রাশিয়া কার্যক্ষেত্রে জি২০-র সভাপতিত্ব করা শুরু করলো. ১৫ই ফেব্রুয়ারী ক্রেমলিনে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন জি২০-র আর্থিক কর্তাব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত্কারে মিলিত হয়েছিলেন.

ক্রেমলিনে জড়ো হয়েছিল সেই ডাকাবুকো আর্থিক কর্তাব্যক্তিরা, যাদের ওপর নির্ভর করছে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের অর্থনীতির উন্নয়নের অভিমুখ. উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা – এই বিষয়টি নিয়ে সাক্ষাত্কারে অংশগ্রহণকারীরা ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনা করেছেন. এই প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কে জানে সবাই – জাতীয় মুদ্রার অস্থিতিশীলতা, একসারি দেশের ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় ঋণ, সত্যিকারের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ঘাটতি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংকট-পরবর্তী উন্নয়ন হারের ভারসাম্যহীনতা. জি২০-র আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা করার জন্য রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি – আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার, বাণিজ্য পদ্ধতির সংস্কারসাধন, বিনিয়োগ, জ্বালানী শক্তি ও নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরী করা. পুতিন উল্লেখ করেছেন, যে রাশিয়া বিশ্বব্যাপী আর্থ-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং বড় খেলোয়াড়দের সংহতিসাধনের স্বপক্ষে কথা বলবে.-

বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রাচীরের আড়াল করা আজ অসম্ভব. কোনো দেশই একা একা পারবে না আধুনিক সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে. এই সবই বেশি কড়া করে দাবী করছে বিশ্ব পরিচালন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে. এই সব সংস্থার মেরামতি, জমে ওঠা সমস্যাবলীর সমাধানের জন্য নতুন যন্ত্রপাতির সন্ধান ও বিশ্বের সমস্ত এলাকায় বৃদ্ধির পেছনে মদত দেওয়া – আমাদের দৃষ্টিতে রাশিয়ার সভাপতিত্বকালীন জি২০-র এগুলোই মুখ্য কর্তব্য.

অন্যতম মূল কাঠিন্য বলে পুতিন মনে করেন আর্থির পরিচালন ব্যবস্থার প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা. জমে থাকা সমস্যার সমাধান কোনো কোনো রাষ্ট্র শুধু টাঁকশালে মুদ্রা ছেপে করার চেষ্টা করছে. আর এরকম নীতির দরুন নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়. রাশিয়া একনাগাড়ে এইক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপণ করার জন্য বলে যাচ্ছে. বিশেষতঃ, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা এবং ছায়ামূর্তি ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ওপর নজরদারী জোরদার করার জন্য.

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান বন্টনকারী ক্রিস্টিন লাগাঁ লক্ষ্য করেছেন, যে সংকটোত্তর অর্থনৈতিক আরোগ্যলাভের মাত্রার ভারসাম্যহীনতা উত্তেজনার সৃষ্টি করছে. যেমন, বেশ কিছু উন্নত দেশের অর্থনীতি উন্নয়নশীল দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি শ্লথ গতিতে আরোগ্যলাভ করছে, এবং এই কারনে একে অপরকে দুষছে – বলছেন লাগাঁ.-

“আন্তর্জাতিক আর্থিক ঋণ ব্যবস্থা ফলদায়ক কাজ করতে সক্ষম, যদি সব রাষ্ট্র বুদ্ধিদীপ্ত অর্থনৈতিক নীতি অনুসরন করে. তাতে যেমন জাতীয় অর্থনীতির, তেমনই বিশ্ব অর্থনীতির মঙ্গল হবে. আপনি, শ্রীযুক্ত রাষ্ট্রপতি যে পথনির্দেশ দিয়েছেন – স্থিতিশীল, প্রত্যয়জনক ও ভারসাম্যসাপেক্ষ বৃদ্ধি, তা পালনের প্রক্রিয়ার ওপর জি২০-র নিরন্তর নজর রেখে যেতে হবে. এ বড় সুখের সময় নয়”.

আর্থিক কর্তাব্যক্তিরা ঠিক করেছেন চলতি বছরে অন্ততঃ আরো তিনবার সাক্ষাত করার. মনে হচ্ছে বিভিন্ন পরস্পরবিরোধীতা থাকা সত্বেও সবাই এই বিষয়ে একমত, যে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুন.