আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের এক দীর্ঘ নথি ওয়াশিংটনের নামে রয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতি খুবই অস্বাভাবিক, এই কথাই সোমবারে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. তাঁর কথামতো, এই নিয়ে মঙ্গলবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির সঙ্গে অবশ্যই কথা হবে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের বিনা শর্তে পালন করাই আজ নীতিগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ. শুধু আজ এই ধরনের অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হলে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সঙ্কটের থেকে পরিত্রাণের পথ পাওয়া যেতে পারে: উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যার থেকে, সিরিয়ার বিরোধ থেকে ও এমনকি প্যালেস্টাইনের সমস্যা থেকেও.

সার্বভৌম রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা ও সমানাধিকার – এই নীতি গুলিই সারা বিশ্ব সমাজের জন্য ভিত্তি মূলক হওয়া দরকার. তার মধ্যে রাশিয়ার জন্যেও, কারণ এই গুলিই রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির নবীকরণের পরে নেওয়া ধারণাতে মূল হয়েছে, এই কথা রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, দেশের কূটনৈতিক অ্যাকাডেমীর শিক্ষক ও ছাত্রদের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সোমবারে বলেছেন. তা স্বত্ত্বেও আজ বহু দেশই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ এড়িয়ে কাজ করতে চাইছে, তাদের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই স্পর্শ করে. আজকের দিনের এক প্রধান কাজ – ওয়াশিংটনকে সেই সমস্ত কাঠামোর মধ্যে আটকে রাখা, যা আন্তর্জাতিক আইনের উপরে ভিত্তি করে তৈরী হয়েছে, এই প্রসঙ্গে লাভরভ বলেছেন:

“যথেষ্ট হবে মনে করলেই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের যুগোস্লাভিয়ার উপরে বোমা বর্ষণ – যা ছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহের নিরাপত্তা সভার হেলসিঙ্কি শহরে গৃহীত শেষ নির্দেশের খুবই অন্যায় রকমের লঙ্ঘণ করা. মনে করা যেতে পারে ইরাকের যুদ্ধের কথা, যা শুরু করাই হয়েছিল মিথ্যা কারণ দেখিয়ে ও তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোন ভাবেই সমর্থন করা হয় নি. একেবারে টাটকা পরিস্থিতি – যা হয়েছে লিবিয়াতে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের নথি তৈরী হয়েছে. আমাদের স্বার্থেই উচিত্ হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংগঠিত কাজের মধ্যে আনা. আমার মনে হয় বারাক ওবামার নতুন প্রশাসনে কিছু কম সুস্থ চিন্তা করার মতো লোক নেই, যারা তাও বুঝতে পারেন যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজকর্মের ক্ষেত্রে আইন সঙ্গত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ”.

এই বিষয়ে – আর তারই মধ্যে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গেও – কথা হতে চলেছে মঙ্গলবারে লাভরভ ও তাঁর আমেরিকার সহকর্মীর মধ্যে. অন্যান্য সঙ্কটের পরিস্থিতি আজ একই সঙ্গে দাবী করেছে আন্তর্জাতিক আইনের অলঙ্ঘনীয় ভাবে মেনে চলা. প্রাথমিক পর্যায়ে – কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি, উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার মন্ত্রী. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে. কিন্তু উত্তর কোরিয়ার কাজকর্মের প্রতিক্রিয়া যেন এই বিরোধকে আরও বাড়িয়ে না তোলে, তাই লাভরভ বলেছেন:

“আমরা এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছি, যা হওয়া দরকার খুবই শুদ্ধ ভাবে. এই কাজের শাস্তি না দিয়ে পারা যায় না. প্রাথমিক ভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার একেবারে ঠিকানা স্থির করে, উত্তর কোরিয়ার রকেট ও পারমানবিক পরিকল্পনা লক্ষ্য করে, কারণ এটার বিকাশই আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে. কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সিদ্ধান্ত তৈরী করা দরকার হবে, যাতে তা আলোচনার প্রক্রিয়াকে একমাত্র ও অন্যতম বলে প্রমাণ করতে পারে – নতুন করে শুরু করা ছয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই. আবার অন্য দিক থেকে এই সিদ্ধান্তে কোন রকমের যেন ফাঁক না থাকে, যাতে কেউ এটাকে শক্তি প্রয়োগের উপায় বলে ব্যাখ্যা করতে না পারে. তাহলে এটা হবে বিপর্যয়”.