ডাকশ্যুণ্ড আর ভোঁদড়, ভাল্লুকের বাচ্চা ও রাকুন, ঈগল পাখীর ছানা আর নেকড়ের ছানা, বাঘের ছানা ও মেরু ভল্লুকের বাচ্চা - এই সব গুলি শুধু জন্তুই নয়, এরা বিভিন্ন বছরের অলিম্পিক গেমসের ম্যাসকট বা প্রতীক. এদের উপরেই নির্ভর করে এক বড় জাদুঘরের প্রকল্প তৈরী হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রকল্প “সোচী – ২০১৪”, “সাংস্কৃতিক অলিম্পিক” প্রকল্পের মধ্যেই করা হয়েছে. এর প্রথম প্রদর্শনী মস্কো শহরে খোলা হয়েছে ২০শে ফেব্রুয়ারী.

“সাংস্কৃতিক অলিম্পিক” নামের প্রোগ্রাম, যা ২০১৪ সালে রাশিয়ার সোচী শহরে শুরু হতে যাওয়া শীত অলিম্পিকের আগে করা হয়েছে, সেটা এবারে তার শেষ অধ্যায়ে হাজির হয়েছে. সাংস্কৃতিক অলিম্পিকের শেষ বছরকে নাম দেওয়া হয়েছে জাদুঘরের বছর বলে. একটি প্রথম এই ধরনের প্রদর্শনী খোলা হয়েছে মস্কোর ডারউইন মিউজিয়ামে – ইউরোপের প্রকৃতি বিজ্ঞান সংক্রান্ত জাদুঘরের মধ্যে একটি বৃহত্তম জাদুঘরে. জীব জগতের সমস্ত কিছুকে নিয়ে তৈরী এক জাদুঘরে জন্তু জানোয়ারের বিষয় নিয়ে কাজ করা ও তা দিয়ে অলিম্পিকের ম্যাসকট সম্বন্ধে এক সারি প্রদর্শনী করা - খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার. কিন্তু “অলিম্পিকের ম্যাসকট” প্রকল্প – এটা শুধু সেই সব জীবজন্তুদের নিয়ে গল্প বলাই নয়, এই কথা সমর্থন করে মস্কোর ডারউইন মিউজিয়ামের ডিরেক্টর আন্না ক্ল্যুকিনা বলেছেন:

“আমরা এখানে দেখাতে চেয়েছি কি করে অলিম্পিকের আন্দোলনে লোকে সামিল হয়েছে, কি করে অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকের প্রতিযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের লোকরা কি ধরনের ম্যাসকট বেছে নিয়েছেন. আমরা এর জন্য একটা পুরো প্রোগ্রাম তৈরী করেছি ও এই বছরে ১১টি প্রদর্শনী দেখাবো. প্রথম প্রদর্শনীটি শুরু করা হয়েছে ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক উপলক্ষে: এখানে ম্যাসকট হিসাবে এক ভাল্ডি নামের ডাকশ্যুণ্ড শিকারী কুকুর বেছে নেওয়া হয়েছিল”.

মিউজিয়ামের ভিতরে বিশাল প্রদর্শনীর হলে সত্যই একটা ডাকশ্যুণ্ড কুকুর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তবে সেটা কুকুরের স্টাফড আকৃতি. আর তার কাছেই – নানা রকমের খেলনার মতো মডেল – কোনটা চিনেমাটির, কোনটা কাঠের আবার কোনটা ব্রোঞ্জের. এখানেই মিউনিখ অলিম্পিকের এক জোড়া মেডেল রয়েছে, যা নিয়ে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল. ঠিক একমাস পরেই এই কুকুরের জায়গা নেবে আমিক নামের ভোঁদড়, মন্ট্রিল অলিম্পিকের ম্যাসকট. তার পরেই সময় আসবে ১৯৮০ সালের মস্কো শহরে হওয়া গ্রীষ্ম অলিম্পিকের ম্যাসকট ভাল্লুকের ছানা মিশার সময়. এই প্রদর্শনী প্রতি মাসেই পাল্টে যাবে, আর একেবারে ফাইনালে, অবশ্যই সবাইকে জানিয়ে দেবে ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের ম্যাসকট গুলির সম্বন্ধে: এই গুলি শ্বেত ভল্লুক, চিতাবাঘ ও খরগোশ ছানা. প্রসঙ্গতঃ, ম্যাসকট বাছার বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যা ও স্কেটিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্ভেতলানা ঝুরোভা “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন নিজের প্রিয় ম্যাসকট নিয়ে:

“আমি এখানে একেবারেই আলাদা হতে চাইব না ও শুধু নিজের মত দেবো যে, বোধহয় সমস্ত রুশ ও সোভিয়েত দেশের লোকরা ভালবাসেন সেই আমাদের দেশের জন্য রূপকথার মতো সুন্দর হয়ে থাকা মস্কো অলিম্পিকের ম্যাসকট মিশাকে. সেটা সকলেরই মনপসন্দ হয়েছিল ও একেবারেই ঘরের লোক হয়ে গিয়েছিল. আশা করব যে, এবারের নতুন ম্যাসকট গুলিও মানুষের হৃদয়ে ও আত্মায় জায়গা পাবে, আর ভগবান করুন তাদেরও আশির অলিম্পিকের মিশার মতো গৌরব হোক”.

অলিম্পিক গেমসের ম্যাসকট, এটা প্রায় সব সময়েই সেই সব জন্তু-জানোয়ার, যা সব সময়েই লোকে তাদের দ্রুততা ও গতিবেগের জন্য পছন্দ করে থাকেন. ঐতিহ্য মেনেই সেই গুলি লারা দেশের লোকেরা একসাথে বেছে নিয়ে থাকে. সেই গুলি দেশের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দিক গুলিকে প্রকাশ করে, কোন একটা ভাবে অলিম্পিক যে দেশে হচ্ছে, তাদের জাতিগত চরিত্রের উল্লেখ করে. এই নিয়ে প্রদর্শনী উদ্বোধনের সময়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার জিমন্যাস্ট ও চার বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আলেক্সেই নেমভ, তিনি বলেছেন:

“আমি একজন খেলোয়াড় হিসাবে ছিলাম তিনটি অলিম্পিক গেমসে, আর সব সময়েই সেই সব দেশের ম্যাসকট, যেখানে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, সেই গুলি আমার সম্মানের কারণ হয়েছে. তাই আমরাও চেষ্টা করবো, যাতে আমাদের অলিম্পিক হয় সবচেয়ে ভাল. আমি আশা করি ও বিশ্বাস করি যে, এটাই হবে”.

শেষ “অলিম্পিকের ম্যাসকট” প্রকল্পের প্রদর্শনী হবে ২০১৪ সালের সোচী অলিম্পিকেরই সময়ে.