যদি ওই উল্কাটা একই অক্ষাংশে বিস্ফোরিত হত মাত্র চার ঘন্টা পরে, তবে তা বিশ্বের পিঠ থেকেই সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরকে মুছে ফেলত. সুখের কথা হল যে, আমেরিকার বিজ্ঞানী বিল ম্যাগোয়ারের এই সিদ্ধান্ত চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে পড়া উল্কা নিয়ে হচ্ছে না, যা এই বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারী পড়েছে, বরং কথা হচ্ছে ১৯০৮ সালের সুদূর প্রাচ্যের তুঙ্গুস পাহাড়ী ও নির্জন এলাকায় পড়া উল্কা খণ্ডকে নিয়ে. তখন যেমন মনে করা হয়েছে যে একটা বড় উল্কাই পড়েছিল ও পরে তার নাম রাখা হয়েছিল তুঙ্গুস উল্কা. কিন্তু এই সব উল্কা- ধুমকেতুর চলাফেরার কোন ঠিক নেই, আর মানব সমাজ আজও এই সব ঘটনার সামনে নেহাতই নিরুপায়.

১৫ই ফেব্রুয়ারীতে পড়া উল্কার থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা উরালে বর্তমানে দেড় হাজার লোক ছুঁয়েছে. প্রথম উত্পাদ বা সিদ্ধান্ত, যা করা যেতে পারে তা নিজে থেকেই উদয় হয়েছে, - কিছু একটা করতেই হবে, যাতে আমাদের গ্রহে উরালে পড়া উল্কার চেয়ে সাংঘাতিক আরও একটা আকাশ থেকে পড়া আগুনের গোলার সামনাসামনি হওয়ার আগে.

জানাই আছে যে, উল্কার হাত থেকে প্রতিরক্ষার বর্ম নিয়ে ধারণা কোন ভাবেই নতুন কিছু নয়, তা এর আগেও বহুবার নানা রকমের বৈজ্ঞানিক সভাতে আলোচনা করা হয়েছে আর তা নিয়ে সিনেমাও হয়েছে প্রচুর. বাস্তব জীবনে মহাকাশ থেকে পড়া কোনও বড় বস্তুর সংঘাত এড়ানো নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলাই অবান্তর, এই রকম মনে করে সামাজিক রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“আমাদের সৌর মণ্ডলের মধ্যে বড় আকারের বস্তু, যেগুলি গ্রহাণুর মতো, সেই গুলির চলার পথ আমাদের ভাল করেই জানা রয়েছে ও তা খেয়ালে রাখা হয়েছে ভাল করেই. এই দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয় যে, কোন রকমের বিপদের অপেক্ষা করার দরকার নেই. অন্য ব্যাপার হল, সেই সব টুকরো, যেগুলো সৌর মণ্ডলের বাইরে রয়েছে. সেই গুলোকে খেয়ালে রাখার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন পড়বে বিপজ্জনক মহাকাশের বস্তুর উপরে আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থার. অংশতঃ এই ধরনের কাজই বর্তমানের টেলিস্কোপ গুলি করছে. একই সময়ে নজর রাখার ব্যবস্থা শুধু সেই গুলি দেখতেই পারে. তাদের প্রচণ্ড গতির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবে কোন ব্যবস্থা নেওয়াই সম্ভব হয়ে ওঠে না, যাতে তাদের গতিপথ বদলে যায়”.

যাতে বিশ্বের উপরে বিপদ সত্যই কমানো যায়, তাই ইভসেয়েভ মনে করেন যে, এই ধরনের বস্তুর গতিপথে পরিবর্তন আনতে হবে হয়তো কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত. অর্থাত্ প্রয়োজন পড়বে একেবারে অন্য ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার, যা সম্ভবতঃ, রাখতে হবে মহাকাশের কক্ষ পথেই ও যেখান থেকে সেই গুলি চালনা করতে হবে, যেমন ধরা যাক রাসায়নিক লেসার রশ্মি (!) অথবা অন্য কোন রকমের বন্দোবস্ত দিয়ে, যা বিশ্বের বাইরের বস্তুর গতিপথ বদলে দিতে পারে.

এই ধরনের ব্যবস্থার দাম, যা ফলপ্রসূ ভাবে পৃথিবীকে রক্ষা করতে সক্ষম, তা হবে স্রেফ কল্পনারও অতীত. উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও মহাকাশে যে অস্ত্র মজুদ করে নি, তা মোটেও তাদের শান্তি প্রিয় চরিত্র হয়েছে বলে নয়, স্রেফ “মহাকাশে যুদ্ধ” করার খরচা যোগাড়ের মতো ক্ষমতা নেই বলে.

প্রসঙ্গতঃ, বিশেষজ্ঞ সমাজ অনেকদিন আগেই মহাকাশে বর্ম তৈরীর উপকারিতা নিয়ে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে. যারা আশাবাদী, তাঁদের মতে পৃথিবীর সঙ্গে বড় মাপের গ্রহাণুর প্রলয় ঘটানো সংঘাতের সম্ভবনা খুবই কম. বিশ্বের সঙ্গে ধাক্কা লাগতে পারে, এমন বড় মহাকাশের জিনিষ আগে থেকেই দেখা যাবে শতকরা ৯৫ ভাগ অবস্থায়. চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে পড়া উল্কার মতো আকারের বস্তু দেখা যাওয়াটা স্রেফ ভাগ্যের উপরেই নির্ভর করছে. লোকজনকে এই ধরনের বিপদ নিয়ে আগে থেকেই সাবধান করা সম্ভব শুধু আলাদা ক্ষেত্রেই. বিশেষজ্ঞদের কথামতো, উরালে ঘটা ঘটনার মতো ঘটনা, রোজই হচ্ছে, শুধু আমাদের ভাগ্য ভাল যে, পৃথিবীর তিন ভাগ জল, আর তাই সেখানে মানুষ থাকে না.

কিন্তু যদি এই ধরনের উল্কা এসে এশিয়া বা ইউরোপীয় অঞ্চলে, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুবই বেশী, সেখানে পড়ে, তবে বিপর্যয় অনিবার্য.