রাশিয়ার সামাজিক মতামত তহবিলের সমাজ বিজ্ঞানীরা রুশ নাগরিকদের কাছে জেনেছেন, কি ধরনের ফিল্ম, তাঁরা ভালবাসেন ও কেন. রাশিয়াতে সবসময়েই চলচ্চিত্র খুবই জনপ্রিয় ছিল. সোভিয়েত দেশে এমনকি তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেখাশোনাও করা হত, সমস্ত সিনেমাই খুব কঠোর সেন্সরের বোর্ড পাশ করতে হত ও রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে মিল থাকতে হত.

সমাজ বিজ্ঞানীরা নিজেদের প্রশ্ন গুলিকে এই ভাবে তৈরী করেছিলেন: যদি সিনেমার গল্প নিয়ে বলতে হয়, তবে কি ধরনের আপনাদের সব চেয়ে ভাল লাগে? তার উত্তর পাঁচ রকমের দেওয়া সম্ভব হয়েছিল. দেখা গিয়েছে যে, প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতাই পছন্দ করেন “বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসী হওয়া” নিয়ে সিনেমা. এর থেকে সামান্য কিছু কম লোক ভালবাসেন প্রেমের গল্প নিয়ে ছবি দেখতে.

একের তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা দেখতে ভালবাসেন সিনেমাতে কিছু একটা ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে রোমহর্ষক ঘটনা. প্রায় তত সংখ্যক লোকই – অন্যায়ের সঙ্গে লড়াই, সেই সব মানুষ, যাঁরা নিজেদের পথ খুঁজেছেন এই জীবনে, তাঁদের নিয়ে সিনেমা. একের চতুর্থাংশ মানুষ সিনেমার পর্দায় দেখতে চান তাঁদেরই মতো প্রত্যহের মানুষদের, যেমন তাঁরা নিজেরাই. একই সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে রয়েছে পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে গল্প, কঠিন পরিস্থিতিতে একে অপরকে সাহায্যের গল্প, কোন শক্তিমান বীরকে নিয়ে, যে সমস্ত বাধা পার হতে পারে আর নানা রকমের গোপন রহস্যময় বিষয় নিয়ে, যা সেই সিনেমার কুশীলবদের সঙ্গে একসাথে রহস্যোদ্ধার করা সম্ভব হয়. প্রতি একশ জন মানুষের মধ্যে মাত্র তিনজন বলেছেন যে, তারা একেবারেই সিনেমা ভালবাসেন না.

কিন্তু দেখা গিয়েছে যে, রাশিয়ার লোকরা এক ধরনের সিনেমা ভালবাসেন, অথচ মনে করেন যে, অন্য রকমের সিনেমা তোলার দরকার রয়েছে. সমাজ বিজ্ঞানীরা উত্তরদাতাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছেন কি ধরনের সিনেমা রাষ্ট্রের প্রাথমিক ভাবে সমর্থন করা উচিত্. পুরো অর্ধেক রুশ নাগরিক নিজেদের বিশ্বাস বলে ব্যক্ত করেছেন যে, এটা হওয়া দরকার রাশিয়া নিয়েই ছবি. দ্বিতীয় জায়গায় – রয়েছে কমেডি, আর তৃতীয় – বাচ্চাদের আর কার্টুন ফিল্ম.

এই প্রসঙ্গে অন্য একটি প্রশ্নোত্তরের তথ্য অনুযায়ী, যা বছর দুয়েক আগে করা হয়েছিল, দেখা গিয়েছে যে, একের তৃতীয়াংশ অল্প বয়সী রুশ লোক নিজেদের দেশে তোলা সিনেমা ভালবাসেন না. আর প্রায় অর্ধেক রুশ লোকের কিছু যায় আসে না, কোথায় কোন সিনেমা তোলা হয়েছে. আর কোথায় সিনেমা দেখা উচিত্ এই প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়ার লোকরা আবার করে নিজেদের পছন্দের কথা বলেছেন. বেশীর ভাগ লোকই ইন্টারনেট থেকে বিনা খরচে তা পেতে ভালবাসেন, সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার চেয়ে.

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী লোকদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর করে দেখা গিয়েছে যে, এই ধরনের দৃষ্টিকোণ শতকরা ৯০ জন মানুষের আর তাদের মধ্যে শতকরা ৭০ জন সরাসরি ইন্টারনেটে অনলাইন অবস্থায় সিনেমা দেখে থাকেন – তা ডাউনলোড করতেও চান না. রাশিয়ার লোকরা যে সব সাইট এই জন্য ব্যবহার করে থাকেন, তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে “ভ্কনটাক্টে” (http://vk.com/). একের তৃতীয়াংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করা লোক মাসে একবার অনলাইন সিনেমা দেখে থাকেন, আর অর্ধেক – সপ্তাহে একদিন করে, আর শতকরা ১৩ ভাগ লোক – রোজই দেখে থাকেন!