রাশিয়াতে প্রশিক্ষণের জন্য তৈরী যুদ্ধবিমান ইয়াক – ১৩০ এর যুদ্ধের কাজে আরও উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে. ভবিষ্যতে এই বেশী করে উপযুক্ত করে তোলা যন্ত্র প্রাথমিক ভাবে রাশিয়া সহ বহু দেশের বিমান বাহিনীর সম্ভবনা ও প্রশিক্ষণের গুণমান বৃদ্ধি করতে পারবে.

১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে সৃষ্ট ইয়াক – ১৩০ ধরনের বিমান সোভিয়েত দেশ খণ্ড হয়ে যাওয়ার পরে প্রথম ও শেষ বেশী সংখ্যায় তৈরী করার উপযুক্ত সামরিক বিমান হয়েছে. এখন এই ধরনের বিমান তৈরীর গতি বৃদ্ধি করা হচ্ছে. ২০১২ সালে রাশিয়ার বিমান বাহিনী এই ধরনের ২৫টি বিমান পেয়েছে, যাকে বলা যেতে পারে একটি উল্লেখযোগ্য সূচক বলেই.

একই সঙ্গে এমন সময়ও ছিল, যখন ইয়াক – ১৩০ এর ভাগ্য প্রশ্নবোধক হয়েছিল – তা যেমন এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপযুক্ত মিগ – এটি বিমানের উপস্থিতি, তেমনই দেশের বিমান নির্মাণ শিল্পের সব মিলিয়ে হালের উপরেও নির্ভর করেছিল. ইতালির আয়েরমাচ্চি কোম্পানীর সঙ্গে সহযোগিতার পর্বকেও এখন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় না, যারা একসময়ে এই প্রকল্পের সহযোগী হয়ে প্রযুক্তি সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছিল ও তারপরে তাদের নির্মাণ কর্মীদের সঙ্গে রাশিয়ার কোম্পানীর পথ আলাদা হয়ে গিয়েছিল. আর আজ এই ইতালির কোম্পানী চেষ্টা করছে বাজারে এম- ৩৪৬ নাম দিয়ে ইয়াক – ১৩০ এর মতই, যেন যমজ ভাই ও একেবারেই কাছাকাছি উড়ানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত গুণমান সম্পন্ন এক বিমান আনতে. ইয়াক – ১৩০ এই সময়ের মধ্যেই বেশী পরিমানে উত্পাদন করা শুরু হয়েছে ও তার ইতালির ভাইয়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে আর সম্ভবনা রয়েছে এর জন্য বড় আকারের বায়না পাওয়ার, তার মধ্যে এই কারণেও যে, এই বিমানের প্রযুক্তিগত ক্ষমতারও নিয়মিত ভাবে উত্কর্ষ সাধন করা হচ্ছে, যা আজ ইরকুত কর্পোরেশন, যারা এই বিমান নির্মাণ করেছে, সেই সংস্থা করছে.

ইয়াক – ১৩০ বিমানের বৈশিষ্ট্য প্রথম থেকেই ছিল এটার বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিমানের প্রযুক্তিগত গুণমানের পুনরাবৃত্তি করার ক্ষমতা, তা নির্ভর করেছে এই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কি রকম ভাবে বেঁধে দেওয়া হবে, তার উপরে. এর ফলে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে লড়াইতে নামার জন্য তৈরী যুদ্ধ বিমানের ব্যবহার কম করতে হবে, যেগুলির উড়ানের জন্য ঘন্টা প্রতি খরচ অনেক বেশী হয়ে থাকে. কিন্তু এই বিমানের ক্ষমতা অনেক প্রসারিত. যে তথ্য রয়েছে, তা অনুযায়ী বর্তমানে ইরকুত কর্পোরেশনে এই বিমান নিয়ে যে সব কাজ করা হয়েছে, তার ফলে ইয়াক – ১৩০ ধরনের বিমানের ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বাড়ানো সম্ভব হয়েছে. এই যন্ত্রের যুদ্ধের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে দুটি অধ্যায়ে. প্রথমে ইয়াক – ১৩০ ধরনের বিমান আনা হবে বিমানের রেডিও নির্ণয় ও লক্ষ্য স্থির করার ব্যবস্থার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে. দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই বিমান পাবে এক রেডিও নির্ণয় স্টেশন. নতুন যন্ত্রপাতি ইয়াক বিমানকে অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশী সুযোগ করে দেবে, যেমন কিছু আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপের উপযুক্ত খা– ৩১ ও খা- ৩৮ ধরনের রকেটও এতে লাগানো সম্ভব. এক দিক থেকে এটা ইয়াক – ১৩০কে আঘাত হানার বিমান হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে, আর অন্য দিক থেকে – এই ধরনের সুযোগ থাকার জন্য প্রশিক্ষণের পর্যায়ে খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে, বিশেষত খুব একটা বড় বিমান বাহিনী যাদের নেই, সেই সব দেশের জন্য. আজকের দিনে এই ধরনের অস্ত্র যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ গুণমানের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে হয়. এটার জন্য দরকার হয় যুদ্ধবিমান সার্ভিস করানোর জন্য উপযুক্ত রকমের কেন্দ্র খুলতে হয়ে থাকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও এটা যুদ্ধের উপযুক্ত বিমানের সংখ্যা বাহিনীতে কমিয়ে দেয়. তাছাড়া, আগেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ বিমানের ঘন্টা পিছু ওড়ার খরচ এই প্রশিক্ষণের উপযুক্ত বিমানের চেয়ে অনেক গুণ বেশী. ফলে বিমান বাহিনীতে ইয়াক – ১৩০ থাকলে, অন্তত পক্ষে, তার কিছু এই ধরনের যন্ত্রপাতি দিয়ে সমৃদ্ধ করা হলে, তা এই বিমানের জন্য যারা বায়না করবেন, তাদের পাইলটদের খুবই উচ্চ ভাবে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য প্রকৃত যুদ্ধ বিমানের ওড়ার ক্ষমতা খরচ না করেই তা করা সম্ভব হবে. এই ধরনের সমস্ত রকমের কাজ করানো যাওয়াতে, রাশিয়ার এই যন্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধ বিমানের বাজারে একটি সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক প্রস্তাব হিসাবেই উপস্থিত হতে পেরেছে. ইয়াক – ১৩০ নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেশ কিছু দেশ থেকে, তার মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, বাংলাদেশ, আলজিরিয়া, ফিলিপাইনস ও অন্যান্য সব দেশ.