মহাকাশ থেকে আসা বিপদের মোকাবিলা করার জন্য গ্রহ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের সাত বছরের বেশী সময় লাগবে না ব্যবস্থা তৈরী করতে. এখনই বিজ্ঞানীদের কাছে রয়েছে অন্তত চব্বিশ রকমের ঘটনা পরম্পরার বিবরণ, যা দিয়ে আমাদের গ্রহকে উল্কা ধুমকেতু ও অন্যান্য বিপজ্জনক মহাকাশের বস্তুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব.

রাশিয়ার প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরা বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মীদের সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে সেই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন, যখন মহাকাশ থেকে এসে পড়া বস্তুর আঘাত থেকে রাডার ব্যবস্থা ব্যবহার করে রক্ষা করা সম্ভব নয়. রাশিয়ার উরাল পর্ব্বতমালার এলাকাতে ১৫ই ফেব্রুয়ারী এটাই হয়েছিল. জনগনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হবে, যাতে লোকে বিপদের আশঙ্কা থাকলে খুবই দ্রুত বোমার আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জায়গা, মাটির নীচে বাঙ্কার ও মেট্রো স্টেশন ব্যবহার করতে পারে. তাছাড়া, আন্তর্গ্রহ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা এখনই ঠিক করেছেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মহাকাশে বিশেষ ধরনের উপগ্রহ পাঠাবেন. সেই গুলি পৃথিবীর কাছে চলে আসা বিপজ্জনক বস্তু গুলিকে লক্ষ্য করবে, এই কথা উল্লেখ করে এই কেন্দ্রের ডিরেক্টর আনাতোলি জাইতসেভ রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন:

“এর জন্য প্রয়োজন পড়বে মহাকাশে টেলিস্কোপ সমেত মহাকাশযান পাঠানোর. পৃথিবী থেকে এই ধরনের জিনিষের উপরে লক্ষ্য করা সম্ভব নয়, কারণ এখান থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শুধু দেখতে পান রাত্রির আকাশ, আর দিনের বেলার আকাশ তাঁদের নজরের বাইরেই থাকে, সেখান থেকেই উল্কা পাত হতে পারে. দ্বিতীয় পদক্ষেপ – খুবই খুঁটিয়ে এই সব বস্তুর প্রতি নজর রাখা দরকার. এরজন্য প্রয়োজন পড়বে গোয়েন্দা রকেট পাঠানোর. সেই গুলিকে সব থেকে সংক্ষিপ্ত পথেই পাঠানো সম্ভব. আর তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে আমরা এই গুলিকে ধরার জন্য যন্ত্র পাঠাতে পারি. মুখ্য হল – এই গুলির চলার পথ বদলে দেওয়া অথবা তা ধ্বংস করে দেওয়া, যাতে আমাদের গ্রহে এসে না পড়ে”.

বিজ্ঞানীদের কাজকর্ম বিশ্বকে ১০ মিটারের বেশী ব্যাসার্ধের উল্কা, যেমন চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে পড়েছে, সেই রকমের থেকে আরও অনেক বড় মাপের উল্কা বা ধুমকেতুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে. বিজ্ঞানীরা চেলিয়াবিনস্ক শহরের কাছে পড়া উল্কার টুকরো এখন বিশ্লেষণ করে দেখতে পেরেছেন ও তার থেকে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আমাদের বিশ্বের ইকোসিস্টেম বা লোকের স্বাস্থ্যের উপরে তা কোন ভাবেই প্রভাব ফেলবে না, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে উরাল রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সচিব দিমিত্রি পেনেমানস্কি বলেছেন:

“এই সব টুকরো অংশের প্রস্থচ্ছেদ করে রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে, যা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই টুকরো গুলি উল্কার অংশ. বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আবার সেই চেবারকুল হ্রদে খোঁজ করার দল গিয়েছে, যদি বড় কোন টুকরো খুঁজে পাওয়া যায়. যদিও এই সব থেকে এখনই বোঝা সম্ভব হয়েছে যে, এটা একেবারেই সাধারন পাথুরে উল্কা, যা আমাদের বিশ্বের জীবনের জন্য কোন রকমের বিপদ তৈরী করে না, তবুও বিজ্ঞানীদের জন্য তা খুবই আগ্রহের বিষয়”.

আপাততঃ যখন বিজ্ঞানীরা চেলিয়াবিনস্ক শহরের উল্কা খণ্ড পরীক্ষা করে দেখছেন, তখন জনতার মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে এই বিশ্ব বহির্ভূত পাথরের খণ্ড নিয়ে সত্যিকারের শিকার. এর মধ্যেই ইন্টারনেটে ১৫ হাজার ডলারের চেয়ে বেশী দামের উল্কা খণ্ড কেনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে.