বাংলাদেশের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, বিপদের অশনি সংকেত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে অস্থিতিশীলতা ও তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক সঙ্কট হওয়ার সম্ভাবনার দিকে. সামরিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেশের প্রধান ঐস্লামিক জামাত-ই-ইসলামি দল নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়াতে দেশ দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়েছে. এই ঐস্লামিক নেতার বিরুদ্ধ পক্ষের লোকরা মনে করেন যে আদালতের রায় খুবই নরম হয়েছে ও তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত্. আর তার পক্ষের লোকরা প্রশাসনকে এই আদালত ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষের উপরে রাজনৈতিক কারণে অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে.

বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো বর্তমানে মজবুত হওয়ার পরীক্ষা দিচ্ছে, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এই সঙ্কটের জন্য বিস্ফোরকের কাজ করেছে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের প্রধান ঐস্লামিক জামাত-ই-ইসলামি দলের নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায় বের হওয়া, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া দেশকে দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছে. গত ছুটির দিন গুলিতে বেশ কয়েক হাজার ছাত্র দেশের রাজধানী ঢাকায় এক প্রতিবাদ মিছিল বের করেছিল, তার মূল দাবীই ছিল হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড! কিন্তু তার একদিন আগেই ঐস্লামিক গোষ্ঠীর সমর্থনকারীরা ঢাকা ভরিয়েছিল তাদের পক্ষের লোকদের দিয়ে, তারা দাবী করেছিল নেতার মুক্তি. তাদের তাড়ানোর জন্য পুলিশকে ব্যবহার করতে হয়েছে লাঠি ও রবারের বুলেট”.

এই নৌকা টলিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধান শক্তি এই দিন গুলিতে ছিল এক ডজন বিরোধী দল, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল বাংলাদেশের জামাত দল. গত সপ্তাহে ঐস্লামিক গোষ্ঠীর লোকরা তাদের সমর্থকদের সারা দেশ জোড়া হরতালের ডাক দিয়েছিল, যা বাস্তবে এক শান্তিপূর্ণ ঘটনা থেকে অনেক দূরের গণ আইন অমান্য করায় পরিণত হয়েছিল. ঐস্লামিক গোষ্ঠীর লোকরা নিজেদের শত্রু হিসাবে বাংলাদেশের সরকারকেই চিহ্নিত করেছে ও সমাজের সেই সব লোকদেরই বলেছে, যারা তাদের মতে ইসলামের অবমাননা করেছে. ইঁট পাটকেল শুধু দেশের পুলিশের দিকেই ছোঁড়া হচ্ছে না, নিজেদের ঐস্লামিক মূল্যবোধের রক্ষক বলে ঘোষণা করে তারা গত সপ্তাহে জনপ্রিয় ব্লগ লেখক আহমেদ রাজীব হায়দারকেও কুপিয়ে খুন করেছে, যার ইন্টারনেটের সামাজিক সাইটে লেখাকে তারা মনে করেছে ইসলামের অবমাননা, দেশে এখন সত্যিকারের ডাইনি খোঁজা শুরু হয়েছে. তরোয়াল, লাঠি ও আরও শাবল, বল্লম হাতে নিয়ে ঐস্লামিক জেহাদ পন্থীরা এখন খুঁজছে দেশের জন্য ভরসার অযোগ্য নাগরিকদের, আর দেশের পুলিশের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সন্ত্রাসের তাণ্ডব ও ধ্বংসলীলা থামানো.

আজ সামরিক ট্রাইব্যুনালের যুদ্ধের সময়ে মানবিকতার বিরুদ্ধে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার আসনে বসানো হয়েছে বর্তমানের জামাতের নেতাকে ও তার কিছু কাছের সমর্থককে. তারই সঙ্গে বিএনপি দলের প্রাক্তন মন্ত্রীকেও, যারা বর্তমানে বিরোধী পক্ষে রয়েছে. তাছাড়া জানুয়ারী মাসে এই আদালত মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে জামাত দলের প্রাক্তন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নেতা আবদুল কালাম আজাদের জন্য, তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“সরকার একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, এই সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্দেশ্য পুরনো ক্ষত সারিয়ে তোলার. কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্বে জনপ্রিয় সীমান্ত পেরিয়ে বিচারের ধারণা, যা সামরিক অপরাধ, গণহত্যা ও মানবিকতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য ব্যবহার করার কথা, তা শুধু পুরনো ক্ষতকে আরও নতুন করেই চাগিয়ে দিয়েছে. আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে, বিচারের জন্য শুধু তাদেরকেই হাজির করা হয়েছে, যারা পাকিস্তানের সঙ্গে আলাদা হওয়ার বিপক্ষে ছিল ও পাকিস্তানের সরকারকে সাহায্য করেছিল”.

এদের দলে আজ যারা রয়েছে, তাদের বিচারে সামিল করতে না পেরে, সরকার সামরিক ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা রক্ষায় অসমর্থ হয়েছে. ব্যাপারটা এখন দাঁড়িয়েছে যে সামরিক অপরাধের জন্য এখন দায়ী একমাত্র তারাই, যারা বাংলাদেশে আজ রাজনৈতিক ভাবে সরকারের বিরোধী পক্ষে রয়েছে. কিন্তু তা তো হয় না. তাই ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বিচারের ধারণাই খুব গুরুতর ভাবে নিন্দনীয় হয়েছে.

এর মানে এই নয় যে, দেশে পুরনো বিষয় তুলে আনার দরকার নেই. আর একেবারেই তা নয় যে, বাংলাদেশে সামরিক ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন নেই. কিন্তু তার রায় কোন রকমের সন্দেহের কারণ হওয়া উচিত্ নয় ও একেবারেই ইতিহাসের ন্যায় বিচার হওয়াই উচিত্. যেন রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের প্রহসনে পরিণত না হয়.