পাঁচ বছর আগে শ্পিত্সবের্গেন সুমেরীয় দ্বীপপূঞ্জের একটি দ্বীপে এক দৈত্যাকার দানাশষ্য তহবিল তৈরী করা হয়েছিল. তার সরকারি নাম – স্ভালবার্ড আন্তর্জাতিক বীজ ভাণ্ডার. পাহাড়ের ভিতরে ১২০ মিটার গভীরে এই ভাণ্ডার পারমানবিক আঘাত সহ্য করতে সক্ষম ও বিশ্বের মহাসমুদ্রের জলের স্তর উপরে উঠলেও এর কোন ক্ষতি হবে না. বীজের সঞ্চয়, যা বিশ্বের সমস্ত এলাকা থেকে এখানে আনা হয়েছে, তা যথেষ্ট হতে বাধ্য, যদি কখনও প্রয়োজন পড়ে দানাশষ্যের বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশষ্য পুনরুদ্ধার করার.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী গত শতকে বিভিন্ন কারণে প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ দানাশষ্যের গাছই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে. বিশেষ করে বিজ্ঞানীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে বন্য খাদ্য যোগ্য শষ্যের অবলুপ্তি, যেগুলি ব্যবহার করেই একমাত্র সম্ভব হতে পারে বিভিন্ন রকমের খাদ্য শষ্যের মধ্যে বাছাই করে উপযুক্ত রকমের তৈরী করা. বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক হাজার সাতশো সাতান্নটি খাদ্যশষ্য সংরক্ষিত করার ভাণ্ডার তৈরী হয়েছে, কিন্তু স্ভালবার্ড ভাণ্ডার নিজের সম্ভাবনার জন্যই বিরল রকমের, তা সভ্যতার থেকে অনেক দূরে করা হয়েছে ও তাতে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, এই কথা উল্লেখ করে সারা রাশিয়া উদ্ভিজ ফসল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিকোলাই দ্জ্যুবেঙ্কো বলেছেন:

“নরওয়ে দেশের সরকার এই ভাণ্ডার নিজেদের খরচাতেই তৈরী করেছে, তার পরে তার নিয়ন্ত্রণের ভার তুলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক খাদ্যশষ্য সংস্থার হাতে, আর এই সংস্থার অর্থ ব্যবহার করে সারা দুনিয়া থেকে সেখানে বীজের নমুনা আনা হয়েছে নিরাপদ ভাবে সংরক্ষণের জন্য. যেমন ব্যাঙ্কের ভল্টে লোকে নিজেদের মূল্যবান জিনিষ রাখেন, তেমনই সেখানেও প্রত্যেক সংগ্রহের মালিক নিজেদের বীজ রাখেন আর এই বীজের বেঁচে থাকার সম্বন্ধেও দায়িত্ব পালন করে থাকে যারা স্বত্ত্বাধিকারী তারাই. অর্থাত্, তাদের দায়িত্ব হল যে, নির্দিষ্ট সময়ের পরে এই নমুনা ফেরত নিয়ে নতুন নমুনা এখানে রাখা. প্রত্যেক বছরেই সেখানে রাখা হয়ে থাকে প্রায় এক লক্ষ পঁচিশ হাজার ধরনের নমুনা”.

এখন স্ভালবার্ড ভাণ্ডারে রাখা হয়েছে প্রায় সাত লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ধরনের নমুনা. এটা মোটেও চূড়ান্ত সংগ্রহ নয়, কারণ এই ভাণ্ডার তৈরী করাই হয়েছে প্রায় চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ধরনের বীজের নমুনা রাখার মতো করে. সংবাদ মাধ্যমে এই ভাণ্ডারের চলতি নাম দেওয়া হয়েছে বিচারের দিনের শেষ ভাণ্ডার বলে, কিন্তু এর বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনীয়তাও খর্ব করা উচিত্ হবে না, তাই প্রকৃতি সংরক্ষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার খাবুরগায়েভ বলেছেন:

“এটা যতই বিস্ময়কর মনে হোক না কেন তবুও মানব সমাজ সদ্য শিখতে শুরু করেছে জীন সংক্রান্ত তত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করতে. মনে হতে পারে যে, আমরা আজ সবই জেনে ফেলেছি, কিন্তু আসলে আজ আমরা মাত্র চৌকাঠে উপস্থিত হতে পেরেছি. তাই সবচেয়ে বেশী সব আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার আমাদের এখনও ভবিষ্যতেই দেখতে পাওয়া যাবে, আর তা করবে ভবিষ্যতের প্রজন্মই. আমাদের কাজ হল জীনের ভাণ্ডারকে মজুদ রাখা. এই ধরনের চেষ্টা আগেও করা হয়েছে. এক সময়ে এটা করতে শুরু করেছিলেন নিকোলাই ভাভিলভ. তিনি এক বিরল সংগ্রহ যোগাড় করতে পেরেছিলেন সব আনাজ হতে পারে এমন ধরনের খাদ্যশষ্যের. দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে লেনিনগ্রাদ শহর ফ্যাসিস্ট বাহিনী ঘিরে ফেললে, শহরে শুরু হয়েছিল প্রবল দুর্ভিক্ষ, তবুও বিজ্ঞানীরা এই সংগ্রহ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন. এখানে কথা হচ্ছে প্রত্যেকটির প্রায় হন্দর বা ষাট কিলো মত গম, যব, বার্লি, বাজরা ও জোয়ারের ও তাদের সব বুনো ধরনের শষ্যের, কিন্তু একটি দানাও নষ্ট হয় নি. যদিও বহু মানুষ মারা গিয়েছিলেন দুর্ভিক্ষে, তবুও একটি গমের শীষেও কেউ হাত দেন নি”.

বিজ্ঞানীদের এক অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের ফলে সম্ভব হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুনে জ্বলে যাওয়া বহু খাদ্যশষ্য আবার করে কৃষিকার্যের জন্য পরে ব্যবহার করা. নিকোলাই ভাভিলভের নামে ইনস্টিটিউট, যেখানে বিশ্বের সংগ্রহের এক বৃহত্তম ভাণ্ডার রয়েছে, তা এই স্ভালবার্ড শষ্য ভাণ্ডার প্রকল্পেও অংশ নিয়েছে.