মালি রাষ্ট্রের সঙ্কট এখনও অতিক্রান্ত নয়, আলজিরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গীরা বর্তমানে জোটবদ্ধ হয়ে আছে. এই দেশে সামরিক অপারেশন সময় মতোই করা হয়েছে. কিন্তু এখনও সামনে রয়েছে অনেক জটিল অধ্যায় – স্থিতিশীলতা অর্জন করার. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন রুশ প্রজাতন্ত্রের তরফ থেকে মালির রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই দুলিয়ান.

দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি প্রধান বিষয় হয়ে রয়েছে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি. এখন প্রধান ভূমিকা যে সব দেশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে – মালি. প্রায় এক বছর আগে এই দেশের উত্তরাঞ্চলের দখল নিয়েছিল ঐস্লামিক জঙ্গীরা. তারা সেখানে সশস্ত্র অবস্থায় এসেছিল লিবিয়া থেকে, যেখানে তারা মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসন ধ্বংস করার বিষয়ে অংশ নিয়েছিল. মালি দেশের রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই দুলিয়ান মনে করেন যে, ফরাসী সেনা বাহিনী এনে তাদের ধ্বংস করার কাজ সময়মতোই হয়েছে. কিন্তু এই দেশের চরমপন্থী গোষ্ঠী গুলি তাঁর মতে এখনও খুবই শক্তিশালী. তিনি আরও বলেছেন:

“এখন পর্যন্ত তিনটি প্রধান আঞ্চলিক কেন্দ্র মুক্তি পেয়েছে. এই কথা সত্য যে, কিদাল এলাকায় এখনও যুদ্ধ চলছে. এখন জঙ্গীদের সবচেয়ে বেশী লোক রয়েছে আলজিরিয়ার সঙ্গে মালির সীমান্ত এলাকায়. সেই সব জায়গায় সন্ত্রাসবাদী লোক ধ্বংস করার কাজ করতে অনেক দিন লেগে যাবে. চরমপন্থীরা অংশতঃ লুকিয়ে পড়েছে খুবই স্বল্প চেনা সব জায়গায়, যা এই দেশের উত্তরে বহুল পরিমানে রয়েছে. অংশতঃ, তারা পার্শ্ববর্তী দেশ গুলিতে চলে গিয়েছে, ধারণা করা হয়েছে, মাউরিটানিয়া ও নিগের দেশে. তারা অপেক্ষা করে রয়েছে নতুন করে দল পাকানোর ও আবার নিজেদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার”.

আলেক্সেই দুলিয়ান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়া ২০৮৫ গ্রহণের বিষয়ে সমর্থন করেছে, যা মালি রাষ্ট্রে বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশের স্বাধীনতা দিয়েছে. এই কথা সত্য যে, প্রথমে মনে করা হয়েছিল যে, তা অন্য ভাবে হবে. এই সিদ্ধান্ত প্রথমে মালির সারিক বাহিনীকে পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেশ গুলির সামরিক বাহিনীর সহায়তায় প্রাথমিক ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিয়েছিল, সেখানে সরাসরি ফরাসী অংশগ্রহণের কথা ছিল না. সেখানে প্রথমতঃ চাওয়া হয়েছিল সামরিক বাহিনী পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা. কিন্তু মালি দেশের আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিবেশীরা সেই ধরনের সক্রিয়তা দেখায় নি, যা তাদের কাছ থেকে ফরাসীরা অপেক্ষা করেছিল – আর প্যারিস তার ফলে নিজেরাই কাজ করতে শুরু করেছিল.

এখন মালির প্রশাসনের হাতে দুটি কাজ রয়েছে – দেশের উত্তরাঞ্চল চরমপন্থী মুক্ত করে দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা. সামরিক অপারেশন শেষ হওয়ার পরে দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাকেই আলেক্সেই দুলিয়ান মনে করেছেন সব থেকে কঠিন কাজ হিসাবে, তাই এই প্রসঙ্গে যোগ করেছেন:

“এর গুচ্ছ অর্থনৈতিক, সামাজিক, আর প্রজাতিদের মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে. এই বিষয়ে সবার আগে রয়েছে আইন সঙ্গত প্রশাসন তৈরী করা নিয়ে – তা কোন অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসন নয়, বরং দেশের সংবিধান সম্মত. প্রয়োজন রয়েছে দেশে খুবই কম সময়ের মধ্যে নির্বাচন পর্ব সাঙ্গ করার. নির্বাচনের পরে দরকার পড়বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা গ্রহণের, দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা গুলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থার – দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক স্থির করা – তুয়ারেগ ও স্থায়ী বসবাসকারী জনগনের মধ্যে”.

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কথা অনুযায়ী, মালি রাষ্ট্রের প্রশাসন বুঝতে পেরেছে আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা ও এখনই তার আয়োজনের জন্য সাক্ষাত্কার চালিয়ে যাচ্ছে.