নির্বাচানী প্রচারনায় ইন্টারনেটকে আবশ্যকীয় উপকরণ হিসেবে সম্মতি জানানোর জন্য রুশ সরকার দুমায় একটি আইন পাঠিয়েছে. একই সাথে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো যাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে. আর তা প্রিন্ট গণমাধ্যমে নয় বরং ইন্টারনেটের গ্লোবাল নেটওয়ার্কে.

এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে দায়িত্বরত সরকার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে. প্রথমত, আজকের দিনে প্রায় প্রতিটি রুশির কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে গেছে. যদি কারো বাড়িতে ইন্টারনেট না থাকে তাহলে তাদের জন্য রয়েছে রাষ্ট্রীয় ও নগর কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় বিভিন্ন ইন্টারনেট জোন, লাইব্রেরী ও সবার জন্য ব্যবহার করার সুযোগ সম্বলিত আরো অনেক স্থান.

ইন্টারনেট ব্যবহার যা অর্থ সাশ্রয় ও বাজেট কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে. পত্রিকা প্রিন্ট করতে খরচ অনেক বেশি হয়. বর্তমানে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের পদ্ধতি শিথিল করায় এদের সংখ্যা স্বভাবতই বৃদ্ধি পাবে আর রাষ্ট্রীয় খরচে ভোটারদের কাছে তাদের পরিচিতি তুলে ধরার জন্য অর্থের পরিমানও বাড়বে.

রাশিয়ায় অনেক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হওয়ায় আইন নির্ধারকদের আরো একটি বিষয় নিয়ে ভেবে দেখা দরকার এবং তা হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা.

বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন সাফল্যের সাথে স্বয়ংক্রিয় ভোটগ্রহণ পরিচালনা করে আসছে. এর জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে. এই প্রক্রিয়ায় ব্যালোট পেপার নষ্ট হওয়া বা ভোট গননার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই. তবে এখানে সমস্যা হচ্ছে, বিশেষ প্রযুক্তির ওই যন্ত্র শুধুমাত্র নির্দিষ্ট আকারের ব্যালোট পেপারের জন্য কার্যকরী.

এদিকে রাশিয়ার আইন মন্ত্রনালয়ে এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত পার্টির সংখ্যা ৫০-এ ছাড়িয়েছে. এদের সবাই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে. সেই ক্ষেত্রে ব্যালোট পেপারের দৈঘ্য হতে পারে অর্ধ মিটার. এর মানে হচ্ছে. হয়ত বা প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভোটগ্রহণ বাদ দিতে হবে অথবা ভোটগ্রহণ পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে. এমনটি বলছেন দুমার সংবিধান আইন প্রণয়ন বিষয়ক কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির প্লিগিন. রেডিও রাশিয়াকে তিনি জানান, “আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রশ্ন পাঠিয়েছে এই কথা বলে যে আমাদের ইলেকট্রনিক্স ভোটিং পদ্ধতি এবং ব্যালোট পেপার নিয়ে চিন্তা করা দরকার. একই সাথে আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে যদি প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়া হয় তাহলে আমাদের এই মুহূর্তে যে প্রযুক্তি রয়েছে তা কি আমরা ব্যবহার করতে পারবো নাকি আমাদের সেই পুরোনো ব্যালোট বাক্সেই ফিরি যেতে হবে. তবে উভয় ক্ষেত্রেই প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, ভোটগ্রহণ সর্বোচ্চ স্বচ্ছ, সহজলভ্য ও বোধগোম্য করে তোলা”.

অন্যান্য যেসব প্রস্তবসমূহ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে হচ্ছে, পার্টিকে আরো বড় করা. বর্তমানে রাশিয়ায় একটি রাজনৈতিক দলের সর্বনিম্ন সমর্থকের সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ৫০০ জন. কয়েক মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি দেশের ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট কম. এমনটি মনে করছেন রাশিয়ার প্লিখানোভা অর্থনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর (ভিসি) সেরগেই মার্কোভ. তিনি বলেন, “দেশের ইতিবাচক উন্নয়নের জন্য বড় পার্টি থাকা অনেক বেশি সঠিক সিদ্ধান্ত বিশেষকরে তারাই ভোটারদের জন্য উপযুক্ত ভোটের পরিবেশ তৈরী করে. কারণ হচ্ছে ১০০টি পার্টির মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না কিন্তু ৫ থেকে ১০টি দলের মধ্যে সম্ভব. বিগত সময়ে রাশিয়ায় অনেকগুলো ছোট ছোট রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়েছে. এরা সবাই পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে. তবে চুড়ান্ত পর্যায়ে ওই ৫ থেকে ৬টি পার্টি পার্লামেন্টে যাবে. সম্ভাব্যতা যাচাই করেই এ পূর্বাভাষ দেওয়া যেতে পারে”.

রুশ সমাজে যে দৃষ্টিভঙ্গি আর চাহিদা বিদ্যমান রয়েছে তা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যই নির্ধারণ করবে ওই ৫-৬টি রাজনৈতিক দল. তবে আপাতত রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভাবছেন এই পরিস্থিতি থেকে কিভাবে বের হয়ে আসা যায়. অন্যদিকে প্রার্থীদের তালিকা ইন্টারনেটে প্রকাশ করার যে প্রস্তাব সরকার করেছে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা. সেই পরিপেক্ষিতে প্রতিটি দল সম্পর্কে ভালভাবে জানা কষ্টসাধ্য হবে. ভোটারদের আগে থেকেই তালিকা সম্পর্কে পর্যালোচনা করা ও তাদের ক্রমিক সংখ্যা জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে.