রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে রাশিয়া যেমন ন্যাটো জোটের সাথে, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত. রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা কিছু বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, তিনি ব্রাসেলস শহরে সোমবারে ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেনের সাথে আলোচনার পরে এই মন্তব্য করেছেন.

ব্রাসেলস শহরে সাক্ষাত্কারের ফলাফল নিয়ে সের্গেই লাভরভ সাংবাদিক সম্মেলনে মত দিয়েছেন যে, এই বিষয়টি মস্কো ও জোটের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে রয়েছে. কিন্তু সোমবারে আলোচনার সময়ে দুই পক্ষ এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনায় ফেরার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখেছেন.

এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রসার নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার মন্ত্রী বলেছেন:

“ন্যাটো জোটের সহকর্মীরা নিয়মিত ভাবে জোর দিয়ে বলে যাচ্ছেন যে, এই ব্যবস্থা খুলে দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া পরিকল্পনাতে একটি বাক্যও বাদ দেওয়া যেতে পারে না. সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এখন সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে যে, তা যে কাঠামো দেওয়া হয়েছে, তাতে সফল হবে কি না. অর্থাত্ এই রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভাবা হয়েছে ও ন্যাটো জোটের মধ্যে সমর্থন করা হয়েছে, তা রাশিয়ার জন্য ঝুঁকির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে না, বরং তার ফলপ্রসূতা নিয়েই করা হচ্ছে, যা সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বর্তমানে বোঝা হয়েছে. অর্থাত্ আলাদা কিছু বিষয়ে এখনও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে. ন্যাটো জোটের সহকর্মীরা – এটা আজকের আলোচনায় বোঝা হয়েছে – খুব ভাল করেই বুঝতে পারছেন যে, এখানে প্রধান সমাধান খুঁজে পাওয়া দরকার রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যেই. আমরা সেই ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত. আমরা ন্যাটো জোটের সঙ্গে যেমন সংস্থা হিসাবে, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও, বিশ্বজোড়া রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্রষ্টা হিসাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি”.

পরস্পর বিরোধ ছাড়াও রাসমুসেন ও লাভরভ আলোচনা করেছেন মস্কো ও জোটের মধ্যে সহযোগিতার বিকাশ নিয়েও. এই প্রশ্নই এই বৈঠকের প্রধান বিষয় হয়েছিল. রাশিয়ার মন্ত্রীর কথায়, আজ পারস্পরিক কাজকর্ম উন্নতি করছে “খুব একটা খারাপ নয় ও খুবই একত্রিত ভাবেই”. এখানে কথা হচ্ছে জলদস্যূ মোকাবিলায় সহযোগিতার, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সহযোগিতা আর সবচেয়ে মুখ্য – আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে, বিশেষ করে এই দেশ থেকে জোটের সেনাদল প্রত্যাহারের পরের অবস্থা নিয়ে. আজ ইতিমধ্যেই সম্মিলিত ভাবে রাশিয়ার উলিয়ানভস্ক শহরের ঘাঁটি ব্যবহার করে মালপত্র ট্রানজিটের মাধ্যমে পরিবহনের বিষয়ে সফল কাজকর্ম হচ্ছে, হেলিকপ্টার প্রকল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে, যা জোটের পক্ষ থেকে রাশিয়ার যন্ত্র কেনার সম্ভাবনা নিয়ে হচ্ছে. আর আফগানিস্তান ও এই এলাকার অন্যান্য দেশ গুলির আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থা গুলির মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে করা হচ্ছে. তা স্বত্ত্বেও এখনও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে এখানের মুখ্য প্রশ্ন – আর তা রাশিয়াকে খুবই চিন্তিত করেছে – ২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তানে জোটের এই মিশনের কি ধরন হতে চলেছে, তাই সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করে বলেছেন:

“আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো জোট চলে যাবে, কিন্তু সেখানে রেখে যাবে কিছু কম সংখ্যক কর্মী, যারা আফগানিস্তানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে ও পরামর্শ বিষয়ে কাজ করবে, আর এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল বোঝা যে, এই মিশন কি হবে. প্রায়ই নানা কন্ঠস্বর শুনতে পাওয়া যাচ্ছে, যাতে জোটের প্রধান মিশনের কথা বলা হচ্ছে আবার করে সম্মিলিত ভাবে এলাকা পাহারা দেওয়া. তাহলে প্রশ্নের উদয় হয়, যদি এই ধরনের দরকার আছে, তবে কার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার. উত্তর ইউরোপে যেমন এখন প্রশিক্ষণ করার ব্যবস্থা হচ্ছে... তাই প্রশ্ন অনেক রয়েছে. যখন এমন লোকজন রয়েছেন, যাঁরা চেষ্টা করছেন পরবর্তী কালেও রুদ্ধদ্বার সেনা জোট থাকার উপযুক্ত ভিত্তি খুঁজতে ও চেষ্টা করছেন ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের যুক্তিতে ফিরে আসার, তখন তাদের সঙ্গে দরকার রয়েছে খোলাখুলি কথাবার্তা বলার. আমরা এর জন্যেও প্রস্তুত”.

রাশিয়া- ন্যাটো জোটের সভার কাঠামোর মধ্যে রাশিয়া তৈরী রয়েছে সমস্ত সহকর্মী দেশের সঙ্গেই কথা বলতে. বসন্তের শেষ দিকে আবারও রাশিয়া- ন্যাটো জোটের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে সাক্ষাত্কার হওয়ার কথা. মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পরিকল্পনা করেছে ইউরো- অতলান্তিক নিরাপত্তা নিয়ে নানা রকমের সামরিক – রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বড় মাপের সম্মেলনের আয়োজন করার.