আধুনিক বিশ্বে, যেখানে মনে হতেই পারে যে, মানুষ প্রকৃতির নানা রহস্যের মধ্যেই ঢুকে পড়তে পেরেছে, যেখানে প্রায় সমস্ত রকমের অসুখের ওষুধ তৈরী করা সম্ভব হয়েছে, সেখানে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর রোগ, যা আজও চিকিত্সা বিজ্ঞানের প্রায় আওতারই বাইরে. এটা – ক্যানসার বা কর্কট রোগ. ৪ঠা ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ক্যানসার জনিত রোগের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বাত্সরিক দিবস পালন করছে.

গত দশক গুলিতে মানবসমাজ এক বিশাল উচ্চতা অতিক্রম করেছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে. অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ফলে এখন মানুষকে সহজেই এক সময়ের মারণ রোগের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে. ভ্যাকসিন প্রয়োগে বসন্ত ও পোলিও রোগ প্রায় নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে. কিন্তু এক গুচ্ছ বিপদ অতিক্রম করার পরে মানব সমাজ আরও একটি বিপদের সামনে পড়েছে, এই কথা উল্লেখ করে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক আন্দ্রেই গুদকভ বলেছেন:

“বিশ্বে ক্যানসার জনিত রোগের বৃদ্ধি হয়েছে চিকিত্সা ও ওষধি সংক্রান্ত বিজ্ঞানের অন্যান্য অংশে সাফল্যের বাড়তি ফল হিসাবে. ক্যানসার এখন মোটেও আগের থেকে বেশী করে দেখা দিচ্ছে না. কারণ হয়েছে যে, আমরা সংক্রামক রোগ গুলিকে জয় করে ও রক্ত চলাচল এবং হৃদরোগ বিষয়ে বিশাল উচ্চতা অতিক্রম করার পরে সেই বয়স অবধি বেঁচে থাকা শুরু করেছি, যখন মানুষের শরীর ক্যানসার রোগের জন্য বেশী করেই দুর্বল হয়ে পড়ছে”.

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে, ভবিষ্যতে আধুনিক বিজ্ঞান ক্যানসার নিরাময়ের জন্যও ওষুধ আবিষ্কার করতে পারবে. এরই সঙ্গে আন্দ্রেই গুদকভ মনে করেন যে, চিকিত্সা বিজ্ঞান ক্যানসারের উপরে বাধা দেওয়ার মতো আঘাত হানতে সক্ষম হবে ও তা বাড়তে দেবে না, তাই তিনি বলেছেন:

“প্রধান সাফল্য আসবে ক্যানসার রোগ শুরু হওয়া বন্ধ করা ও তার প্রসার বন্ধ করার বিষয়ে. যখন নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ ব্যবহার করার ফলে এই রকম হবে যে, ক্যানসার রোগ শুরু হওয়া অনেক কমে যাবে. এর জন্য সমস্ত রকমের ভিত্তিই রয়েছে”.

আধুনিক চিকিত্সা শাস্ত্র শুধু ভবিষ্যতের দিকেই তাকিয়ে নেই, বরং ক্যানসার রোগের সঙ্গে প্রত্যেকদিন লড়াই করার সমস্যারও সমাধান করছে. আজ ক্যানসার চিকিত্সকদের হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি উপায়. প্রত্যেক বছরের সঙ্গেই এই ধরনের উপায় আরও ভাল হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের বিভাগীয় প্রধান ভ্লাদিমির লেভশিন বলেছেন:

“তিন ধরনের চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে: শল্যবিদ্যা, রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ ও তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ. সেই গুলি এখন আরও উন্নতি করছে, বিশেষ করে এখন উন্নতি করছে ওষুধ প্রয়োগ করে চিকিত্সা বিষয়ে. ওষুধ আরও বেশী করেই ফলপ্রসূ হচ্ছে. আগে ব্যবহৃত সমস্ত রাসায়নিক পদার্থই দেহের সুস্থ কোষ ও পেশীর উপরে খুব প্রভাব ফেলত. আধুনিক ওষুধ আরও বেশী করেই হয়ে যাচ্ছে স্থান বিশিষ্ট ভাবে কাজ করার উপযুক্ত, শুধু ক্যানসারের কোষ আক্রমণ করে থাকে একেবারেই আণবিক ও জিন স্তরে”.

আপাততঃ শেষ যুদ্ধে বিজয় অনেক দূরে. তাই ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন রোগের প্রতিকার সম্বন্ধে নজর বেশী করে দিতে: সব রকমের মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার ও সক্রিয় ও সুস্থ ভাবে জীবন কাটানোর.