সিআইএ সংস্থার নতুন প্রধানের পদে প্রার্থী হয়ে জন ব্রেন্নান আমেরিকার পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহারের স্বপক্ষে ভাষণ দিয়েছেন. ব্রেন্নান জোর দিয়ে বলছেন যে, পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহার সম্পূর্ণ ভাবেই আইন সঙ্গত, খুবই ফলপ্রসূ ও নৈতিকতার নিয়মের কোন অপব্যবহার হয় না. তাঁর সিআইএ সংস্থার ডিরেক্টর পদে আগামী নিয়োগকে অনেকেই দেখছেন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অন্যান্য দেশে ড্রোন ব্যবহারের কাজ কারবার চালিয়ে যাওয়া বলেই. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন ব্রেন্নানকে দেখা হয়ে থাকে সন্ত্রাসবাদীদের একেক জন করে আমেরিকার পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহার করে ধ্বংস করার নীতির প্রধান স্থপতি হিসাবেই. তিনি রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের প্রথম সরকারি মুখপাত্র, যিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ড্রোন বিমান রকেট আঘাত হানার জন্য পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সোমালি, লিবিয়া এই সব দেশে ব্যবহার করে. ব্রেন্নানের নিয়োগের সঙ্গে একই সাথে প্রকাশিত হয়েছে যে, সৌদি আরবে আমেরিকার ড্রোন বিমানের গোপন ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে তিনি এক সময়ে সিআইএ সংস্থার বিদেশী গুপ্তচর বিভাগের প্রধান ছিলেন. ব্রেন্নান এর- রিয়াদের সঙ্গে এই ঘাঁটি খোলার বিষয়ে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন আলোচনার সময়ে.

ফেব্রুয়ারী মাসের শুরুতে এনবিসি নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের সাইটে এক গোপন স্মারক পত্র বের হয়েছিল, যাতে সন্ত্রাসবাদী কাজ কারবারের সঙ্গে যুক্ত এমন সন্দেহ করা আমেরিকার নাগরিকদের ড্রোন বিমান ব্যবহার করে হত্যা করার কাজকে আইন সঙ্গত বলে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছিল, এমনকি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করার মতো অপরাধ না করে থাকলেও.

ড্রোন ব্যবহারের যারা বিরুদ্ধে, তারা মনে করেন এই ব্যবহার নৈতিকতার বিরুদ্ধে. সেনেটে এই নিয়ে শুনানী শুরু হয়েছে ড্রোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ দিয়েই. এটা করতে উদ্যোগী হয়েছিল মহিলা যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীরা, যারা সেনেট হলে ঢুকে পড়েছিল. একজন প্রতিবাদকারিণী একটি পোস্টার ধরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল: “ব্রেন্নান – সামরিক অপরাধী”.

আমেরিকার লোকদের এই ড্রোন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্য দেশগুলিতে আঘাত হানার বিষয় আরও বেশী করেই প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ড্রোন বিশেষজ্ঞ দেনিস ফেদুকিনভ বলেছেন:

“সিআইএ সংস্থার ড্রোনের কাজ কারবার যথেষ্ট ফলপ্রসূ বলে মনে করা যেতে পারে. কিন্তু এই প্রশ্নের আরও একটা দিক রয়েছে. এই ধরনের আঘাত থেকে, এমনকি তা একেবারে নির্দিষ্ট জায়গা লক্ষ্য করে করা হলেও প্রায়ই তার ফলে শান্তিপ্রিয় মানুষ মারা পড়ছেন. আমি বলতে পারবো না যে, পাইলট বিহীণ ও পাইলট সমেত হেলিকপ্টার অথবা এরোপ্লেন ব্যবহার করার মধ্যে কোনও বড় তফাত আছে কি না. তবে তফাত শুধু একটাই যে, একটাতে পাইলট থাকে বিমানের ভিতরে ও অন্যটিতে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে”.

এখন অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৪ সালের জুন মাস থেকে শুরু করে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ড্রোন ব্যবহার করে করা আকাশ পথে হানা থেকে শুধু পাকিস্তানেই মারা গিয়েছে তিন হাজারেরও বেশী মানুষ. তাদের মধ্যে ৮০০ জন সাধারন লোক, আর ২২০ জন শিশু. আমেরিকার পাইলট বিহীণ বিমান... “দেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করে ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”, এই কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত শেরি রহমান. “এই ধরনের অপারেশন করা দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে ভীতি প্রদর্শন করে”.

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের ব্যবহার করা যেতে পারে না, বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. রাশিয়া ও চিন আর তারই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য দেশ পাকিস্তান রাষ্ট্রসঙ্ঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের কাজ বিশ্লেষণ করে দেখার জন্য প্রশ্ন উত্থাপন করেছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘ বিশেষ তদন্ত করে দেখবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সোমালি ও প্যালেস্তিনীয় স্বয়ং শাসিত এলাকায় ড্রোন ব্যবহারের নীতি সঙ্গত হওয়া নিয়ে. এই তদন্তের সময়ে বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হবে নিরীহ নাগরিকদের মধ্যে যারা নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বিষয়ে. এই তদন্ত কমিশনের প্রধান হয়েছেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের অ্যাডভোকেট ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ প্রবন্ধকার বেন এম্মেরসন.