প্রতিবাদ দমনের লড়াইতে কম করে হলেও ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্য আসাম থেকে খবর এসেছে. “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” সংবাদপত্র জানিয়েছে যে, গোয়ালপাড়া জেলায়, যা আসামের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র গৌহাটি থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে, সেখানে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষ হয়েছে. শহরে পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য. বোড়ো ও গারো প্রজাতির লোকদের সমর্থন পেয়ে স্থানীয় হাসঙ্গ ও রাভাস প্রজাতির লোকরা এখানে প্রশাসনের নির্দেশ মানতে না চেয়ে প্রতিবাদ করেছিল ও চেয়েছে ভারত থেকেই আলাদা হয়ে যেতে. পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে থামানোর জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে. পুরুষ ও মহিলাদের এক বড় দল লোহার রড, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে এই এলাকার পঞ্চায়েত নির্বাচনের কেন্দ্র আক্রমণ করেছিল, ভোটের দিনে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

গণ্ডগোল শেষ করার জন্য শক্তি প্রয়োগ করে তা থামানো যেতে পারে. কিন্তু বিরোধের কারণ পুলিশ বা সামরিক বাহিনী প্রয়োগ করে করা যাবে না. আসাম স্বাধীন ভারতের সবসময়েই এক স্নায়ুকেন্দ্র হয়েই রয়েছে. এই রাজ্য খনিজ সম্পদে ধনী. আসামে ভারতের শতকরা পঞ্চাশ ভাগ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদন করা হয়ে থাকে. বিখ্যাত আসামের চা ও পাট এখান থেকে রপ্তানীর এক প্রধান জিনিষ. কিন্তু রাজ্যের ধনী ব্যবসায়ীরা বেশীর ভাগই ভারতের অন্যান্য সমৃদ্ধ রাজ্য থেকে আসা লোক ও তাঁরা নিজেদের ধন সম্পত্তি এই রাজ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে রাখতেই পছন্দ করেন. আর স্থানীয় জনতা আজও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে কৃষিকার্যের সঙ্গেই বেশী করে যুক্ত, ব্যবসা ও শিল্প আগত লোকদের হাতে থাকায় তাঁদের নাগালের বাইরে. এটাই বেশ কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে বলতে বাধ্য করেছে আসামকে ভারতের “আভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিকতার শিকার” বলে.

রাজ্যের সমস্যা সমাধান ও প্রসারিত ক্ষেত্রে চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রয়োজন পড়েছে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করার, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“এই সমস্ত সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে শুধু একসাথে করা রাজনীতির কাঠামোর মধ্যেই. প্রশ্ন হল যে, এই এলাকা ও অন্যান্য সমস্যা সঙ্কুল জায়গায় এই ধরনের রাজনীতি করার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নেতৃত্বের, যারা খুবই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা – অর্থনৈতিক থেকে শক্তি প্রয়োগ পর্যন্ত নিতে পারবেন. জোটের রাজনীতির মধ্যে এটা করা জটিল, বর্তমানের সরকার যথেষ্ট দুর্বল. তারা ইতিমধ্যেই নির্বাচন পূর্ব প্রচারের লড়াইতে অবতীর্ণ হয়েছে, আর এখন যে কোন ধরনের জোর করে নেওয়া সমাধানই বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে সমালোচনার কারণ হতে পারে ও ভারতে নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রভাব পড়তে পারে”.

পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে ভোট কেন্দ্রে আক্রমণ – ভারতের গণতন্ত্রের প্রতিই সরাসরি হুমকি. কারণ ভারতের অনেক আইনজীবি যেমন মনে করেছেন যে, পঞ্চায়েত ভারতের সাধারন মানুষের স্তর পর্যন্ত গণতন্ত্রকে নিয়ে যায়.

ভারতীয় গণতন্ত্রের পিতা মহাত্মা গান্ধী কি এমনটি চেয়েছিলেন? তিনি সর্বক্ষণ বলে গিয়েছেন “সারা বিশ্বই – আমার পরিবার”. গান্ধী বিশ্বাস করতেন যে, মানব সমাজ, যারা আজ নানা দেশে ও ভৌগোলিক এলাকায় আবদ্ধ রয়েছে, তারা এক সুন্দর দিনে সকলে একই পরিবারে যোগ দেবে, বুঝবে যে, তাদের একটাই আত্মা, আর সমস্ত লোকই একে অপরের ভাই. গান্ধী মনে করতেন যে, প্রজাতি গুলির মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার ইতি করার জন্য প্রয়োজন হবে সমস্ত জনগনের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে, নগরায়নের গতির সঙ্গে, খাদ্য সামগ্রীর যোগান এবং অন্যান্য বস্তু জাগতিক সম্পদের সমৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজন রাজ্য গুলির মধ্যে বিকাশের ভারসাম্য রক্ষা করা.

সব দেখে শুনে মনে হয়েছে সেই সমস্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন দিকে অভিমুখী সামাজিক শক্তি গুলির স্বার্থ রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সহাবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতা খোঁজার জন্য আহ্বান করা হয়েছে, তা ভারতে আরও বেশী নিয়মিত ভাবেই এবারে ব্যর্থ হচ্ছে. সব স্তরেই সমঝোতা করতে না চাওয়া, বিরোধী পক্ষের লোকদের যুক্তি ও অবস্থান গ্রাহ্য করতে না চাওয়া সমাজের ভিত্তিকেই দুলিয়ে দিয়েছে, হিংসার বৃদ্ধি হচ্ছে, বাড়ছে চরমপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব.