রাশিয়ার অন্যতম বৃহত ব্যক্তিগত শিল্পসংগ্রহের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে. ঐ শিল্পসংগ্রহের মালিক ছিলেন এ্যাভানগার্ড শিল্পী এলিয়া বেলুতিন ও তার পত্নী নিনা মোলেভা. পশ্চিম ইউরোপের ছবি, ভাস্কর্য ও প্রাসাদের আসবাবপত্রের নজিরবিহীন ঐ সংগ্রহ বিনাশর্তে রাষ্ট্রকে দান করা হয়েছে. ওর মূল্য ২০০ কোটি ডলার, কিন্তু রাষ্ট্রকে দান করা হয়েছে বিনামূল্যে.

২০০ টিরও বেশি ছবির ক্যানভাসঃ লেওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, তিতসিয়ান, রুবেন্স, রেমব্র্যান্ডট, ভ্যান ডেইক, এল গ্রেকো---১৫-১৮ শতাব্দীর ভাস্কর্য ও আসবাবপত্র. এই সংগ্রহে জমা আছে সেইসব শিল্পসামগ্রী, যা এলিয়া বেলুতিন ও নিনা মোলেভাদের পরিবারদুটি কয়েক প্রজন্ম ধরে ক্রয় করেছিল. দম্পতি সারাজীবন ধরে স্বপ্ন দেখতেন ঐ সংগ্রহের ভিত্তিতে মিউজিয়াম খোলার, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি. এক বছর আগে সুবিদিত শিল্পী, রুশী এ্যাভানগার্ড ঘরানার দিকপাল শিল্পী বেলুতিন প্রয়াত হয়েছেন. তার মৃত্যুর পরেরদিনই বিধবা পত্নী রাশিয়া রাষ্ট্রের স্বপক্ষে উইল করে দিয়েছেন ঐ সংগ্রহ. উইলের শর্ত অনুযায়ী – সংগ্রহটি ভাগ করা নিষিদ্ধ. এর ভিত্তিতে মিউজিয়াম খোলার কথা.

পরিবারদ্বয়ের এই শিল্পসংগ্রহের ইতিহাসের বয়স ১৫৫ বছর. প্রথম সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলেন এলিয়া বেলুতিনের পিতামহ – ইভান গ্রিনিয়োভ. ১৭-তম জন্মদিনে কিশোর ইভানকে একটা বই উপহার দেওয়া হয়েছিল, যেখানে পশ্চিম ইউরোপের চিত্রকলার বর্ণনা লিপিবদ্ধ ছিল, বলে বলছেন নিনা মোলেভা রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া ইন্টারভ্যিউয়ে. –

ইলাস্ট্রেশন তখনও ছিল না – শুধু পশ্চিম ইউরোপের চিত্রকলার লিখিত বিবরনী ও শিল্পীদের অটোগ্রাফের ফ্যাক্স করা নকল কপি. বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে ইভান আবিষ্কার করে তাদের বাড়িতে টাঙানো একটা ছবির ওপর অটোগ্রাফ. সেই থেকে মানুষটি আর কিছু ভাবেনি, শুধু ছবি সংগ্রহের নেশা. বছর ত্রিশ বয়স নাগাদ ইভান গ্রিনিয়োভ হয়ে উঠেছিলেন বিখ্যাত থিয়েটার-চিত্রশিল্পী. একটা নাটকের স্টেজ সাজিয়ে তখন ১০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা আয় করা যেত. আর এক সিজনে বলশোই ও মালি থিয়েটারের মঞ্চে ১১ টা নাটকের মহরত হতো.

শীতকালে ইভান অর্থ জমাতেন আর গ্রীস্মকালে ইউরোপে পাড়ি দিতেন নীলামে পশ্চিম ইউরোপের চিত্রকলা কেনার উদ্দেশ্যে. তার সহকর্মী শিল্পীরা পরামর্শ দিত, কি কেনা উচিত, সেই সম্পর্কে. সুপুরুষ গ্রিনিয়োভ বিয়ে করার জন্য তাড়াহুড়ো করেননি. স্ত্রীর পেছনে খরচা আছে, আর আমার ছবির জন্য পয়সার প্রয়োজন – বলতেন তিনি. তিনি মিউজিয়ামের জন্য বাড়ি বানিয়ে, তারপর ৭৩-বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন. ১৯০৫ সালে জন্ম হল কন্যার – লিদিয়া গ্রিনিয়োভার. ১৯১৭ সালে, যখন বিপ্লব হল, তখন ইভান গ্রিনিয়োভ বুঝতে পারলেন, যে সবকিছু লুকানো আবশ্যক. তিনি মিউজিয়ামের বাড়ির চিলেকোঠায় শিল্পসামগ্রী লুকিয়ে রাখলেন. ১৯৪৯ সালে তাঁর নাতি এলিয়া বেলুতিনার হাতে এল ঐ সংগ্রহ. সংগ্রহ বেড়েই চললো. বেলুতিন ও মোলেভা দম্পতির অসংখ্য বন্ধুবান্ধব তাদের ছবি উপহার দিতেন. কিন্তু ঐ সংগ্রহের জন্য অবৈতনিক মিউজিয়াম খোলার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল. শুধু এতদিনে, দুর্ভাগ্যবশতঃ শিল্পীর মৃত্যুর পরে ঐ স্বপ্ন রুপায়িত হওয়ার সম্ভাবনার উদয় হয়েছে.