দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইতে নতুন গতি এসেছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন দেশের পার্লামেন্টে এক আইনের খসড়া পাঠিয়েছেন, যা দিয়ে ঘুষ দেওয়া- নেওয়ার সাথে লড়াই সহজ হবে, আর তারই সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাও মজবুত করা যাবে.

এই আইনের ফলে বিদেশী কোম্পানী ও রাষ্ট্রীয় বণ্ড এবং শেয়ার সরকারি কর্মীরা রাখতে পারবেন না, তারই সঙ্গে বিদেশের ব্যাঙ্কেও কোন অ্যাকাউন্ট রাখা যাবে না. দেশের সরকারি কর্মীরা এই সব কাজ করতে পারবেন না, কারণ তা দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি করে. এই ব্যবস্থা একই সঙ্গে নেওয়া হতে চলেছে সরকারি কর্মীদের স্বামী, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের জন্যও. একই সঙ্গে এই দলিলে কিন্তু বিদেশে বাড়ীঘর থাকা নিয়ে কোন কথা বলা হয় নি. একটাই এই ক্ষেত্রে আলাদা করে বলা কথা রয়েছে যে, এই ধরনের সম্পত্তি আয় ব্যয়ের ব্যক্তিগত ঘোষণা পত্রে থাকতে হবে. রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক সরকারি কর্মীরা ছাড়াও, সমস্ত নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর প্রতিনিধি ও আর্থ-বিনিয়োগ ক্ষেত্রের কর্মীদেরও এই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, তাদের মধ্যে দেশের রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন ও তহবিলের কর্মীরাও রয়েছেন, যা রাষ্ট্রের সহযোগিতায় তৈরী করা হয়েছে. এই প্রসঙ্গে আইনের আওতায় পড়বেন না কূটনীতিবিদ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা, যারা দেশের বাইরে রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষার কাজে নিযুক্ত. এই দলিল দেশের জন্যই নীতিগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, মনে করেছেন রাশিয়ার রাজ্যসভার ডেপুটি স্পীকার আলেকজান্ডার তোরশিন, তিনি বলেছেন:

“প্রথমতঃ, - এটা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা মজবুত করার জন্য. যদি কোন লোকের বা তার নিকটাত্মীয়দের বিদেশে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও শেয়ার থাকে, তবে এটা তাদের উপরে চাপ সৃষ্টি করার উপায়. দ্বিতীয়তঃ, - এটা দুর্নীতি প্রতিরোধের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ. কারণ বড় দুর্নীতি সংক্রান্ত নকশার জাল শুধু রাশিয়ার সীমান্তের মধ্যেই আটকে থাকে না. খুবই বেশী করে বিদেশের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে. তার ওপরে যদি সরকারি কর্মচারী তার নিজের অর্থ রাশিয়াতেই রাখে, তবে সে নিজেই রাশিয়া অর্থনীতির প্রতি আগ্রহী হবে”.

এই আইন গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সরকারি কর্মী ও পার্লামেন্ট সদস্যরা বিদেশী শেয়ার বণ্ড ইত্যাদি বেচে দিয়ে, বাইরের দেশের ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য থাকবেন. তা না হলে, তাদের পদ থেকে সরে যেতে হবে. যাতে বেয়াড়া ধরনের সরকারি কর্মচারীরা এই ব্যাপারটা ভুলে গিয়েছেন বলে দেখাতে না পারেন, তাই তাদের পরীক্ষা করে দেখা হবে. এই ধরনের পরীক্ষা শুরু করার জন্য ইঙ্গিত হিসাবে দেশের নাগরিক সভা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রীয় সরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা এবং এমনকি সংবাদ মাধ্যমের খবরও হতে পারে. পরীক্ষা করে দেখা হবে না শুধু বেনামী চিঠি.

কোন সন্দেহ নেই যে, দুর্নীতি বিরোধী আইন খুবই প্রসারিত সমর্থন শুধু দেশের পার্লামেন্টেই পাবে না, বরং সমস্ত নাগরিকদের কাছ থেকেও পাবে.