মার্কিন কংগ্রেসের সেনেটে সিআইএ সংস্থার নতুন ডিরেক্টরের পদে জন ব্রেন্নানের নিয়োগ নিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে. গোয়েন্দা দফতরের এই ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মী, সেই গদিতে বসতে চলেছেন, যেখানে আগে বসতেন জেনারেল পেত্রেউস. বিশেষজ্ঞরা সামরিক কর্মীর জায়গায় অসামরিক লোকের নিয়োগের মধ্যে ওয়াশিংটনের সন্ত্রাস বিরোধী সংগ্রামে অগ্রাধিকার কোন দিকে তা দেখতে পেয়েছেন. এখানে কথা হচ্ছে সর্বাগ্রে সিআইএ সংস্থাকে সারা বিশ্বের সমস্ত সন্ত্রাস বাদী গোষ্ঠীর সাথে গোপন লড়াইয়ের বিষয়ে সিআইএ সংস্থাকে বড় ভূমিকা দেওয়া.

ব্রেন্নান বারাক ওবামার সন্ত্রাসের মোকাবিলা সংক্রান্ত বিষয়ে সহকারী ছিলেন সেই ২০০৯ সাল থেকেই. ১১ই সেপ্টেম্বর ২০১১ সালের পর থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় জাতীয় কেন্দ্রের প্রধান ছিলেন. আরবি ভাষায় তাঁর দখল রয়েছে. ব্রেন্নান হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ওয়াশিংটন যে সব লোককে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করে, তাদের হত্যার জন্য পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান পাঠানো নিয়ে স্ট্র্যাটেজি তৈরী করেছেন.

সিআইএ সংস্থার কর্তার পদে ব্রেন্নানের নিয়োগ স্পষ্টই দেখিয়ে দিচ্ছে এবারে কোন দিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে চলেছে, এই রকম মনে করে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে রাশিয়া নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক ফিওদর লুকিয়ানভ বলেছেন:

“এই সবই ওবামা প্রশাসনের একটা মিলিত নীতির সঙ্গে খাপ খেয়ে যাচ্ছে. বিশেষ করে রাষ্ট্রপতিত্বের দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষেত্রে. তার আরও কম খিদে রয়েছে বড় মাপের কোন কাজ কারবারের দিকে, নানা রকমের অনুপ্রবেশ ও যুদ্ধ সম্বন্ধে. প্রসঙ্গতঃ, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানের পদে নিয়োগ প্রার্থী হেগেল, পররাষ্ট্র সচিব কেরি ও ওবামার নিজের সম্বন্ধেও বলা চলে. আর তাই পাইলট বিহীণ বিমান প্রয়োগে অপারেশন ও একেবারে নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত করার বিষয়েই বেশী করে মনোযোগ দেওয়া হতে চলেছে. এই অর্থে খুবই প্রতীকী হয়েছে যে, সিআইএ সংস্থার প্রধানের পদে এখন নিযুক্ত হতে চলেছেন সেই জন ব্রেন্নান”.

ব্রেন্নানের নিয়োগকে যে সমর্থন করা হবে, তা নিয়ে প্রায় কারোরই কোন রকমের সন্দেহ নেই. কিন্তু তাঁর প্রার্থী পদ নিয়ে শুনানি সহজ হবে বলে আশা নেই. ব্রেন্নানকে অনেকদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, তিনি গুয়ান্তানামো জেলে বন্দীদের উপরে অত্যাচারের পক্ষপাতী ও সিআইএ সংস্থার বহু গোপন কারাগার তৈরী করার পেছনে রয়েছেন. এই অভিযোগের জন্যই ওবামাকে ২০০৮ সালে ব্রেন্নানকে বর্তমানের সেই পদেই নিয়োগ থেকে বিরত থাকতে হয়েছিল.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রক্ষা সংস্থাগুলি পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনাকেই বলে থাকেন হত্যার লাইসেন্স বলে.

হোয়াইট হাউস এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ও জোর গলায় বলছে যে, আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের কাজ কারবার – সম্পূর্ণ ভাবেই করা চলতে পারে. এই বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে হোয়াইট হাউসে ৬ই ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র ও তথ্য সচিব জে কার্নি বলেছেন:

“আমরা সেই ধরনের আঘাত হেনে থাকি, কারণ তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই বিপদ কমানোর জন্য প্রয়োজন, চক্রান্ত আটকানোর জন্য ও আমেরিকার মানুষদেরই জীবন রক্ষা করার জন্য. এই ধরনের আঘাত আইন সঙ্গত, নৈতিক ও বুদ্ধি সঙ্গত”.

মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা গুলি কিন্তু এমনকি সেই আমেরিকাতেই একেবারে অন্য মত পোষণ করে থাকে. এই রাজনীতি আমেরিকার সংবিধানেরই ভিত্তি মূলক ধারাকে খণ্ডন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, প্রশাসনের অধিকার নেই কোন আইন সঙ্গত ভিত্তি ছাড়া নাগরিকের প্রাণ হরণ করার. এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার নাগরিক স্বাধীনতা সঙ্ঘের হিনা শামসি, তিনি বলেছেন:

“আমরা খুবই বিপজ্জনক পূর্ব ঘটনা তৈরী করে দিচ্ছি. আমরা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের আমেরিকার ও অন্য দেশের নাগরিকদের হত্যা করার অধিকার দিচ্ছি. এই ক্ষেত্রে কোন রকমের আদালতে এর জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি নিয়ে কোন সঙ্গতি নির্দিষ্ট করা হচ্ছে না. কোন রকমের আদালতেই দেখতে চাওয়া হচ্ছে না যে, এই ধরনের হত্যা করার জন্য প্রামাণ্যের সংখ্যা কি যথেষ্ট”.

আমেরিকাতে ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে সিআইএ সংস্থার গোপন জেল সংক্রান্ত রিপোর্টের সঙ্গে এবারে শুনানি এক সাথে করা হচ্ছে. এই পরিকল্পনা সমর্থন করেছে বলে জানা গিয়েছে সব মিলিয়ে ৫৪টি দেশ. ব্রেন্নানের প্রার্থী পদ নিয়ে আলোচনা, তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কয়েক দিন ধরেই টেনে নিয়ে যাওয়া হতে পারে.