ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কে আরও উত্তেজনা ও চিনের এই এলাকা দখলে ভূমিকা বৃদ্ধি হতে পারে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির ইরান সফরের পরে. কারণ – নতুন পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে জ্বালানী সংক্রান্ত প্রকল্প সমাহার. খনিজ তেল ও গ্যাসের বিষয় একটি অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে তেহরানে দুই দিন ব্যাপী এই সফরের সময়ে.

আশা করা হয়েছে যে, পাকিস্তান ও ইরানের রাষ্ট্রপতিরা গোয়াদার বন্দরে খনিজ তেল পরিশোধনের জন্য কারখানা নির্মাণের বিষয়ে এক ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করবেন. এই বিষয়ে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের এক সপ্তাহ আগে ইরানের খনিজ তেল মন্ত্রী রুস্তাম হাজেমী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আফশার পারস্পরিক ক্ষেত্রে সমঝোতায় এসেছেন. তখন এই খবর সময়ের বিষয়ে আরও একটি খবরের সঙ্গে একই ভাবে পাওয়া গিয়েছিল – গোয়াদার বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ভার চিনের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে. এই ঘটনা আগে থেকেই আশা করা গিয়েছিল, যেহেতু চিন ২০০৭ সাল থেকে এই বন্দর নির্মাণের শতকরা ৭৫ ভাগ অর্থের যোগান দিয়েছিল, যা দিয়ে সমুদ্রের তলদেশ গভীর করা হয়েছে ও বন্দরের পরিকাঠামো তৈরীর জন্য যন্ত্রপাতিও দিয়েছিল. আর কয়েকদিন আগে চিন আশ্বাস দিয়েছে এই বন্দরে আরও ২০টি নতুন বার্থ তৈরী করার, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“চিনের জন্য এই বন্দর সংজ্ঞাবহ শুধু লাভ করার জন্যই নয়, আর এমনকি শুধু আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্য থেকে খনিজ তেল, গ্যাস ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানীর জন্যই নয়, বরং গোয়াদার বন্দরের সংজ্ঞা এই কারণেই, যে তাদের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক বছর আগে দ্ব্যর্থহীণ ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এবারে তারা নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক মনোযোগের কেন্দ্র সরিয়ে আনতে চলেছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতেই”.

বিশেষজ্ঞরা কোন রকমের সন্দেহ প্রকাশ করেন নি যে, চিন গোয়াদার বন্দরকে প্রস্তুত করেছে ভারী সামরিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কার প্রবেশের উপযুক্ত করেই. পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির ইরান সফর এই পরিস্থিতিকে আরও বেশী করেই স্পষ্ট করে দিয়েছে – গোয়াদার বন্দরে ইরানের খনিজ তেল নিয়ে ট্যাঙ্কার আসবে এখানের যৌথ খনিজ তেল পরিশোধন কারখানার জন্য. পাকিস্তান একেবারে শুরু থেকেই এই পরিশোধন কারখানাকে ইরানের খনিজ তেলের জন্যই ঠিক করেছিল. এর আগে সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর এক কোম্পানী এই কারখানা তৈরীর জন্য লাইসেন্স পেতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের বারণ করে দেওয়া হয়েছিল.

এই প্রকল্পের মূল্যায়ণ করা হয়েছে চারশো কোটি ডলার. ইরান ও পাকিস্তানের জন্য এই অর্থ প্রথমে মনে হতে পারে সাধ্যের বেশী বলেই. তুলনার জন্য, তাদের কাছে ইরান থেকে পাকিস্তানে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য দুনিয়া নামের প্রকল্প খুবই দামী মনে হয়েছিল, যার জন্য মূল্যায়ণ করা হয়েছিল দেড়শো কোটি ডলার. তাই এবারেও বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, বাইরের বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করার জন্যে এবারেও পাকিস্তান ও ইরান চিনের দিকেই দৃষ্টিপাত করবে. তারাও মনে হয় না যে, গোয়াদার বন্দরে বাইরের কাউকে ঢুকতে দেবে. তার ওপরে আবার স্থানীয় খনিজ তেল ও গ্যাস পরিশোধন কোম্পানীর উত্পাদন ক্ষমতা হওয়া দরকার দিনে চার লক্ষ ব্যারেল. এটা পাকিস্তানের নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশী.

দেখাই যাচ্ছে যে, পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞাই ইরানকে বাধ্য করেছে জ্বালানী সংক্রান্ত কূটনীতির বিষয়ে সক্রিয় হতে. আশা করা হয়েছে যে, আসিফ আলি জারদারির তেহরান সফরের সময়ে ইরান পাকিস্তানকে তাদের এলাকায় দুনিয়া নামের গ্যাস পাইপ লাইন তৈরীর জন্য পঞ্চাশ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করবে. নিজেদের এলাকাতে ইরান ইতিমধ্যেই তদ্বির এনার্জি নামের কোম্পানীর শক্তিতে ৯০০ কিলোমিটার গ্যাসের পাইপ লাইন তৈরী করে ফেলেছে.

পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরক্তির বিষয়ে এই প্রকল্প বহু দিন ধরেই ছিল.ওয়াশিংটন সমস্ত রকমের সম্ভাব্য কাজই করেছে যাতে পাকিস্তানের সহায়তা পেয়ে রান এলাকায় নিজেদের জ্বালানী সংক্রান্ত অবস্থান মজবুত না করতে পারে. আর এখন এই গ্যাস প্রকল্প পশ্চিমের ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞাকেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আহ্বান করেছে.

0আর তেহরান ও ইসলামাবাদ খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আগ্রহী. এই প্রসঙ্গে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, পাকিস্তান এই বিষয়ে আমেরিকার দিকে না তাকিয়েই কাজ করছে. তাই এই সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় না যে, আসিফ আলি জারদারি তেহরান থেকে দেশে ফিরবেন একেবারে স্পষ্ট ধারণা নিয়েই য়ে, কবে ইরান থেকে পাকিস্তানে খনিজ গ্যাস আসতে চলেছে.