দামাস্কাস শহরে সদ্য ঘটা সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডের পরে, যার জন্য ৫০ জনের বেশী লোক নিহত হয়েছেন, তা আবার করে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব কি না বলে প্রশ্নের উত্থাপন করেছে. এই বিষয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আলোচনার সময়ে কথা হতে চলেছে, যা হওয়া উচিত্ বার্লিনে ২৬শে ফেব্রুয়ারী.

জন কেরি ২৪শে ফেব্রুয়ারী রওয়ানা হচ্ছেন তাঁর প্রথম সচিব হিসাবে বিদেশ সফরের জন্য, যাচ্ছেন ইউরোপ ও নিকটপ্রাচ্য. ওয়াশিংটন চেয়েছে রাশিয়ার মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়ে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকেই মুখ্য বিষয় হিসাবে দেখতে. এই ধরনের ঘোষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে করেছেন প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড, তিনি বলেছেন

আমরা আশা করছি যে, সিরিয়া এই সব আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হবে. রাশিয়ার লোকরা ইতিমধ্যেই আরব দেশ গুলির লীগের সাধারন সম্পাদক নাবিল আল- আরাবির সঙ্গে দেখা করেছেন. খুব শীঘ্রই (আগামী সপ্তাহে) মস্কো আসছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী. আমরা বহু মাস ধরেই বলছি যে, সহযোগিতা করতে চাই, যাতে এই বিরোধের পক্ষদের আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে বোঝানো সম্ভব হয় ও রাজনৈতিক ভাবে অন্তর্বর্তী কালীণ প্রক্রিয়া শুরু হয়.

ন্যুল্যান্ড যোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী পক্ষকে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজী হতে আহ্বান করেছে. তাঁর কথামতো, এই আলোচনা যে কোন জায়গাতেই হতে পারে, তার মধ্যে মস্কোতেও হতে পারে, যা এর মধ্যেই সের্গেই লাভরভ প্রস্তাব করেছেন.

সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সিরিয়ার প্রশ্নে এখন নরম হয়েছে, আর ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব. এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক বরিস দোলগভ বলেছেন:

“মস্কো ও ওয়াশিংটন কি নিয়ে কথা বলতে পারত? প্রাথমিক ভাবে সেই বিষয় নিয়ে যে, যাতে সিরিয়ার বেআইনি সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সমরাস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা হয়. আমি মনে করি যে, আগামী আলোচনার সময়ে এই বিষয়ে বেশী করেই মনোযোগ দেওয়া হবে. তার সঙ্গেই অবশ্য প্রয়োজন পড়বে বিরোধী গোষ্ঠী গুলির উপরে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার, আর সিরিয়ার প্রশাসনের উপরেও চাপ দেওয়ার, যাতে তাঁরাও আলোচনায় যান”.

বিগত সময়ে দোহাতে তৈরী সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জাতীয় জোটের নেতৃত্ব নির্দিষ্ট রকমের নমনীয়তা দেখাতে শুরু করেছে. এই জোটের নেতা মুয়াজ আল- হাতীব কিছুদিন আগে এই প্রথমবার স্বীকার করেছেন যে, দামাস্কাসের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারে.

সমস্যা হল যে, সিরিয়ার বাইরে ঘাঁটি গেড়ে বসা বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকরা – এরা শুধু দামাস্কাসের বিরুদ্ধে যাওয়া শক্তির অংশ মাত্র. দেশের ভিতরে পরিস্থিতি ঠিক করছে সশস্ত্র জঙ্গী গোষ্ঠী, যাদের বেশীর ভাগই আল- কায়দা দলের সঙ্গে ধারণার বিষয়ে কাছাকাছি ও খুবই চরমপন্থী তাদের দৃষ্টিকোণ. তাদের কম্যান্ডারদের, যারা ইতিমধ্যেই যুদ্ধের কারণে বাঁচার পথ খুঁজে নিয়েছে, তাদের জন্য রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোন কাজের কথা নয়. দামাস্কাসের পরপর অন্তর্ঘাতের ঘটনা আরও একবার এটার কথাই মনে পড়িয়ে দিয়েছে.