দেশের খেলাধূলার স্বাভাবিক বিকাশের গতি ধারাকে ব্যাহত করছে পাকিস্তানের সরকার পাকিস্তানের অলিম্পিক অ্যাশোসিয়েশনের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে – এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এবারে ঠিক করেছে পাকিস্তানের কমিটির সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করার. এক সাংবাদিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তথ্য যোগাযোগ দপ্তরের প্রধান মার্ক অ্যাডামস এই ঘোষণা করেছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

মার্ক অ্যাডামসের কথামতো, ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের মন্ত্রীসভার প্রতিনিধিরা ও পাকিস্তানের অলিম্পিক অ্যাশোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদর দপ্তর ল্যুসানে বর্তমানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলেন. কিন্তু পাকিস্তানের প্রশাসন ও অ্যাশোসিয়েশনের লোকরা এই আমন্ত্রণের কোন উত্তর পাঠান নি ও সদর দপ্তরে বৈঠকের সময়ে উপস্থিত হন নি. তাই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ঠিক করেছে পাকিস্তানের অলিম্পিক অ্যাশোসিয়েশনের সদস্যপদ আপাততঃ স্থগিত রাখার. এই পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ ও খেলাধূলার এক বড় অনুরাগী ফারুক আরশাদ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“এই পরিস্থিতি আজ এক বছরের বেশী সময় হল চলে আসছে. কথা হচ্ছে, পাকিস্তানে বাস্তবে একই সঙ্গে দুটি সমান্তরাল ভাবে চলা অলিম্পিক অ্যাশোসিয়েশন নিয়ে. এদের একটি সরকার নিযুক্ত করেছে ও অন্যটি আহ্বান করেছে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচনের অগ্রাধিকার নিয়ে. আর মনে হচ্ছে এবারে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ধৈর্যের সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে. আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের এক জায়গায় করে তাদের আলোচনায় বসাতে হবে ও এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বোঝাতে হবে, যা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নিয়মের সঙ্গে মিলবে, যেখানে অলিম্পিক কমিটির সদস্যদের নিয়োগ করা বারণ রয়েছে. কিন্তু একই সময়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিরও উচিত্ ছিল আরও বেশী দেখে শুনে কাজ করার, বেশী ধৈর্য দেখিয়ে- কারণ এখানে কোন আলাদা সদস্যের কথা হচ্ছে না, বরং ১৮ কোটি পাকিস্তানের মানুষদের অলিম্পিক আন্দোলনের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা হচ্ছে. এটা অবশ্যই, দেশে খেলাধূলার বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নেতিবাচক ফল দিতে পারে ও আন্তর্জাতিক সমাজের চোখে পাকিস্তানকে হেয় করতে পারে”.

পাকিস্তানের পরিস্থিতি ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে, যাদের গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সাময়িক ভাবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও আন্দোলন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে. তখন ভারতের জাতীয় অলিম্পিক কমিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল. কিন্তু আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সেই নির্বাচন স্বীকার করে নি ও দাবী করেছিল নতুন করে নির্বাচনের, যা তারা মনে করবে ন্যায্য নির্বাচন ও অলিম্পিকের সনদের সঙ্গে যার কোন বিরোধ নেই.

একই সময়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ভারতীয় জাতীয় অলিম্পিক কমিটিকে নিজেদের তরফ থেকে দেওয়া অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে. তাছাড়া ভারতীয় খেলাধূলার কর্মীরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আয়োজিত বৃহত্তম খেলাধূলার প্রতিযোগিতা গুলিতে অংশ নেওয়া থেকে বাদ পড়েছে, আর খেলোয়াড়রা- জাতীয় পতাকা নিয়ে অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে পারবে না. একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের জন্যও. এই ভাবে অলিম্পিক থেকে বাদ পড়তে পারে এশিয়ার দুটি বৃহত্ দেশ, যাদের জনসংখ্যা প্রায় দেড়শো কোটি. ফলে দক্ষিণ এশিয়া খেলাধূলার বিকাশের ক্ষেত্রে এক বিশাল ক্ষতি করা হয়েছে ও সমগ্র আন্তর্জাতিক অলিম্পিক আন্দোলনেও.

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সিদ্ধান্তের মধ্যে পরস্পর বিপরীত ধরনের হয়েছে সেই সব খেলার সংখ্যাও, যা ২০২০ সালের অলিম্পিক প্রোগ্রামে থাকতে চলেছে. এই তালিকার মধ্যে থাকতে পারে পেন্টাথলন, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাইকেল রেস, কিন্তু সেই রকমের ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিকের খেলা যেমন কুস্তি, যা দিয়েই অলিম্পিকের খেলাই শুরু হয়েছিল, তা বাদ যেতে বসেছে. কুস্তি এটা একটা সবচেয়ে গণতান্ত্রিক খেলাধূলা, এটা করার জন্য বড় ষ্টেডিয়াম বা দামী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়ে না. উন্নতিশীল দেশ গুলিতে এই খেলা শুধুশুধুই এই ধরনের জনপ্রিয়তা পায় নি. আর শুধু তাই নয়. অনেক দেশই এই কারণে আগ্রহী যাতে এই খেলা অলিম্পিকের তালিকায় থাকে. এই খেলাতে অংশতঃ ভাগ নিয়ে থাকে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইরান, ভারত ও পাকিস্তানও.