উরালের আকাশে উল্কা বিস্ফোরণের শক্তি ছিল ৫০০ কিলোটনের সমান, যা হিরোসিমাকে ধ্বংস করে দেওয়া বোমটির চেযে ৩০ গুন বেশি জোরালো. নাসা এই হিসাবনিকাশ করেছে. তাদের হিসাব অনুসারে, মহাজাগতিক বস্তুটি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করার মুহুর্তে ১৭ মিটার দীর্ঘ ছিল এবং তার ওজন ছিল – ১০ হাজার টন. পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢোকার মুহুর্ত থেকে ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত তার উড়ানের মেয়াদ ছিল সাড়ে বত্রিশ সেকেন্ড. বিস্ফোরণ ঘটেছে পৃথিবীর মাটি থেকে ২০ কিলোমিটার উচ্চতায়.

জাজ্বল্যমান গোলক সাদা ধুমায়িত লেজসহ - মহাজাগতিক বস্তুটির উড়ানের সাক্ষী ছিল গতকাল রাশিয়ার বাশকিরিয়া, স্ভের্দলোভস্ক, চেলিয়াবিনস্ক, ত্যুমেন জেলার অধিবাসীরা ও কাজাকস্তানের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা. বিস্ফোরণটি ঘটেছে ঠিক চেলিয়াবিনস্কের মাথার ওপর, সেখানেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বলে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের উরাল আঞ্চলিক শাখার তথ্য সচিব ভাদিম গ্রেবেন্নিকোভ.-

চেলিয়াবিনস্ক জেলায় ৩৭২৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৭১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান. প্রায় ২ লক্ষ বর্গমিটার এলাকায় বিস্ফোরণের আঘাতের তরঙ্গে কাঁচের সব জানালা ভেঙে গেছে. ওখানে ৩২০টি মেরামতি ব্রিগেড কাজ করছে এখন. অন্যান্য জেলাগুলি থেকেও সাহায্য আসছে. এখনো পর্যন্ত ১১৪৭ জন চিকিত্সকদের শরণাপন্ন হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে. আকাশ থেকে ৭টি বিমান উল্কাটির উড়ানের পথ পর্যবেক্ষন করেছে. মাটির ওপরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি.

ভূমিপৃষ্ঠে উল্কাটির কোনো দেহাবশিষ্ট পায়া যায়নি. সুতরাং অনুমান করা যেতে পারে, যে ওটার দেহ পাথর বা লোহার ছিল না, ছিল বরফের, বলছেন রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির জোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের কর্মী ভ্লাদিস্লাভ লেওনভ.-

0তবে উদ্ধারকারী ও বিজ্ঞানীরা এখনো উল্কাটির খন্ড বা টুকরো খুঁজে পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না. যেমন চেলিয়াবিনস্কের কাছে চেবারকুল নামক একটি হ্রদে পলিনিয়াম আবিস্কার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত কৌতুহলোদ্দীপক. তার ব্যাস ৬ মিটার, গোলাকৃতির. তার কাছেপিঠেই পাওয়া গেছে কয়েকটি কালোরঙের খন্ড, য়েগুলোকে দেখতে পাহাড়ী পাথরের মতো. ঐ হ্রদটিতে ডুবুরিরা সন্ধান চালাচ্ছে.