‘সোচি-২০১৪’ অলিম্পিকের মশাল নিয়ে রিলে দৌড় শুরু হতে আধবছরের সামান্য বেশি সময় বাকি রয়েছে. এখন পুরোদমে চলছে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করার কাজ. ১৪ বছরের বেশি বয়সের যে কোনো রুশবাসী মশালবাহী হতে পারে. শুধুমাত্র সংগঠকদের সরকারী সাইটে আবেদনপত্র জমা দিলেই হবে, আর সবচেয়ে যোগ্যদের বেছে নেবে অলিম্পিক সংগঠন কমিটির পৃষ্ঠপোষক – কোকা-কোলা কোম্পানী.

অংশ নেবে ২০১৪ জন. সবচেয়ে সক্রিয়, সদর্থক, স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান ও দুনিয়াকে ভালোর দিকে বদল করতে আগ্রহী যারা. এখন তারা সাইটে তাদের ফোটো ঝোলাচ্ছে, খেলাধুলার প্রতি তাদের ভালোবাসা সম্পর্কে ও কেন মশালবাহক হওয়া তাদের জন্য তাত্পর্যপূর্ণ – সে সম্পর্কে লিখছে. বলা দরকার, যে প্রার্থীদের মধ্যে শুধু ক্রীড়াবিদ ও স্বাস্থ্যবান যুবকরাই নেই. অমূল্য মশাল বইতে পারে প্রৌঢ় ও প্রতিবন্ধী লোকেরাও. মস্কোর শিশু ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিত্সারত ১৫-বছর বয়সী ইয়েভগেনি সেরকম একজন প্রার্থী. কিশোরটি ক্যান্সারের সঙ্গে অদম্য লড়াই করছে. ওর একান্ত স্বপ্ন – নিজের শহর কুর্স্ক দিয়ে অলিম্পিকের মশাল বয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রমাণ করা, যে কঠিন অসুখ – মৃত্যুদন্ড নয়. চিকিত্সকেরা ইয়েভগেনিকে রিলে দৌড়ে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, আর যারা তাকে সমর্থন করে, তারা সাইটে তার স্বপক্ষে ভোট দিচ্ছে.

‘সোচি-২০১৪’ র রিলে দৌড় হবে অলিম্পিক ক্রীড়ার ইতিহাসে দীর্ঘতম. ২৯০০ শহর ও গঞ্জের মধ্যে দিয়ে মশাল নিয়ে যাওয়া হবে. মোট ৬৫ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হবে. রিলে দৌড় শুরু হবে মস্কোয় ২০১৩ সালের ৭ই অক্টোবর, আর অগ্নিশিখা ঐতিহ্যমতো প্রজ্বলন করা হবে গ্রীসে. প্রত্যেকদিন গড়ে ৫৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মশাল নিয়ে যাওয়া হবে রাশিয়ার দূরদূরান্তে প্রসিদ্ধ সব ঐতিহাসিক স্থানে, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে. দেশের একেবারে পশ্চিমপ্রান্ত থেকে শুরু করে মশাল যাবে পূর্বপ্রান্তের শেষ পর্যন্ত. মশাল নিয়ে আরোহন করা হবে ইউরোপের উচ্চতম গিরিশৃঙ্গ এলব্রুসে ও পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ বৈকালের একেবারে তলায় নিয়ে যাওয়া হবে তাকে. এমনকি অল্প সময়ের জন্য মশালটিকে মহাকাশেও নিয়ে যাওয়া হবে.

রিলে দৌড় চলবে ১২৩ দিন ধরে, যেটা হবে অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকালীন, সারা বিশ্ব অবলোকন করবে ঐ দৌড়. রিলে দৌড়ের দৌলতে বিভিন্ন দেশের দর্শকরা রাশিয়ার ইতিহাস সম্মন্ধে অনেককিছু জানতে পারবে. আমাদের দেশের প্রকান্ড আয়তন ও বসবাসকারী লোকজনের বহু বৈশিষ্ট্যতার আঁচ পাবে.