ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার টি- ৯০এস ট্যাঙ্ক লাইসেন্স অনুযায়ী উত্পাদন চালিয়ে যাওয়ার. এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন রুশ- ভারত ট্যাঙ্ক সংক্রান্ত চুক্তির প্রধান কার্যনির্বাহী বৈজ্ঞানিক উত্পাদন কর্পোরেশন “উরালভাগোনজাভোদ” এর জেনারেল ডিরেক্টর ওলেগ সিয়েঙ্কো, তিনি এই খবর দিয়েছেন “আইডেক্স – ২০১৩” নামের সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে. আবু ধাবি শহরের প্রদর্শনীতে সোমবারে রাশিয়ার ট্যাঙ্ক এক চলমান সমরাস্ত্র কর্মক্ষমতা প্রদর্শনীর অঙ্গ হয়েছে ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রভূত প্রশংসা আদায় করতে পেরেছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

টি- ৯০এস ট্যাঙ্কের এক আধুনিকীকরণ হওয়া চূড়া রয়েছে, যেখানে নতুন স্বয়ংক্রিয় অগ্নি বর্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে, আরও বেশী নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম ১২৫ মিলিমিটারের গোলা বর্ষণের কামান রয়েছে, আরও রয়েছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ যোগ্য মেশিনগান. নতুন ধরনের গতিশীল বর্ম বর্তমানের প্রায় সবরকমের দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ যোগ্য রকেটের আঘাত প্রতিহত করতে পারে আর তারই সঙ্গে রয়েছে বেশী নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র, মাইন ও জমিতে রাখা মাইন থেকে আত্মরক্ষার ক্ষমতা. তাছাড়া, একই সঙ্গে সবদিকে নজর রাখার ক্ষমতা থাকার ফলে স্বয়ংক্রিয় অগ্নি বর্ষণ ব্যবস্থা নিজে থেকেই প্রতিপক্ষকে খুঁজে বের করতে, চিনতে পেরে, থামা অথবা চলন্ত অবস্থায় দিনে বা রাতের যে কোন সময়েই আঘাত হানতে পারে. এই ট্যাঙ্কের চলার ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার অনেকখানি উন্নতি করাই সম্ভব হয়েছে. এর ইঞ্জিনের শক্তিও বাড়ানো হয়েছে. সব মিলিয়ে টি- ৯০এস ট্যাঙ্ক আজকের দিনের এই ধরনের অস্ত্রের বাজারের সেরা অস্ত্র হতে পেরেছে. সিয়েঙ্কো বলেছেন যে, “এই ধরনের ট্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই বহু শত উত্পাদিত হয়েছে”. ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের আওয়াদি শহরের ট্যাঙ্ক কারখানাতে রাশিয়ার লাইসেন্স অনুযায়ী এই ধরনের ট্যাঙ্ক বর্তমানে তৈরী করা হচ্ছে. টি – ৯০এস আজকের দিনে ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রধান আঘাত করার শক্তিতে পরিণত হয়েছে.

ভারত আরও আগ্রহী যাতে আজকের দিনে বড় অংশ জোড়া লাগিয়ে উত্পাদনের থেকে উত্পাদন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভাবেই স্থানীয় করার জন্য ও পরবর্তী কালে আগে একত্রে তৈরী ট্যাঙ্ক গুলিরও আধুনিকীকরণ করার জন্য. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারত বাড়তি ৬০০টি টি- ৯০এস ট্যাঙ্ক আধুনিকীকরণ করার অংশ কিনতে পারে ও নিজেদের দেশেই এই ধরনের ট্যাঙ্ক তৈরী রাশিয়ার লাইসেন্স পেয়ে সম্পূর্ণ ভাবেই করতে পারে.

এই রকমের কাঠামো অনুযায়ী ভারত আজ অন্যান্য কারখানাতে কাজ করছে, যেখানে রাশিয়ার কাছ থেকে অনুমতি পেয়ে নানা ধরনের সমরাস্ত্র বানানো হচ্ছে. ভারতের “হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস্ লিমিটেড” কর্পোরেশন রাশিয়ার অনুমতিতেই বিশ্বের এক সেরা যুদ্ধবিমান “এস- ৩০এমকাই” নিজেদের দেশেই তৈরী করছে. ভারতের সাথে একত্রে আজ আমরা তৈরী করছি সম্ভাবনাময় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান – “এফজিএফএ”. বেশ কিছু বছর ধরেই রুশ- ভারত যৌথ প্রকল্প ব্রামোস, যার রাশিয়ার মস্কো নদী ও ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদীর নাম মিলিয়ে নাম দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন ব্যালিস্টিক মিসাইল “ব্রামোস” তৈরী করা হচ্ছে.

একই সঙ্গে রাশিয়ার নির্মাতারা বর্তমানে নতুন পঞ্চম প্রজন্মের ট্যাঙ্ক সৃষ্টি নিয়ে কাজ করছেন. তাতে একেবারেই অন্য ধরনের প্রযুক্তি ও কৌশলগত সমাধান ব্যবহার করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে “জাতীয় প্রতিরক্ষা” নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“এটা হবে একটা বর্মাবৃত ক্যাপস্যুল সমেত ট্যাঙ্ক, যা চালকদের জীবন যুদ্ধের সময়ে রক্ষা করতে পারে. এই ট্যাঙ্কের যুদ্ধের সরঞ্জাম থাকবে ক্যাপস্যুলের মধ্যে. এই ট্যাঙ্কের চূড়া ও কামান চালানোর কোন চালক থাকবে না, যা গোলা গুলি ভরে অগ্নি বর্ষণের কাজ নিজেই করতে পারে, কোন রকমের মানুষের প্রয়োজন ছাড়াই. লক্ষ্য স্থির ও নিয়ন্ত্রকের কাজ থাকছে শুধু লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া ও বিশেষ করে উল্লেখ করে দেওয়া নির্দিষ্ট করা নানা লক্ষ্যের জন্য কি ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে. অর্থাত্ এটা হতে চলেছে সম্পূর্ণ ভাবে সংযুক্ত, স্বয়ংক্রিয়, বর্মাবৃত এক প্ল্যাটফর্ম, যা যুদ্ধের সময়ে খুবই প্রসারিত রকমের কাজকর্ম করতে সক্ষম হবে ও আমাদের দেশের ট্যাঙ্ক নির্মাণ শিল্পের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে. এই ট্যাঙ্ক হবে দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত. এটা হবে সম্পূর্ণ ভাবে “চালক বিহীণ” সমরাস্ত্র উত্পাদনের প্রথম অধ্যায়, তথাকথিত ভাবে যুদ্ধের জন্য রোবট তৈরী করার, যা নিয়ে গত শতকে নানা কাল্পনিক কাহিনীর লেখকরা লিখেছিলেন”.

আর কেই বা বলতে পারে, এই ট্যাঙ্ক হতে পারে রাশিয়া ও ভারত একসাথেই সৃষ্টি করবে?!