দক্ষিণ এশিয়াতে রকেট- পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে. গত সপ্তাহে পাকিস্তান নতুন দুটি রকেটের উড়ান করেছে. শুক্রবারে ছোঁড়া হয়েছে হাতফ – ২ নামের ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওড়ার ক্ষমতা সম্পন্ন রকেট আর সোমবারে হাতফ – ৪ ছোঁড়া হয়েছে ৬০ কিলোমিটার দূর অবধি উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন. দুটো রকেটই পারমানবিক বোমা নিয়ে উড়ে যেতে পারে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে হাতফ- ২ ও হাতফ – ৪ রকেট ছোঁড়া ভারতের পক্ষ থেকে অগ্নি – ৫ নিক্ষেপের একটা প্রত্যুত্তর হতে পারে. দুই দেশই সক্রিয় ভাবে নিজেদের রকেট – পারমানবিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করেই চলেছে. মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা পরিষেবা থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানের বর্তমানে ৯০ থেকে ১১০ টি পারমানবিক বোমা রয়েছে. গত দশ বছরে পাকিস্তান বাস্তবে নিজেদের পারমানবিক বোমার পরিমান দ্বিগুণ করেছে ও তার সংখ্যায় ভারতবর্ষকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যাদের কাছে রয়েছে ৮০ থেকে ১০০টি বোমা.

গণহত্যার অস্ত্র তৈরী পরিকল্পনা বৃদ্ধি করে ইসলামাবাদ ভারতের থেকে সাধারন ধরনের অস্ত্রের বিষয়ে নিজেদের পিছিয়ে থাকাকে ভরতুকি দিতে চাইছে. দিল্লী এই বিষয়ে যথেষ্ট শান্ত ভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে. এই এবারেও ভারতে পাকিস্তানের রকেট পরীক্ষা নিয়ে কোন বিশেষ রকমের আগ্রহ প্রদর্শন করা হয় নি. মনে হয়েছে যে, তাদের কাছে বরং বেশী করেই সমস্যা রয়েছে নিজেদের দেশের সামরিক বাহিনীর পুনর্নির্মাণের প্রশ্ন নিয়ে, তাদের আধুনিক অস্ত্রের যোগান দেওয়া নিয়ে, সেই অর্থে পাকিস্তানের রকেট – পারমানবিক ক্ষমতা বৃদ্ধি তাদের খুব একটা আতঙ্কিত করছে না. এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“বর্তমানে পাকিস্তান নিজেদের পারমানবিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে. কিন্তু এটা ভারতেরই কাজকর্মের প্রতিক্রিয়া. অন্য দিক থেকে ভারত পাকিস্তানকে বেশী ভয় পায় না, বরং পায় তাদের পিছনে থাকা চিনকে. এই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই রকেট – পারমানবিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এত দ্রুত হয়েছে”.

ভারত এবারে পারমানবিক ত্রয়ী সৃষ্টি করতে চলেছে, পারমানবিক ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে. কাজ হচ্ছে বহু দূরে উড়ে যেতে সক্ষম এই ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়েও. আমরা অগ্নি – ৬ তৈরী করতে চাই, যা আমাদের স্ট্র্যাটেজিক শক্তিকে অনেক বেশী বাড়িয়ে দেবে – এমন কথা বলেছেন ভারতের ডিআরডিও সংস্থার প্রধান ভি. কে. সারস্বত, তিনি বলেছেন এই ধরনের রকেটের প্রকল্প নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে. এই প্রসঙ্গে সংস্থার প্রধান সঠিক ভাবে বলেন নি যে, নতুন রকেট কতদূর অবধি উড়ে যেতে পারবে. এই টুকুই শুধু জানা রয়েছে যে, তা অগ্নি – ৫ এর চেয়ে অনেক বেশী দূরে উড়ে যেতে পারবে, যার উড়ানের দূরত্ব সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার. এটা আন্তর্মহাদেশীয় রকেট, যার অস্ত্র পতনের সময়ে বহু ভাগ হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রে এই রকেট কোনও কাজে লাগবে না. কিন্তু তা চিনের এলাকার যে কোন জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ার ফলে চিনকে বেঁধে রাখার কাজে এটা লাগতেই পারে.