ইউনিভার্সিয়াডের আগুন নিয়ে রাশিয়াতে মশাল দৌড়ের শুরু হতে চলেছে ভ্লাদিভস্তক শহর থেকে ২৮শে ফেব্রুয়ারী. বিশ্ব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতীক রাশিয়া জুড়ে সফর শুরু করছে, যাতে জুলাই মাসের শুরুতে কাজান শহরে সাতাশতম গ্রীষ্ম ইউনিভার্সিয়াড শুরু হতে পারে.

বিগত এক মাস ধরে এই আগুন রাখা হয়েছিল সুদূর প্রাচ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তা আনা হয়েছিল প্রায় ছয় মাস ধরে করা এক যাত্রার পরেই. গত বছরের জুলাই মাসে এই আগুন যাত্রা শুরু করেছিল ফ্রান্সের সরবোন থেকে. সেখানেই আজ থেকে ৯০ বছর আগে শুরু হয়েছিল ইতিহাসে প্রথম ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা. ইউনিভার্সিয়াডের এই প্রতীক রাশিয়ার পাল তোলা জাহাজ সেদভ চড়ে ৪৫ হাজার সামুদ্রিক মাইল অতিক্রম করে পাঁচটি মহাদেশে গিয়েছে. রাশিয়ার এই পাল তোলা জাহাজ দুবার খুবই শক্ত ঝঞ্ঝার মধ্যে পড়েছে ও ভীষণ উঁচু ঢেউ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জন্যে গতি হারিয়ে ফেলে সময় সূচীর মধ্যে বন্দরে ফিরে আসতে পারে নি, বাধ্য হয়ে নোঙর করতে হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান বন্দরে আর সেখান থেকেই একমাস আগে বিমানে করে ভ্লাদিভস্তকে এই আগুন পাঠাতে হয়েছিল. ২৬শে জানুয়ারী থেকে এই আগুন সুদূর প্রাচ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে রাখা ছিল.

কি করে ভ্লাদিভস্তক শহর এই আগুনের কাছ থেকে বিদায় নিতে চলেছে, তা নিয়ে আমাদের এই মশাল দৌড়ের এক আয়োজক এমিল গুবাইদুল্লীন বলেছেন. অনুষ্ঠান সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই শুরু হবে. প্রিমোরস্ক এলাকায় যারা এই খেলাধূলার উত্সবে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের পুরস্কার দেওয়া দিয়ে শুরু হবে – এঁরা প্রশাসনের প্রতিনিধি, ছাত্র, স্বেচ্ছাসেবক ও মশাল বাহক লোকরা. তিনি যোগ করেছেন:

“দ্বিতীয় অনুষ্ঠান – এটা আগুন এখান ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে করা হবে. এই অনুষ্ঠানের সময়ে মঞ্চে আগুন সমেত পরিবহন যোগ্য কাঁচের গোলা আনা হবে. আর শেষে চারজন ছাত্র, যারা এই আগুনের সব সময়ে জ্বলে থাকা ও প্রহরার বিষয়ে দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তারা এটা নিয়ে বেরিয়ে যাবে. ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় রাশিয়া নামের রেলগাড়ী চড়ে তারা চলে যাবে খাবারভস্ক শহরে, যেখানে ১লা মার্চ এই আগুন তুলে দেওয়া হবে এই এলাকার ছাত্র সমাজের হাতে”.

খাবারভস্ক থেকে আগুন যাবে ইয়াকুত্সক ও ক্রাসনোইয়ারস্ক এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে. ৬ই মে এই আগুনের পথ চলা শুরু হবে সাইবেরিয়ার বড় শহর গুলি দিয়ে তারপরে ভলগা নদীর তীর ধরে, রাশিয়ার মাঝখান দিয়ে, দেশের দক্ষিণ দিক দিয়ে. তিরিশটি শহরের প্রত্যেকটিতেই মশাল বাহকেরা প্রতি ১০০ – ২০০ মিটার পরে একে অপরের সঙ্গে হাত বদল করে এই আগুন নিয়ে শহরের মাঝখানের জায়গা ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দৌড়বেন. এই মশাল বহনের অধিকার সেই সব ছাত্রদেরই দেওয়া হবে, যারা খেলাধূলায় উল্লেখ যোগ্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে, লেখাপড়াতে যারা ভাল, আর সেরা স্বেচ্ছাসেবক যারা হতে পেরেছে তাদেরই. অনেক দূর পথ অতিক্রম করে ৬ই জুলাই, শুরুর প্রায় এক বছর পরে এই মশাল দৌড়ের রিলে রেস শেষ হবে কাজান শহরের ফুটবল ষ্টেডিয়ামে. সেখানে ২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াড শুরু অনুষ্ঠান হতে চলেছে.

এই মশাল দৌড়ের পথ সম্বন্ধে আরও জানতে পারা যাবে http://kazan2013.ru/ru সাইটে.