১৫ই ফেব্রুয়ারী চেলিয়াবিনস্ক এলাকায় যে উল্কা পড়েছিল, তার খণ্ড পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছেন. রাসায়নিক বিশ্লেষণ প্রমাণ করেছে এই পাথর পৃথিবীর থেকে পাওয়া নয়.

চেবারকুল হ্রদের কাছে বিজ্ঞানীদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল প্রায় ৫০টির মতো কয়েক মিলিমিটার আকারের উল্কার টুকরো সংগ্রহ করার. এই মহাজাগতিক বস্তুগুলির প্রকার নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে. কোন সন্দেহই নেই যে, এটা সাধারন পাথুরে উল্কা, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে উরাল রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্কা খোঁজ করতে যাওয়া দলের প্রধান ভিক্টর গ্রোখভস্কি বলেছেন:

“এটা একেবারেই সাধারন পাথরের উল্কা, যাদের নাম দেওয়া হয়ে থাকে সাধারন কনড্রাইট বলেই. সেই সব পাথরের মধ্যে যে সমস্ত খনিজ পদার্থ থাকে – যেমন, পেরিডট, পাইরক্সিন, ট্রইলাইট, কামাসাইট ইত্যাদি এখানেও রয়েছে. অর্থাত্ এই গুলি একেবারেই নির্দিষ্ট করে উল্কার ধরণ বলে দেয়. আমরা একটা উল্কাকে অন্যের থেকে আলাদা এই ভাবেই করে থাকি: খনিজ পদার্থ দিয়ে, যা মহাকাশেই খালি উত্পন্ন হতে পারে. পৃথিবীতে এই ধরনের যৌগ ও গঠনের খনিজ দ্রব্য দেখতে পাওয়া যায় না”.

বিজ্ঞানীরা কিছু অবৈজ্ঞানিক শোনা কথা নাকচ করে দিয়েছেন, যা ইন্টারনেটে উদয় হয়েছিল. অংশতঃ, যে এই উল্কার সঙ্গে পৃথিবীতে নতুন ধরনের জীবনের সন্ধান মিলেছে, যেগুলি ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আকারের. বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এটা অসম্ভব. খুঁজে পাওয়া টুকরো গুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, চেলিয়াবিনস্কের উল্কায় সমস্ত রকমের খনিজের যোগ গুলিই খুব স্থিতিশীল. আর এটাও ঠিক যে, আরও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন পড়বে বড় টুকরোর. তাদের মধ্যে একটি পড়েছে চেবারকুল হ্রদে, যা এখানে বরফের উপরে প্রায় আট মিটার ব্যাসের এক গর্ত তৈরী করেছিল. তবে মহাজাগতিক এই উল্কা খণ্ড খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় নি.

রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর উল্কা সংক্রান্ত কমিটির উপ সভাপতি মিখাইল নাজারভের কথামতো, উল্কা নিয়ে গবেষণা করাটা অনেকটা আন্তর্গ্রহ অভিযানের মতো. চেলিয়াবিনস্কের উল্কা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, বিশ্ব কিভাবে তৈরী হয়েছে, কিভাবে সৌরমণ্ডল সৃষ্টি হয়েছে. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“গ্রহ সৃষ্টির আগেই বিভিন্ন অধ্যায়ে সৌরমণ্ডল সৃষ্টি হওয়ার সময়ে একেবারেই শুরু সময়ে এই উল্কার সৃষ্টি হয়েছিল, তাই সেই গুলি আমাদের সেই সব প্রক্রিয়া সম্বন্ধে তথ্য দেয়, যা সেই সময়ে হয়েছিল”.

আরও একটি প্রশ্ন, যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উত্তর দিতে হবে, তা হল কেন একটিও পৃথিবীতে থাকা মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে এই উল্কাকে লক্ষ্য করা সম্ভব হয় নি. এটাকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, শুধু যখন এটা আমাদের বায়ুমণ্ডলের ঘনতর অংশে প্রবেশ করেছে, প্রায় সেকেন্ডে তিরিশ কিলোমিটার গতিতে ছুটে আসা এক অগ্নি বলয়ের মতো করে, তাই মিখাইল নাজারভ বলেছেন:

“এই উল্কা মহাকাশে লক্ষ্য করে স্থির করা সম্ভব হয় নি, কারণ মহাজাগতিক অনুপাতে তার আয়তন খুবই কম ছিল. তার বায়ুমণ্ডলে পতন, যা প্রায় তিরিশ সেকেন্ড ধরে হয়েছিল, তখনই শুধু ভাল করে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. এই সময়ের মধ্যে সম্ভব শুধু আগে থেকে অনুমান করা যে, কোথায় ওটা পড়তে পারে, আর তার শক্তিই বা কি করম. বাস্তবে প্রায় অসম্ভব হল, কি করে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ও জনগনকে কোথায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে কোন উপায় বের করা”.

চেলিয়াবিনস্ক এলাকায় এই সময়েই উল্কা পাতের সমস্ত পরিণাম দূর করা হচ্ছে. উল্কা পতনের পরে বিস্ফোরণে বহু ঘর বাড়ীর জানলার কাঁচ ভেঙেছে. যদিও এই দুর্ঘটনাতে কেউই নিহত হন নি, তবুও হাজারের বেশী লোক কাঁচের টুকরো থেকে আহত হয়েছেন. প্রায় চল্লিশ জনের মতো মানুষ এখনও হাসপাতালে রয়েছেন.

চেলিয়াবিনস্কের উল্কা পাতের ঘটনা, কোন সন্দেহ নেই যে, বিজ্ঞানীদের ছোট মহাজাগতিক বস্তু লক্ষ্য করার জন্য ব্যবস্থা করতে বাধ্য করবে. আর ভাবাবে, কি করে শহরের উপরে উল্কা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে.