১৩ই ফেব্রুয়ারী বিশ্ব রেডিও দিবস পালিত হচ্ছে. এই দিন ইউনেস্কো সংস্থার উদ্যোগে নির্দিষ্ট করা হয়েছে. প্রধান অনুষ্ঠান করা হচ্ছে ইউনেস্কো সংস্থার সদর দপ্তরে – প্যারিসে. এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম রেডিও সম্প্রচার সংস্থা গুলি আমন্ত্রিত, তার মধ্যে রয়েছে রেডিও রাশিয়া – বিশ্বের একটি প্রাচীনতম ও বৃহত্তম সংস্থা. এই স্টেশন অনুষ্ঠান প্রচার করা শুরু করেছিল আজ থেকে আশি বছরেরও বেশী আগে. এখন বিশ্বের সমস্ত মহাদেশে এই কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়ে থাকে ৪৪টি ভাষায়.

বিশ্ব রেডিও দিবস – এই উত্সব খুবই নবীন, ইউনেস্কো সংস্থা এই দিবস পালন শুরু করেছে মাত্র ২০১১ সাল থেকে. এই দিবস পালনের তারিখ হঠাত্ করেই ঠিক করা হয় নি – ১৯৪৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রসঙ্ঘের রেডিও স্টেশন কাজ করতে শুরু করেছিল.

বিশ্ব রেডিও দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান গী মুন তাঁর প্রেরিত ভাষণে বলেছেন যে, রেডিও মানুষকে আমোদিত করে, আলোকিত করে ও তথ্য সমৃদ্ধ করে, তারই সঙ্গে সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক পুনর্নির্মাণকে অগ্রগামী করে. বিশ্বের প্রায় শতকরা ৯৫ ভাগ লোক রেডিও শোনেন, এই কথা উল্লেখ করে ইউনেস্কো সংস্থার যোগাযোগ ও তথ্য সম্প্রচার বিভাগের প্রধান মির্তা লৌরেন্সো বলেছেন:

“রেডিও এখনও সবচেয়ে সহজলভ্য সংবাদ মাধ্যম হয়ে রয়েছে. তা আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী প্রান্তেও শোনা সম্ভব, রেডিওর সাহায্যে লোকে, যারা লিখতে বা পড়তে পারে না, তারাও তথ্য জানতে পারেন. বিপর্যয়ের মুহূর্তে রেডিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্বন্ধে সাবধান করে দেওয়া ও ত্রাণ অভিযানের সময়েও. ইউনেস্কো সংস্থার জন্য বিশ্ব রেডিও দিবস – এটা এক রকমের সেই সুফলের সম্বন্ধেই স্বীকার করে নেওয়া, যা রেডিও মানুষকে আজ একশ বছরেরও বেশী সময় ধরে দিয়ে চলেছে”.

ইউনেস্কো সংস্থার সদর দপ্তরে বিশ্ব রেডিও দিবস উপলক্ষে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে. গোল টেবিল বৈঠকের সময়ে রেডিও সম্প্রচার কোম্পানী গুলির প্রতিনিধিরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আজকের দিনে রেডিওর সামনে থাকা বাস্তব সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করছেন. তিনটি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে: শিশু ও কিশোরদের জন্য রেডিও, রেডিও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্যের তরঙ্গে প্রচারের ভবিষ্যত.

বিশ্ব রেডিও দিবস উপলক্ষে বৃহত্তম সব প্রচার কোম্পানী গুলির পক্ষ থেকে ইউনেস্কো সংস্থার সদর দপ্তরের হলে মিনি স্টুডিও তৈরী করা হয়েছে. সারা দিন ধরেই বিশ্বের তথ্য প্রসার ক্ষেত্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখান থেকে অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছেন. ইউনেস্কো সংস্থার চার দেওয়ালের মধ্যে এটা প্রথমবার হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে সংস্থার প্রতিনিধি পলিনা কভালিয়েভা বলেছেন:

“সারা বিশ্ব থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের কাজে ব্যস্ত রেডিও কোম্পানীগুলি এখানে একে অপরের গায়ে গা লাগিয়ে রয়েছেন, যেমন বিবিসি, চিনের আন্তর্জাতিক রেডিও, স্পেন, মন্টে কার্লো, রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল, রেডিও ওরিয়েন্ট আর রেডিও রাশিয়াও... এটা একটা বিরল ঘটনা, যা প্রথমবার হচ্ছে ইউনেস্কো সংস্থার মধ্যে. আমরা এমন করতে চেয়েছি যে, সারা বিশ্বের থেকেই এখানে যেন প্রতিনিধিরা থাকেন. এটা করতেও পারা গিয়েছে. আমাদের প্রধান কাজ করতে এটাই সুবিধা করে দেবে – আজকের দিনে রেডিওর সংজ্ঞা সম্বন্ধে সমাজের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারা যাবে ও পরবর্তী কালে বিশ্বে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যারা রেডিও সম্প্রচার করছেন, তাদের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ করে দেওয়া যাবে”.

ইউনেস্কো সংস্থায় বিশ্বাস করা হয় যে, বিশ্ব রেডিও দিবস সকলকেই ঐক্যবদ্ধ করবে: তা যেমন বৃহত্ রেডিও সম্প্রচার কোম্পানী গুলিকে, তেমনই স্থানীয় রেডিও স্টেশন ও এমনকি স্রেফ যাঁরা সারা বিশ্বে রেডিও ভালবাসেন, তাঁদেরকেও.