বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা সাতশো কোটি ছাড়িয়েছে. ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানী মহল এখন দুই ভাগে ভাগ হয়েছেন. একদল প্রমাণ করতে চাইছেন যে, ক্রমাগত মানুষের সংখ্যা বাড়লে প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডারে টান পড়বে, তাই বেশীর ভাগ লোকেরই জীবনের মান খালি কমতেই থাকবে. অন্য দলের বিজ্ঞানীরা বরং উল্টো কথাই বলছেন, তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে কিছুটা শ্লথ গতির সূচনাকে. আর পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, নিয়মিত ভাবে বৃদ্ধির জায়গায় আসতে পারে দীর্ঘকালীণ কমে যাওয়া.

হিসেব করে দেখা গিয়েছে যে, ছয় থেকে সাতশো কোটি সংখ্যায় পৌঁছতে মানব সমাজের লেগেছে ১৩ বছর সময় আর তার আগের একশ কোটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এক বছর কম সময়. এর অর্থ হতে পারে যে, কোন একটা মাত্রা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পরে বিশ্বের জনসংখ্যা একটা ভারসাম্যে পৌঁছতে পারে, তবে সেটা কখন হবে, বলা সম্ভব হচ্ছে না. আর তারপরে হতে পারে যে, উল্টো পথে যাওয়া শুরু হবে.

এই ধারণার সততা প্রমাণিত হয়েছে উন্নত দেশ গুলিতে বর্তমানের পরিস্থিতিতে, এই কথা উল্লেখ করে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ইগর বেলোবরোদভ বলেছেন:

“আমাদের সমস্যা গুলি রয়েছে খুবই কম সংখ্যক মানুষের জন্ম হওয়া ও ঐতিহ্য মেনে চলে আসা পরিবার সংক্রান্ত মূল্যবোধের ধ্বংস হওয়াতে, যা সমগ্র মানবেতিহাসের পরিসর জুড়েই কাজ করেছিল ও প্রজন্ম গুলিকে বারবার নতুন করতে সাহায্য করেছিল. বর্তমানে এটা প্রয়োজনীয় মাত্রায় হচ্ছে না, কারণ সারা বিশ্ব জুড়েই সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে স্রেফ ৩৯টি রাষ্ট্রের মাধ্যমে, যা রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশে. যদি আমেরিকা ও ইউরোপের দিকে তাকানো হয়, তবে আমরা দেখতে পাবো খুবই আশঙ্কা জনক পরিস্থিতি. গত ৪০ বছরে মানুষের সংখ্যা দুই ভাগ কমে গিয়েছে. আর প্রসঙ্গতঃ তথ্য হিসাবে জানা রয়েছে যে, ২০২৮ – ২০৩০ সাল থেকেই চিনের জনসংখ্যা কমতে থাকবে”.

বহু সহস্র বছর ধরেই জন্মের হার খুব বেশী হওয়ার দরকার ছিল, কারণ তা না হলে প্রকৃতির বিপদ মানব সমাজ পার হতে পারত না. বহু লোকই মারা গিয়েছেন অসুখ থেকে, আর স্রেফ বাজে খাবার খেয়ে. একটা নির্দিষ্ট সময়ে নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আমেরিকা ও ইউরোপে মৃত্যুর হার কমে গিয়েছিল. জনসংখ্যা প্রথমে দ্রুত বৃদ্ধি হতে শুরু করেছিল, পরে জন্মের হার দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করেছিল. এই রকমের একটা চিত্র সারা বিশ্বেই ঘটতে পারে. যেমন, এমনকি ঐতিহ্য মেনেই যে সমস্ত দেশে জন্মের হার ছিল খুব বেশী, সেখানেও তা বিগত দশক গুলিতে কমতে শুরু করেছে.

অর্থাত্ বহু বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করেন যে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার মতো কিছু নেই. বরং উল্টো হওয়াটাকেই ভয় করার দরকার রয়েছে. যদি বিশ্বের জন্মের হার আগামী দশকে ইউরোপের গড় সূচকে এসে দাঁড়ায় – এটা প্রতি মহিলার থেকে দেড়টি বাচ্চা, - তবে আমরা এক অবসর প্রাপ্ত লোকদের গ্রহে পরিণত হয়ে যাবো. আর তিনশ বছর পরে এই ক্ষেত্রে বিশ্বের জনসংখ্যা বোধহয় আর একশ কোটিও থাকবে না.