আন্তর্জাতিক বিমান- মহাকাশ প্রদর্শনী “আয়েরো ইন্ডিয়া – ২০১৩”, ৬ থেকে ১০ই ফেব্রুয়ারী ভারতের বাঙ্গালোর শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে. এই প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের অংশগ্রহণ আশা করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ইতালি, জার্মানী ও ফ্রান্স. রাশিয়া – এই প্রদর্শনীর স্থায়ী অংশগ্রহণকারী দেশ. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

রাশিয়ার তরফ থেকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় রুশ প্রযুক্তি (“রসিস্কিয়ে টেখনলগি”) কর্পোরেশন. এখানে সাড়ে আটশো স্কোয়ার মিটার জায়গায় রাশিয়ার প্রযুক্তি দেখানো হতে চলেছে. প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে রাশিয়ার ৩৭টি সংস্থা, যারা বিমান ও অস্ত্র প্রযুক্তি নির্মাণে রত.

ভারত রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি ঐতিহ্য মেনেই কিনে থাকে. তার মধ্যে বিমান শিল্প অনেকটাই জুড়ে রয়েছে. তাছাড়া ভারত রাশিয়ার সামরিক ও অসামরিক বিমান নির্মাণ শিল্পেও এক গুরুত্বপূর্ণ সহকর্মী দেশ. এই ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারত আরও বেশী করেই স্রেফ কেনা বেচার সম্পর্ক ছেড়ে যৌথ ভাবে বিমান প্রযুক্তি আবিষ্কার ও নির্মাণের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে. সেই রকমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, যা বর্তমানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তা হল সেই সহযোগিতা, যার ফলে ভারতে রাশিয়ার লাইসেন্সে তৈরী হচ্ছে ১৪০টি সু- ৩০ এমকাই বহুমুখী যুদ্ধ বিমান. তাছাড়া, আমাদের দুই দেশ খুবই ঘনিষ্ঠভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান “পাক – ফা” তৈরী করছে. পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান – সামরিক বিমান নির্মাণের নতুন উন্নতির স্তর. ভারতের এই ধরনের “পাক – ফা” বিমান নাম দেওয়া হয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বা “এফজিএফএ” নামে. তাতে একই সঙ্গে আঘাত হানা, বোমা বর্ষণ ও সরাসরি যুদ্ধ করার ক্ষমতা সম্পন্ন এমন এক বিমান বানানো হচ্ছে যা যে কোন ধরনের আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে ও দিনের বা রাতের যে কোন সময়ে একই ভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে.

পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরী নিয়ে যৌথ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, রাশিয়া ও ভারতের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ বলেছেন:

“এই যৌথ প্রকল্পে রাশিয়া ও ভারতের বিমান বাহিনী একত্রে যুক্ত হবে, রাশিয়া ভারতের সামরিক নির্মাণ শিল্পও আগামী বছর তিরিশের জন্য একজোট হবে. আমি মনে করি যে, ব্রামোস রকেট নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে, তা হবে এক ধরনের সামরিক – প্রযুক্তি নির্মাণ ক্ষেত্রে সেতুর মতো, যা ভবিষ্যতে আমাদের ভারতীয়দের সাথে এক সঙ্গে বহু প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সহায়তা করবে”.

এখানে আলাদা করে আবার দেখা হচ্ছে বহুমুখী মাঝারি পাল্লার পরিবহন বিমান নির্মাণের কথাও. সেটিও খুবই প্রসারিত ভাবে বেসরকারি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থায় ব্যবহার করা যাবে.

ভারতে খুবই ভাল করে চেনা হয়েছে রাশিয়ার হেলিকপ্টার নির্মাণ শিল্পও. তার বহু উদাহরণ এখানেও এই “আয়েরো- ইন্ডিয়া – ২০১৩” প্রদর্শনীতে দেখানো হবে. যেমন ভারতে বহু দিন ধরেই মিল ও কামভ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দেশের অসামরিক ক্ষেত্রেও. এই প্রদর্শনীতে দেখানো হবে এশিয়া বাজারের জন্য নতুন মডেলের কা – ২২৬টি, মি-১৭এ২ ও মি- ২৮এনইয়ে হেলিকপ্টার, যেগুলি কোন সন্দেহ নেই যে, এখানে আসা অতিথি অভ্যাগতদের বিশেষ আগ্রহের কারণ হবে. তারই সঙ্গে থাকছে কা – ২৭ ও জাহাজের উপরে ওঠানামায় সক্ষম কা – ৫২ হেলিকপ্টার. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যদি বিচার করা হয় যে, ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে ব্যবহার করে গত শতকের আশির দশকে তৈরী হওয়া হেলিকপ্টার.

এই প্রদর্শনীতে আসা লোকরা একই সঙ্গে সেই সব তথ্য ও দৃষ্টান্ত জানতে পারবেন, যা রাশিয়াতে তৈরী বিমান ও অন্যান্য প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা বিভিন্ন কারণে ব্যবহারের ইঞ্জিন, অস্ত্র, বিমানে দিক ও প্রতিপক্ষ নির্দেশ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিন ও অপটিক্স ব্যবস্থার লক্ষ্য নির্ণয়ের যন্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে. এই বিষয়ে “জাতীয় প্রতিরক্ষা” জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“আগামী প্রদর্শনী – রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য তাঁদের ভারতীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আগামী সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে বিশদ আলোচনার জন্য ভাল সুযোগ হতে পারে ও বর্তমানে চালু বিভিন্ন সমঝোতা ও চুক্তি গুলি নিয়েও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে”.

0“আয়েরো- ইন্ডিয়া ২০১৩” প্রদর্শনীতে যাওয়া মনে হয় শুধু বিশেষজ্ঞদের জন্যই আগ্রহের বিষয় হবে না, বরং হবে জনগনের জন্যও. এই অনুষ্ঠানের একটি প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে রাশিয়ার রুস্সকিয়ে ভিতিয়াজী নামের যুদ্ধ বিমানের পাইলটদের উড়ানের প্রদর্শনী. এই প্রদর্শনীর সবকটি দিনেই তাঁরা এখানে ভারতের আকাশে নিজেদের সর্ব্বোচ্চ মানের বিমান উড়ানের নৈপুণ্য প্রদর্শন করবেন.