0সোমবারে ভারত সফরে এসেছেন প্রাক্তন রাজধানীর দেশ গ্রেট ব্রিটেনের থেকে সেখানের প্রধানমন্ত্রী – ডেভিড ক্যামেরন. ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সুয়া অল্যান্দের নয়াদিল্লীতে সফরের পরে এই সফর হচ্ছে মাত্র এক সপ্তাহের থেকেও কম সময়ের মধ্যে. ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে ফ্রান্স গ্রেট ব্রিটেনের সহকর্মী দেশ ও একই সঙ্গে তাদের বহুদিনের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী.

এই সফরের সম্বন্ধে একটা রহস্যময়তা সৃষ্টি করেছে গত বছরে ভারতের পক্ষ থেকে ফ্রান্সে নির্মিত রাফালে বহুমুখী যুদ্ধ বিমানের বিষয়ে নির্বাচন, যা করা হয়েছিল প্যান ইউরোপীয় কনসরশিয়াম নির্মিত ইউরোফাইটার টাইফুন কিনতে অস্বীকার করে. এমনকি যদিও এই কনসরশিয়ামের হয়ে সওয়াল করেছিলেন খোদ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন নিজেই. দেখাই যাচ্ছে যে, ভারত অল্যান্দ এই কারণেই এসেছিলেন, যাতে এই চুক্তির শেষ সূচক গুলি নির্ণয় করা সম্ভব হয়. কিন্তু ক্যামেরনের সফরকেও দেখা হচ্ছে গ্রেট ব্রিটেনের তরফ থেকে ভারতকে একবার শেষ চেষ্টা করার জন্য, বোঝানোর জন্য, যাতে রাফালে বিমানের জায়গায় ভারত ইউরোফাইটার কেনে.

এখন অন্য প্রশ্ন হল যে, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন কি তাঁর সফর সূচীর মধ্যে সময় পাবেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

"সোমবার দিনের প্রথমার্ধের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায় নি. তা স্বত্ত্বেও বিগত মাস গুলির ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, এমনকি যদি এই ধরনের সাক্ষাত্কার সম্ভব নাও হয়, তবুও ইউরোপে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বর্তমানে সম্পর্ক একবিংশ শতকের প্রথম দশকের চেয়ে খুবই সিদ্ধান্ত মূলক ভাবেই পাল্টে গিয়েছে. আর এই ক্ষেত্রে মোটেও শেষ ভূমিকা গ্রেট ব্রিটেন নেয় নি. ২০০২ সালে মুসলমান দমনের বিষয়ে শেষ অবধি নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা স্পষ্ট না হওয়াতে পশ্চিম প্রায় দশ বছর ধরে প্রায় জোর করেই নরেন্দ্র মোদীকে বয়কট করে এসেছে. আর শুধু ২০১১ সালেই প্রথম যে দেশের রাষ্ট্রদূত নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তিনি ডেনমার্ক থেকে আসা. কিন্তু তাঁর সঙ্গে পশ্চিমের সংযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী মনোযোগ আকর্ষিত হয়েছে গত বছরে অক্টোবর মাসেই, যখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন গ্রেট ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত".

এই সাক্ষাত্কার যেন এক সিংহ দরজা খুলে দিয়েছিল, আর তার পর থেকেই বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সারি পড়েছিল গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের জন্য. জানুয়ারী মাসের শুরুতে দিল্লী শহরে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে নরেন্দ্র মোদীর সম্মানে এক দ্বিপ্রাহরিক ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল, যাতে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সমস্ত দেশের রাষ্ট্রদূতরাই হাজির ছিলেন. এই ভোজসভার খবর প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল, আর শুধু ফেব্রুয়ারী মাসেই এই নিয়ে খবর দেওয়া হয়েছিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে. আর প্রায় এক সপ্তাহ আগে মোদী নিজেই নিজের ব্লগে খবর দিয়েছিলেন যে, ইউরোপের পার্লামেন্ট সদস্যরা তাঁকে এই বছরের নভেম্বর মাসে ইউরো পার্লামেন্টে আমন্ত্রণ করেছেন. সুতরাং সেই বয়কট. যা দশ বছর ধরে চলেছিল, তার একটা শেষ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করা যেতেই পারে.

এই বয়কট শেষ হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রথম কারণ – গুজরাত রাজ্য – যে সময় ধরে নরেন্দ্র মোদী এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন, সেই সময়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে অসাধারণ, আর তার সঙ্গে সহযোগিতা ব্যবসায়ের জন্য দিগন্ত খুলে দিয়েছে. এটা ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বুঝতে পেরেছে.

দ্বিতীয় কারণ নিজের রাজ্যে মোদীর জনপ্রিয়তা খুবই বেশী, যার ফলে তিনি গত বছরের শেষে বিশাল ভোটের ব্যবধানে আবার নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল হতে পেরেছেন.

কিন্তু সবচেয়ে প্রধান হল যে, - এই দুটি কারণের জন্যেই মোদীকে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আগামী ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী পদের উপযুক্ত প্রার্থী বলে ও সবচেয়ে সম্ভাব্য বিজয়ী বলে মনে করা হয়েছে”.

0আর তার মানে হল যে, তার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে মনে তো হয় না যে, কারোরই আগ্রহ থাকবে.