ভারতের বাঙ্গালোর শহরে আজ থেকে শুরু হওয়া আয়েরো ইন্ডিয়া ২০১৩ প্রদর্শনীতে দেখানো হতে চলেছে সম্ভাব্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বা যাকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান বলা হয়ে থাকে তার এক উড়ানের নমুনা. এই বিমান যৌথ ভাবে তৈরী করছে রাশিয়া ও ভারত. এই নতুন বিমান প্রথম বার দেখাতে চলেছে হিন্দুস্থান অ্যারোন্যটিকস্ লিমিটেড. এই বিষয়ে জানিয়েছেন কোম্পানীর ডিরেক্টর আর কে ত্যাগী. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

রাশিয়া ও ভারত খুব শীঘ্রই এই বিমানের সম্পূর্ণ ও শেষ গঠন নির্মাণের কাজ সাঙ্গ করবে স্টেলথ প্রযুক্তির ব্যবহার করে. তার পরে অপেক্ষা করা হবে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের.

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভিত্তি করা হয়েছে এর মধ্যেই তৈরী হয়ে যাওয়া ও পরীক্ষা করা রুশ একই ধরনের বিমানের উপরে, যা নাম দেওয়া হয়েছে টি – ৫০. রুশ- ভারত স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই যৌথ ভাবে বিমান নির্মাণের প্রকল্প এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এই কথা উল্লেখ করে রুশ স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ বলেছেন:

“বর্তমানের এই প্রকল্প ভারতীয় বিমান বাহিনীর সঙ্গে রুশ বিমান বাহিনীর যৌথ ভাবে কাজ করা শুরু করেছে, আর তারই সঙ্গে আগামী তিরিশ বছরের জন্য সহযোগিতার বন্ধনে বাঁধা হয়েছে দুই দেশের সামরিক শিল্প নির্মাণকে. আমি মনে করি যে, ব্রামোস প্রকল্পের সঙ্গে তা হবে এক ধরনের সামরিক – প্রযুক্তি বিষয়ে সেতু বন্ধনের প্রকল্প ও তা ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে বহু সহযোগিতার সূচনা করবে আর আমাদের ভারতীয়দের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে অন্য বহু প্রকল্প”.

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান একই সঙ্গে আঘাত হানা ও আকাশে যুদ্ধের উপযুক্ত বিমান হবে. উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী নানা রকমের বিশেষ ধরনের নির্মাণের বস্তু প্রয়োগের ফলে এই বিমানের অ্যারোডাইনামিক্স গঠন খুব কমই শব্দ তৈরী করবে ও অপটিক্স, ইনফ্রা রেড ও রাডার ব্যবহারে ধরা পড়ে যাওয়ার মতো সম্ভাবনা হবে খুবই কম. এটা এই বিমানের যুদ্ধের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হওয়া ও যেমন আকাশের, তেমনই জমি ও অন্যান্য লক্ষ্যে আঘাত করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে.

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরী করার জন্য সব মিলিয়ে খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার একশ কোটি ডলার. রাশিয়া ও ভারত এর জন্য অর্থ বরাদ্দ করার ব্যবস্থা করেছে সমান ভাগে – প্রত্যেক পক্ষেরই পঞ্চাশ ভাগ. এই চুক্তিতে প্রকল্প তৈরী, ভারতের নাসিক শহরে এর জন্য “ওজর” নামে কারখানার পরিকাঠামোর উন্নয়ন, যেখানে এই বিমানের প্রাথমিক নির্মাণ ও তার উড়ানের পরীক্ষা করা হবে, ইত্যাদি সব খরচই ধরা হতে চলেছে. এর কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, তারপরে হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস্ লিমিটেড পরিকল্পনা করেছে পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণের.

“এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে পরিকল্পনা মাফিক, আর আমরা আশা করি যে, এই রকমই হতে থাকবে এর পরেও” – ঘোষণা করেছেন নবম ভারতীয় আয়েরো ইন্ডিয়া প্রদর্শনী ২০১৩ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে সামরিক – প্রযুক্তি সহযোগিতা সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় পরিষেবার ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ফোমিন.

আজকের দিনে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান শুধু রয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনীর কাছেই. রুশ- ভারত যৌথ নির্মাণের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিষয়ে একচেটিয়া আধিপত্য নষ্ট হতে চলেছে.