১৫ই ফেব্রুয়ারী রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে উল্কা পতনের সম্বন্ধে প্রতি নতুন দিনই নতুন সব ধারণা নিয়ে আসছে. বিজ্ঞানীদের থেকে সাংবাদিক বা রাজনীতিবিদরাও পিছিয়ে নেই. কেউ বলছেন এক সুকৌশলে করা বিশ্বজোড়া যঢ়যন্ত্র নিয়ে আবার কেউ কেউ বলছেন এটা নতুন প্রজন্মের কোন খুবই চালাকি করে তৈরী করা অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে. কিন্তু “রেডিও রাশিয়ার” বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, এই উল্কা কোন রকমের সম্পর্ক যেমন রাজনীতির সঙ্গে তেমনই সমরাস্ত্রের সঙ্গে রাখে না, কিন্তু এই এলাকার জন্য দারুণ একটা বিজ্ঞাপনের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে.

রাশিয়া ইন্টারনেটে বলা হয়েছে এই উল্কা, যা চেলিয়াবিনস্কের উপরে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা সবচেয়ে দারুণ সব ইয়ার্কি মারার জিনিষ হয়েছে. সারা ইন্টারনেট জুড়ে দেশের প্রতিরক্ষার জন্য সামরিক অস্ত্র উত্পাদনের ক্ষেত্রে এক নেতৃস্থানীয় এলাকায় আকাশ থেকে ভয়ানক সব তারকা বৃষ্টির কার্টুন কোলাজ দিয়ে ভর্তি করে ফেলা হয়েছে. লোকে ব্যঙ্গ করেছে যে, স্থানীয় সরকার ব্রুস উইলিসকে সাহায্য করার জন্য ডাকার সময় পান নি. এই উল্কার নাম দেওয়া হয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে দুনিয়ার প্রেমিকদের ভিন গ্রহের প্রাণীদের কাছ থেকে উপহার বলে.

শুধু রাশিয়ার উপরে উল্কা বৃষ্টি হয় নি. মহাকাশের উল্কারা লোকে দেখতে পেয়েছে কিউবা ও ক্যালিফোর্নিয়াতেও. এত বিস্তৃত ভৌগোলিক প্রসার বহু রকমের তর্কবিতর্কের সৃষ্টি করেছে. একদল ইঙ্গিত করছে একটা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বলে, অন্যেরা – সম্ভাব্য অন্য গ্রহের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত বলেই. বিজ্ঞানীরা কিন্তু বলছেন একটি মহাকাশের বস্তুর কয়েকটি খণ্ডের পতন বলে. সেই গুলি একটা আরেকটার থেকে দূরে পড়ার কারণ হয়েছে পৃথিবীর আহ্নিক গতি. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও প্রত্যেকটি ধারণাকেই বিচার করে দেখার দরকার রয়েছে বলে মনে করে পুলকভ জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী সের্গেই স্মিরনভ বলেছেন:

“এটা আরও একটা বাড়তি প্রমাণ যে, পৃথিবী কোন শূণ্যে ঘুরছে না, বরং মহাকাশে চারপাশে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে থাকা বস্তুনিচয় আমাদেরই সৌর মণ্ডলে ছড়িয়ে রয়েছে. এখানে বলা সম্ভব নয় যে: এটা একটাই প্রবাহ, প্রাচীন কোন ধুমকেতু অথবা প্রাচীন গ্রহাণু বা এমনকি ভেঙে যাওয়া মহাকাশ যান, যার খণ্ড নীচে পড়ছে? আপাততঃ খবর যোগাড় করাই চলছে. আর এমনকি সবচেয়ে বিস্ময়কর ধারণাকেও বিচার করে দেখা দরকার”.

সংবাদ মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোন সামরিক যঢ়যন্ত্র করা হয়েছে বলে যে সব রাজনীতিজ্ঞের কথার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে ও বলা হয়েছে কোন এক রকমের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, যা উল্কার মতো করে গোপন করার চেষ্টা হয়েছে, তা যে শুধু কথার কথা, সেই ব্যাপারে একেবারে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ভবিষ্যত্ বক্তা সের্গেই মসকালিয়েভ বলেছেন:

“আমি মনে করি না যে, এটা কোন রকমের ষড়যন্ত্র. সম্ভবতঃ এই রকমের কিছু করারই ক্ষমতা কারোরই নেই. ধরে নেওয়া যে, আমেরিকার লোকরা আমাদের দিকে উল্কা ছুঁড়েছে – এটা একেবারে ফালতু কথা. এটা একেবারেই বটতলার বইয়ের স্তর”.

বৈজ্ঞানিকদের পক্ষে এখনও সেই উল্কা খণ্ড খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় নি. একটি ধারণা অনুযায়ী তা পড়েছে চেবারকুল হ্রদে, আর অন্য ধারণা অনুযায়ী তা পড়েছে আশেপাশের জঙ্গলে. একই সময়ে নানা ধরনের ধান্ধাবাজ লোকরা চেষ্টা করছে মহাজাগতিক বস্তুর খণ্ড গ্রাম পিছু কয়েক হাজার ডলার দামে বিক্রী করার. তার ওপরে রাশিয়ার পুলিশ সাবধান করে দিয়েছে: বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটে মোটেও অন্য গ্রহের টুকরো বিক্রী করা হচ্ছে না, হচ্ছে ওই রকম দেখতে পাথরের টুকরো কেনাবেচা. অন্য গ্রহের প্রাণীদের করা এক কাল্পনিক ও রহস্যময় ষড়যন্ত্র নিয়ে উপকথা চেলিয়াবিনস্ক শহরকেই এবারে পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় জায়গায় পরিণত করতে পারে. আর যদি স্থানীয় ট্যুরিস্ট কোম্পানী গুলি উল্কা পতনের জায়গা গুলি নিয়ে কোনও এক্সকারশন অফার করতে পারে, তবে পর্যটকদের ভীড় আটকায় কে.