুব কম সংখ্যক রুশ লোকই বোঝেন. বাকীরা একটা বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে আছেন যে, সব সমাধান করবেন ভাল রাষ্ট্রপতি. তিনি শৃঙ্খলা তৈরী করে দেবেন, বাজে সরকারি কর্মীদের সঙ্গে বোঝাপড়া করবেন”.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রতি দাবীর চরিত্রও বদলাতে শুরু করেছে. প্রত্যেক বছরের সঙ্গেই সামাজিক মতামত নিয়ে গবেষণা করা “লেভাদা সেন্টার” নামের জনমত গ্রহণ কোম্পানী, রাশিয়ার লোকদের দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে আহ্বান করেছিল: দেশের সাফল্যের জন্য কার প্রধান কৃতিত্ব আর সমস্যার জন্য কে দায়ী. আর বহু দিন ধরেই বেশীর ভাগ রুশ লোক সমস্ত ইতিবাচক ব্যাপার রাষ্ট্রপতির কৃতিত্ব বলে মনে করেছে ও সমস্ত সমস্যা ও অসফল বিষয়ের দায়িত্ব চাপিয়ে এসেছে মন্ত্রী, রাজ্যপাল, বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মীদের উপরেই. কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করে “লেভাদা সেন্টার” সংস্থার সামাজিক- সাংস্কৃতিক গবেষণা বিভাগের প্রধান আলেক্সেই লেভিনসন বলেছেন:

“২০১২ সালের শেষে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে, এখন বেশী করেই লোকে মনে করছেন যে, রাষ্ট্রপতি সমস্ত কিছুর জন্যই উত্তর দিতে বাধ্য – তার উপরে যেমন ভাল পরিবর্তনের জন্য প্রশংসা করা হয়ে থাকে, তেমনই দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে দেশের পরিস্থিতি ও সমস্ত সমস্যার জন্যও. নীতিগত ভাবে এটা সমর্থন করা ও স্বাগত জানানো যেতেই পারত, কারণ এই ভাবেই যে কোন দেশের গণতান্ত্রিক প্রশাসন রয়েছে, কিন্তু রাশিয়াতে একটা বিশেষত্ব রয়েছে, যা বিগত বছর দশেক বা কিছু বেশী সময়ে তৈরী হয়েছে. সরকারি কর্মীরা প্রায়ই নিজেদের দায়িত্বের অনুভূতি হারিয়ে ফেলছে ও নিজেরা যা খুশী তাই করছে, তাই এখন মানুষ তাদের সমস্ত রকমের খারাপ কাজের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির উপরেই চাপাচ্ছে, এমনকি সেই সব কাজও যা তারা দায়িত্বে থাকা স্বত্ত্বেও করছে না. যখন জীবনে পরিবর্তন ইচ্ছার চেয়ে আস্তে হচ্ছে, তখন দেশের নাগরিকরা দেশের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেই বেশী করে নিজেদের অভিযোগ করে যাচ্ছেন”.

যাতে এই পরিস্থিতির একটা সমাধান হয়, তাই প্রয়োজন পড়বে সমস্ত স্তরেই প্রশাসনের ব্যবস্থা পাল্টানোর – সরকারি কর্মচারীদের দায়ভার খুবই বেশী করে বাড়িয়ে দেওয়ার. এই দিকেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে. কিন্তু আপাততঃ, ব্যবস্থা ঠিক করে ঢেলে সাজানো হয় নি, তাই ভ্লাদিমির পুতিনের রেটিংও কমতে শুরু করেছে. গত বছরের শেষে রেটিং ছিল শতকরা ৬৫ ভাগ. ফেব্রুয়ারী মাসে তা কমে হয়েছে ৬২ ভাগ. এটা ঠিক যে, সব রাষ্ট্রপতিই দেশের মানুষের এই ধরনের বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে গর্ব করতে পারেন না, কিন্তু প্রবণতা, যা ভাবতে বাধ্য করছে, তা স্পষ্ট করেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.