মহাজাগতিক দেহগুলিতে খনিজ পদার্থ নিষ্কাশন বাস্তবে সম্ভবপর হতে পারে. সম্প্রতি জানা গেছে, যে এই উদ্দেশ্যে আমেরিকায় কোম্পানি খোলা হয়েছে. মহাজাগতিক দেহগুলি থেকে নিষ্কাশন করা খনিজ পদার্থ পৃথিবীতে নিয়ে আসা হবে শোধনের জন্য.

বিজ্ঞানীদের দৃঢ় বিশ্বাস, যে উল্কা থেকে খনিজ পদার্থ নিকাশ করা খুবই ফলপ্রসূ হবে. ইতিমধ্যেই সে সব জায়গায় মহাকাশ যান উড়ে যাচ্ছে এবং কয়েক মিলিগ্রাম পদার্থও আনা হয়েছে. তবে উল্কা থেকে খনিজ পদার্থ নিষ্কাশন করে পৃথিবীতে বয়ে আনার খরচে পোষাবে কিনা, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না. বিশেষতঃ যে পদ্ধতি প্রস্তাব করছে আমেরিকানরা. তাই স্টের্নবার্গ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানকর্মী ভাদিম সুরদিন বলছেন –

যদি বড়মাপের উত্পাদনের কথা বলতে হয়, প্রকল্পের সফল হওয়ার কথা বলতে হয়, তাহলে আদৌ বোঝা যাচ্ছে না, যে এর পরিণতি কি হবে. আমরা উল্কা কোন সব পদার্থ দিয়ে তৈরী, তা জানি না. সেখানকার ভূমিপৃষ্ঠে নিরীক্ষা করা আবশ্যক. এই খাতে কত খরচা হবে – তা কেউ বলতে পারে না. এমনকি পৃথিবীর নিকটবর্তী কক্ষপথগুলিতে যে কোনো পদার্থ বয়ে আনার খরচ কিলোগ্রাম পিছু ১২-১৫ হাজার ডলার. পৃথিবীতে বয়ে আনার খরচা তার চেয়ে ৫-১০ গুন বেশি.

সুরদিনের মতে, আজকের দিনে নিষ্কাশন ও পৃথিবীতে বয়ে আনা নয়, ঐসব পদার্থকে মহাজাগতিক পরিবেশেই ব্যবহার করার বিষয়ে ভাবা যেতে পারে. –

মহাকাশে প্রচুর জ্বালানী শক্তি, বিশেষ করে সৌরশক্তি, যা বহুদিন ধরেই মহাজাগতিক যন্ত্রপাতি চালানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে. পৃথিবীতে বয়ে আনা যেতে পারে শুধু খুব দামী পদার্থ. যেমন, হিলিয়াম-৩ আইসোটোপ, যা মেলার আশা করা হচ্ছে চাঁদের মাটিতে. ঐ পদার্থ পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র চালানোর কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে. কিন্তু মহাজাগতিক কোনো দেহে এখনো ঐ পদার্থের দেখা মেলেনি.

সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হল – কিভাবে নিষ্কাশন করা হবে? উল্কাকে সুবিধাজনক জায়গায় টেনে আনা যেতে পারে. মহাকাশ যান মহাজাগতিক দেহে এঁটে গিয়ে নিজস্ব ভর দিয়ে উল্কার গতির অভিমুখ বদলে দিতে সক্ষম. অন্য উপায়ও আছে – উল্কার দুই পিঠ সাদা ও কালো রঙে লেপে দেওয়া. তাহলে তার কক্ষপথ ও আবর্তনের চরিত্রই বদলে যাবে. কিন্তু সবচেয়ে উপযোগী হবে বোধহয়, যদি উল্কাতেই কারখানা বানানো হয়.

বিজ্ঞানীরা বলেন, যে নিষ্কাশনের জন্য সবচেয়ে আকর্ষক ‘এম’ শ্রেণীর উল্কাগুলি. ওখানে লোহা ও নিকেলের এ্যালয় মজুত আছে. ‘এস’ শ্রেণীর উল্কাগুলিতে, যাদের সংখ্যা অনেক কম, সেখানে থাকতে পারে লোহা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ, প্ল্যাটিনাম ও সোনার স্তর.