রুশবাসীরা বেশি ঘন ঘন কনজিউমার লোন নিতে শুরু করেছে. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যে রাশিয়ার নাগরিকরা আগামীকাল সম্পর্কে সুনিশ্চিত এবং আর্থিক দায়ভার নিতে আর ভয় পাচ্ছে না. তবে ব্যাঙ্কগুলির জন্য এরকম মানসিকতা আশঙ্কার কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে.

সেন্ট্র্যাল ব্যাঙ্ক হিসাব করেছে, যে আগামী তিন বছরে রাশিয়ার ব্যাঙ্ক সেক্টরের প্রয়োজন হবে অন্ততঃ বাড়তি ১০ হাজার কোটি ডলারের. এর প্রধান কারন হচ্ছে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি. এই মুহুর্তে বছরপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যাপ্ত. ঠিক এই পরিমাণ মুনাফা রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলি গতবছরে অর্জন করেছে, বলে জানাচ্ছেন রাশিয়ার আঞ্চলিক ব্যাঙ্ক সংস্থার অধ্যক্ষ আলেক্সান্দর মুরীচেভ.-

আমাদের সরকারী হিসাব অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক সেক্টরের দৌলত ১৯ শতাংশ বেড়েছে. গ্রাহকদের এ্যাকাউন্টে উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ ও বেড়েছে ১৫,৫ শতাংশ. মোটের উপর গত বছরের মুনাফা অভূতপূর্ব. এটা তার আগের বছরের তুলনায় ভালো. সেই বছরেও অবস্থা ছিল ইতিবাচক. গ্রাহকদের আস্থা ব্যাঙ্কিং সেক্টরের উপর ক্রমশঃ বাড়ছে. খুচরো ঋণগ্রহণের পরিমাণ ক্রমশঃ বাড়ছে. শিল্পক্ষেত্রগুলির ঋণগ্রহণের তুলনায় এটা কয়েকগুন বেশি. মুরীচেভের মতে চলতি বছরেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে.

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কনজিউমার লোন থেকে মুনাফার ওপর নির্ভরশীলতা বিপজ্জনক. সেক্ষেত্রে সর্বদাই ঝুঁকি থাকে ধার ফেরত্ না পাওয়ার. যদিও বছরের পর বছর সময় মতো ধার শোধ না করার ঘটনা ক্রমশঃই কমছে – রুশবাসীরা তাদের ঋণগ্রহণের রেকর্ড খারাপ করতে চায় না – তবুও কিছু ব্যাঙ্ক বাত্সরিক বড় অঙ্ক ফেরত পায় না.

সেদিক থেকে হাউস লোন অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য. তবে রাশিয়ার এর বিকাশ হচ্ছে খুব ধীরলয়ে. তার কারন – ঋণকারীর ওপর সাংঘাতিক বোঝা. বার্ষিক সূদের হার ১৩% হওয়া সত্বেও, গড় রুশবাসীকে তার মাসিক বেতনের ২-৩ গুন বেশি অর্থ হাউস লোন শোধ করার জন্য জমা দিতে হয়. সাংসদের উদ্দেশ্যে পাঠানো তার সর্বশেষ বার্তায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ব্যাঙ্কিং সেক্টরের কাছে জনসাধারনের জন্য হাউস লোন সুলভ করার আহ্বাণ জানিয়েছেন. রাষ্ট্রপতির মতে, ন্যায্য সূদের হার হওয়া উচিত বার্ষিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার ও ২,২%.

কিন্তু ব্যাঙ্করা জোর দিয়ে বলছে, যে আপাততঃ তারা এতটা বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করতে অপারগ – পুঁজির পরিমাণ বাড়ানো অপরিহার্য. তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই গোলকধাঁধাঁ থেকে উত্তরণ তেমন কঠিন কাজ নয়. প্রথমে এ জন্য প্রতিষ্ঠাতাদের মুনাফা নেওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে ও ব্যাঙ্কের অর্জিত মুনাফার তিন-চতুর্থাংশ পুঁজিতে বিনিয়োগ করতে হবে. এটা ব্যাঙ্কগুলোর জন্যে নিরাপদ বালিশ তৈরী করবে. দ্বিতীয় পথ হচ্ছে, প্রাথমিক পুঁজির পরিমাণ বাড়ানো. এই বছরে রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলো শেয়ার বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে তাদের আইপিও বিক্রি করছে অর্থসংস্থানের জন্য. এটাই পুঁজি বাড়ানোর মোক্ষম উপায়.