রাশিয়ার উচ্চস্তরের আমলাদের বিদেশে ব্যাঙ্কে এ্যাকাউন্ট রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে এবং বিদেশে অবস্থিত তাদের সব স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে সরকারীভাবে তাদের জানাতে হবে. আমলারা সেইসঙ্গেই বিদেশী কোম্পানীগুলির শেয়ার ও বন্ড রাখতে পারবে না. তত্সম্পর্কিত রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামার খসড়া রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষে বিনাব্যতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে.

রাষ্ট্রপতি কতৃক উত্থাপিত আইনের খসড়ার তিনটে লক্ষ্য. প্রথমতঃ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থ দেশের অর্থনীতিতে ফেরানো. যারা দেশের প্রশাসন দেখাশোনা করে, তাদের আর বিদেশে ব্যাঙ্কে এ্যাকাউন্ট রাখা যাবে না. তাদের মধ্যে পড়বে সাংসদরা, জেনারেল প্রসিকিউটর দপ্তরের শীর্ষব্যক্তিরা, সেন্ট্র্যাল ব্যাঙ্কের বোর্ড অফ ডিরেকটরসের সদস্যরা, আঞ্চলিক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা, সরকারী শিল্পসংস্থার মুরুব্বিরা ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ.

রাষ্ট্রীয় দ্যুমা বা সংসদের নিম্নকক্ষে দুর্নীতি বিরোধী ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সভাপতি ইরিনা ইয়ারোভা বলছেন – এরকম আইন প্রনয়ণ করার দরকার ছিল বহুদিন আগেই, এবং এর প্রয়োজনীয়তা সবাই বুঝতে পারে.-

বোঝাই যায়, যে যারা সরকারী চাকরি করতে আসে, তাদের স্বচ্ছ হওয়া দরকার. তাদের সব স্বার্থ জড়িত থাকতে হবে রুশ ফেডারেশনের ভূখন্ডের মধ্যে. অন্য কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের স্বার্থ পূরণকারী কোনো ইঙ্গিতও মেনে নেওয়া যায় না. সুতরাং স্বার্থাণ্বেষী লবির প্রতিরোধ অতিক্রম করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এই আইনের খসড়া সংকলন করেছেন. আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যে আজ দেশের শাসক কর্তৃপক্ষ যে কর্মকান্ডে নিয়োজিত, তার উপর দেশবাসী যেন আস্থা রাখে এবং ঐ সব কর্মকান্ড যেন রাশিয়ার নাগরিকদের জন্য উপযুক্ত হয়.

আমলাদের বিদেশে ব্যাঙ্কে এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে সব অর্থ রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলিতে জমা করার জন্য তিনমাস সময় দেওয়া হয়েছে. অন্যথায় হয় তাদের বরখাস্ত করা হবে, নতুবা আস্থা হারানোর কারনে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হবে. রাশিয়ার আমলাদের বিদেশে আর্থিক কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব রাষ্ট্রপতি দিয়েছিলেন ২০১২ সালের শেষে সাংসদদের কাছে পাঠানো বার্তায়.

গত সপ্তাহে প্রকাশিত জনসমীক্ষা অনুযায়ী, ৮৯% রুশবাসী আমলাদের বিদেশে ব্যাঙ্কে এ্যাকাউন্ট রাখার বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করছে. অধিকাংশ রুশবাসী তাদের অর্থ সঞ্চয় করে স্বদেশে, এবং বুঝতে পারে না, যে কেন এরকম এ্যাকাউন্ট আছে সেই সব লোকের, যারা চাকরির কারনে সামাজিক স্বার্থ রক্ষা করার কথা ভাবতে বাধ্য, বিদেশে লুকানো সম্পত্তির দিকে উঁকিঝুকি দিতে নয়.