১৫ই ফেব্রুয়ারী চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে উল্কা পতন সারা বিশ্বের বৈজ্ঞানিক সমাজকে একত্রিত করেছে মহাকাশ থেকে আসা হুমকির প্রত্যুত্তর হিসাবে নতুন ব্যবস্থার সৃষ্টি করার জন্য. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে পৃথিবীতে ও মহাকাশে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কমপ্লেক্স তৈরী করার জন্য. রাশিয়াতে তাতারস্থান রাজ্যের রাজধানী কাজান শহরের অল্প দূরেই মেগাটরতোর নামে এক নতুন বিরল রকমের টেলিস্কোপ চালু করা হতে চলেছে, যা দিয়ে খুব বড় নয় অথচ বিপুল বেগে চলা মহাকাশের বস্তু লক্ষ্য করা যাবে.

রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক শহরের উপরে গ্রহাণু উড়ে যাওয়ার পরে বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে অনেক সমালোচনা মূলক মন্তব্য করা হয়েছে, যাঁরা এটার কাছে এসে পড়া নিয়ে কোন রকমের আগাম খবর দেন নি. মানব সমাজ দেখা গেল যে, আগে থেকে মহাকাশ থেকে আসা হুমকি দেখতে পায় নি. এই বাস্তব বেশ কিছু রাষ্ট্রকে নানা রকমের নজর রাখার ব্যবস্থা তৈরীর কাজ ত্বরাণ্বিত করতে বাধ্য করছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে মহাকাশে নতুন টেলিস্কোপ পাঠাবে, আর কক্ষপথে এক সার পর্যবেক্ষণের কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাবে, যা দিয়ে দেখার ব্যবস্থা তৈরী করবে. এই ব্যবস্থার ঘাঁটি করা হবে হাওয়াই দ্বীপপূঞ্জে.

রাশিয়াতে পরিকল্পনা করা হয়েছে নিজেদের প্রকল্প তৈরীর – টেলিস্কোপ মেগাটরতোর. নতুন যন্ত্র একই সঙ্গে নয়টি বস্তুর দিকে নজর রাখবে আর কোনও রকমের মহাকাশের বস্তুকেই নজরের বাইরে রাখবে না, - এই কথা উল্লেখ করে এঙ্গেলগার্টড মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইউরি নেফেদিয়েভ বলেছেন:

“ব্যাপার হল যে, এক চ্যানেল বিশিষ্ট যন্ত্র মহাকাশের কোন অর্ধ গোলাকৃতি বস্তুর শুধুমাত্র দেখতে পাওয়ার মতো জায়গাই নজর করতে পারে. আর নয়টি চ্যানেল যুক্ত টেলিস্কোপের সাহায্যে আমরা পুরো অর্ধ গোলাকৃতি বস্তুকেই নজর করতে পারবো. এর মানে হল যে, আমরা কোন রকমের দ্রুত ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়াই লক্ষ্য করতে অসমর্থ হবো না. কারণ আমরা একই সঙ্গে সমস্ত আকাশটাই দেখতে পাবো ও তাই সমস্ত দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনাই আমরা এখান থেকে নির্দিষ্ট করতে পারবো”.

কিন্তু সবচেয়ে ফলপ্রসূ হতে পারা যাবে, যদি বিশ্বজোড়া নজরদারি করার ব্যবস্থাকে ঐক্যবদ্ধ করা যায়. গ্রহাণু নজর দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে আমেরিকা, ইউরোপে, রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাও. চিন নিজেদের লক্ষ্য করার ব্যবস্থা তৈরী করেছে. রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে এই ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকতে, কিন্তু আমাদের সমানাধিকারে তখনই নেওয়া যাবে, যখন আমাদের নিজেদের পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা থাকবে. তাই এই নতুন মেগাটরতোর হবে সর্বজনীন ব্যাপারে রাশিয়ার অবদান.

একই সঙ্গে শুধু পর্যবেক্ষণ দিয়েই গ্রহাণুর থেকে উত্পন্ন বিপদের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না. এখন বৈজ্ঞানিক সমাজ ভেবে দেখছে কয়েক রকমের উপায় নিয়ে, যা গ্রহাণুর উপরে প্রভাব ফেলার জন্য করা যেতে পারে: তা একেবারে ধ্বংস করা থেকে তাদের গতিপথ বদলে দেওয়া পর্যন্ত, এই কথা উল্লেখ করে ইউরি নেফেদিয়েভ বলেছেন:

“এখন অবধি আমাদের মধ্যে তর্ক হচ্ছে. বেশ কয়েক রকমের উপায় রয়েছে, কি করে গ্রহাণু পৃথিবীতে পড়ার আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হবে. প্রথম উপায়: পারমানবিক শক্তি বা অন্য কোন পথ ব্যবহার করে গ্রহাণুকে ধ্বংস করতে হবে. এই ধরনের উপায় বর্তমানে আলোচনা করা হচ্ছে না. কারণ ভেঙে পড়া গ্রহাণু বিশ্বের জন্য মারাত্মক হতে পারে. দ্বিতীয় উপায়: গ্রহাণুর কাছে মহাকাশযান চলতে শুরু করে, যেটি নিজের মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে এর গতিপথ বদলে দেয় ও পৃথিবীর দিকে আসতে না দেয়, আর সেই গ্রহাণু আমাদের থাকার জায়গা এড়িয়ে চলে যায়”.

এই প্রসঙ্গে নেফেদিয়েভ উল্লেখ করেছেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান আপাততঃ এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম নয়. তাই আজকের দিনের প্রাথমিক কাজ হল – আধুনিক ব্যবস্থা তৈরী করা, যাতে জনগনকে আকাশ থেকে সম্ভাব্য বিপদ সম্বন্ধে সময়মতো সাবধান করে দেওয়া যায়.